ইলিশা নদীর কবলে মেহেন্দিগঞ্জের শুকনাকাঠির শতাধিক পরিবার

DTV Desk / ১২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১
নদী ভাঙ্গন কী

মো: ইমন খন্দকার হৃদয় ॥ পৈত্রিক ভিটা হারিয় নৌকাই যাদের ভরসা। নদীর এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ভাসছেন নদীর পাড়ের মানুষগুলো। সম্পত্তি হারিয়ে আবার কেউ কেউ অন্যের জমির উপর রাতযাপন করে দিন কাটাচ্ছেন নদীর তীরের মানুষগুলো। যদিও এটা নিয়তির খেলা। তবে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ্য করছেন নদী ভাঙ্গনরোধে। কতোটুকুই বা বাস্তাবায়ন হচ্ছে সেই প্রকল্পগুলোর কাজগুলো! এমন হাজারো প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। কারন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম ইলিশা নদী সহ মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে একরের পর একর সম্পত্তি। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ইলিশা নদীর (মেঘনা নদীর শাখা নদী) ভাঙনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে গ্রাম।
ঐতিহ্যবাহী চানপুর ইউনিয়নের শুকনাকাঠি গ্রাম বিলিন হওয়ার পথে। কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিনেও কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ইলিশা নদীর স্রোত কয়েক বছর ধরেই শুকনাকাঠি গ্রামসহ আশেপাশে আরো কয়েকটি গ্রামে আঘাত হেনে পুরো গ্রামই এখন বিলিনের পথে। প্রতিবছর গ্রামের অনেক জমি ও ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে। তাই গ্রামের মানুষ সাধ্যমতো তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ লোকই গরিব (দিন আনে দিন খায়) হওয়ায় তাদের বিকল্প জমি ও আর্থিক ব্যবস্থা নেই।তাই তারা ঘরবাড়ি ভাঙার ভয় নিয়ে আকড়ে পড়ে রয়েছেন।
এই গ্রামের ৮০ ভাগ সাধারন মানুষই কৃষি কাজে’র সাথে জড়িত।কৃষি জমি নদীতে বিলিন হওয়ায় কৃষকরা খুব কষ্টে জীবনযাপন করছে। গ্রামটিতে শত বছরের পুরনো একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (শুকনাকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), শত বছরের পুরনো একটা মসজিদ (শুকনাকাঠি জামে মসজিদ) ও ঐতিহ্যবাহী একটা বাজার (ফজরগঞ্জ নতুন বাজার) রয়েছে। ইতোমধ্যে বাজারটির অর্ধেক নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
মসজিদটি গত বছর পুনরায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল। স্কুলটিতেও গতবছর নতুন একটা ভবন স্থাপন করা হয়েছিল। যেটি এখন প্রবল ভাঙ্গনের সম্মুক্ষে। এই গ্রামের সাধারন মানুষদের প্রয়োজনীয় বেশিভাগ চাহিদা, যেমন স্কুল, বাজার, মসজিদ, পাঠাগার সহ অনন্য প্রয়োজনীয় নানা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনে কবলিত। গ্রামের বেশিভাগ রাস্তা নদীর সাথে হওয়ায় যা ভেঙ্গে গেছে, যার জন্য চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
সামান্য বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় বেশিভাগ এলাকা। বর্ষাকালে এই সমস্যা আরো বেশি দেখা দেয়, প্লাবিত সমস্যা ছাড়াও নদীভাঙ্গন এলাকার মানুষদের কে দূরাহ করে তুলছে।মেহেন্দিগঞ্জের চানপুরে ইউনিয়নে’ র শুকনাকাঠি গ্রামের ৮৫ ভাগ সাধারন মানুষ – অসহায় ও গরীব হওয়াতে তারা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় জীবন যাপন করছে।যেহেতু তাদের ঘরবাড়ি নদীর কবলে চলে যাচ্ছে, তাই বসতি স্থাপন কোথায় করবে? তা নিয়ে বেশ চিহ্নিত ওই এলাকার মানুষ।
তাদের বেশিভাগ জমি নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে।এমতঅবস্থায় যদি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না যায়। তাহলে মাত্র ১ বছরের কম সময়ে নদীর গহব্বরে বিলীন হয়ে যাবে শুকনাকাঠি গ্রাম। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে, বরিশাল -৪ আসনের সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ, তিনি এ বিষয়ে সময়ের বার্তার সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি অন্য অধিদপ্তর এর কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে বলে ফোন কেটেদেন।
মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহাদাত হোসেন মাসুদ, সময়ের বার্তাকে বলেন, ” মেহেন্দিগঞ্জের বেশিরভাগ এলাকায় ভাঙ্গনের মুখে। শুকনাকাঠি গ্রাম সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন না।যেহেতু এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজনীয় দায়িত্ব। সেই সম্পর্কে যদি এলাকাবাসী লিখিতভাবে কোন আবেদন যদি উপজেলা প্রশাসনকে জানায়, তাহলে উপজেলা প্রশাসন, বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে
পানি উন্নায়ন বোর্ড কে অবহিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে সংসদ সদস্য তিনি অবহিত তাই তার পরিক্রমায় পুরো মেহেন্দিগঞ্জ উন্নায়ন মুলক কাজ হয়, সংসদ সদস্য র আওতায় যেহেতু এই উপজেলা তাই তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন বলে আশাবাদী”।
এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে চানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বাহাউদ্দীন ঢালী, সময়ের বার্তা কে বলেন,” এই বিষয়টি সম্পূর্ণ সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ এর আওতায় । তার মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব,সহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ, মেহেন্দিগঞ্জ এর ঝুঁকিপূর্ণ নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা সহ এই গ্রাম পরিদর্শন করেন। এ নিয়ে নানান ধরনের মিটিং হয় এবং এলাকাবাসী সহ ইউনিয়ন পরিষদ যথাসম্ভব চেষ্টা করেন তবুও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? সে বিষয়ে এমপি মহোদয় ভালো জানেন ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর”। এমনটাই দাবী এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের। স্থানীয়রা বলছেন,পানি উন্নায়ন বোর্ড এর গাফিলতি আছে যেমন, ঠিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও গাফিলতি আছে। সকল সমস্যা মওকুপ করে শুকনাকাঠি গ্রাম সহ মেহেন্দিগঞ্জ এর নানা এলাকার সাধারন মানুষ নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে এতটুকুই কামনা করছেন স্থানীয়রা।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন।


এই বিভাগের আরো সংবাদ