কারাগারে পাঠানো হলো ডা. শাহাদাত হোসেনকে

দুর্বা ডেস্ক :: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। কোতোয়ালি থানা ও ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে দুই মামলা এবং বিএনপি নেত্রী লুসি খানের দায়ের করা এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে শাহাদাতকে।

মঙ্গলবারে তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহানের আদালতে বিকেল ৫টার দিকে হাজির করা হয়। তাকে তিন মামলায় আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ডা. শাহাদাত হোসেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বদরুল আনোয়ার জানান, তিন মামলায় ডা. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিন মামলায় আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আগামী বুধবার মামলার শুনানির দিন ঠিক করেছেন।

গেল সোমবার নগরীর কাজীর দেউড়িতে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে আদালতে তোলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদেরও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এ বিষয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জাহিদুল আলম জানান, আদালত ১৫ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আগামীকাল বুধবার তাদের রিমান্ড শুনানি হবে।

এদিকে ডা. শাহাদাতসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও ‘বিএনপির মিছিলে হামলা চালিয়ে’ আহত করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, বেগম রোজী কবির, এস এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন।

এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ডা. শাহাদাত হোসেন একজন পরিছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সর্বস্তরে পরিচিত। তিনি একজন পেশাজীবী চিকিৎসক ও মানবতার ফেরিওয়ালা। যিনি বিগত চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করে জনতার মেয়র হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। যিনি মানুষকে বিনা টাকায় চিকিৎসা করেন, সাহায্য করেন। এমন একজন নেতাকে বিনাকারনে তার চেম্বার থেকে রোগী দেখার সময় পুলিশ গ্রেপ্তার করেন।

‘ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা হাস্যকর, বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি ষড়যন্ত্রের স্বীকার। চট্টগ্রামে সরকার বিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নেতৃবৃন্দরা আরও বলেন, বর্তমান সরকার তার পুলিশ বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিনা উস্কানিতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে নেতাকর্মীদের মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ ও আহত করছে। তারা বিএনপি নেতকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তার করে ক্ষমতার মসনদকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছে।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, বর্তমানে সরকারের প্রতি জনগণের কোনো আস্থাই নেই। তাই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা বিএনপির ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। প্রশাসন যন্ত্রকে তাদের অবৈধ ক্ষমতায় ঠিকে থাকার খুটি হিসাবে ব্যবহার করছে। আমরা এই গ্রেপ্তার ও হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ডা. শাহাদাত হোসেন ও নগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনিসহ গ্রেপ্তারকৃত সকল নেতৃবৃন্দের শর্তহীন মুক্তির দাবি জানান।

এগুলো দেখুন

এহসান গ্রুপের প্রতারকরা ধর্মব্যবসায়ী মোমিন মেহেদী

এহসান গ্রুপের প্রতারকরা ধর্মব্যবসায়ী : মোমিন মেহেদী

স্টাফ রিপোর্টার :: নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, ইভ্যালী-নগদের প্রতারকরা যেমন স্বাধীনতার চেতনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.