খালেদার জন্ম তারিখ নিয়ে দুই দলের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য

বিশেষ প্রতিনিধি :: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কোভিড টেস্টের একটি রিপোর্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এটা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছে, একাধিক জন্মদিনের নামে জাতিকে এতোদিন খালেদা জিয়া অন্ধকারে নিমজ্জিত করে রেখেছিলো। অবশেষে কোভিড পরীক্ষার প্রতিবেদনে খালেদা জিয়ার আসল জন্মদিন জানা গেল।

বেগম জিয়ার জন্মদিন নিয়ে আওয়ামী লীগের এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়ার যে রিপোর্টটি (৮ মে ১৯৪৬ সাল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটা মূলত ভুয়া।

খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ নিয়ে আজ (সোমবার ১০ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, একাধিক জন্মদিনের নামে জাতিকে এতোদিন বেগম খালেদা জিয়া অন্ধকারে নিমজ্জিত করে রেখেছিলো। অবশেষে কোভিড-১৯ পরীক্ষার প্রতিবেদনে খালেদা জিয়ার আসল জন্মদিন জানা গেল। এই প্রতিবেদন অনুসারে প্রকৃত অর্থে তার জন্মদিন ৮ মে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় শোক দিবসে বেগম খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন করা বঙ্গব্ন্ধুর হত্যাকারীদের উৎসাহিত করা এবং নির্মম হত্যাকাণ্ডকে উপহাস করারই শামিল বলে জনগণ মনে করে। বিএনপির নেত্রী কি পারতেন না শোকাবহ ১৫ আগস্টে ভুয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠান না করতে?

আর বেগম জিয়ার ম্যাট্রিকুলেশন সনদ অনুযায়ী জন্ম ৯ আগস্ট ১৯৪৫, বিবাহ সনদ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫, পাসপোর্ট সনদ ১৯ আগস্ট ১৯৪৫। আবার দাবি করেন ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ তার জন্মদিন। একজন মানুষের এতগুলো জন্মদিন থাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য বেগম জিয়া নিজেই উন্মোচন করেছেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া রিপোর্টে খালেদা জিয়া জন্মদিন ৮ মে ১৯৪৬ সাল বলা করা হচ্ছে। তবে এই টেস্ট রিপোর্টটিকে ভুয়া বলে দাবি করেছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানান, খালেদা জিয়ার করোনা টেস্টের প্রতিবেদনের জন্ম তারিখ, বয়স এবং রিপোর্ট নম্বর পরিবর্তন করে নকল করোনা টেস্টের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, খালেদা জিয়ার যে রিপোর্টটি (৮ মে ১৯৪৬ সাল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটা মূলত ভুয়া। এটা কে বা কারা ছড়িয়েছে তা বলতে পারবো না। আর ১৫ আগস্ট যেটা, সেটা সঠিক।

বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খালেদা জিয়ার কোভিড-১৯ রিপোর্টটিতে জন্ম তারিখ লেখা রয়েছে ১৫ আগস্ট ১৯৪৬।

আর যে রিপোর্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, সেখানে জন্ম তারিখ দেখা যাচ্ছে ৮ মে ১৯৪৬। এছাড়া ল্যাব এইড থেকে পাওয়া রিপোর্টের নম্বর ১২১০৫৯৫৮৫৩৫। আর যে রিপোর্টটি অনলাইনে ছড়ানো হয়েছে সেটির রিপোর্ট নম্বর হচ্ছে ১২১০৫৯৫৮৩৫৮। তবে ইনভয়েস নম্বর ও বারকোড একই।

 

 

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুণ।

এগুলো দেখুন

এহসান গ্রুপের প্রতারকরা ধর্মব্যবসায়ী মোমিন মেহেদী

এহসান গ্রুপের প্রতারকরা ধর্মব্যবসায়ী : মোমিন মেহেদী

স্টাফ রিপোর্টার :: নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, ইভ্যালী-নগদের প্রতারকরা যেমন স্বাধীনতার চেতনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.