গাছের সমস্ত অংশ উপকারী> পটুয়াখালী প্রতিনিধি।। আমাদের দেশে শহর কিংবা গ্রামের কিছু কিছু জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় এক ধরনের গাছ যার সারা শরীরজুড়ে বিশেষ করে গোড়া থেকে শাখা প্রশাখায় এক ধরনের কামরাঙ্গা গোত্রের ফল। সবুজ বর্ণের লম্বাকার এই ফলগুলো । তবে তুলনামূলকভাবে তার উপকারিতা এবং অপকারিতা দু’টোই রয়েছে।
বন্যপ্রাণীদের প্রিয় খাবার এটি। কেউ কেউ এ ফলকে ‘বিলিম্বি’ নামেও উল্লেখ করে থাকেন। বিলিম্বি অক্সিডেসি গোত্রের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। বিলিম্বি কামরাঙ্গা গোত্রের ফল।
- আরো পড়ুন: অতিরিক্ত ভিটামিন ডি যে ৩ রোগ হতে পারে!
- আরো পড়ুন: জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
- আরো পড়ুন: শসা হার্টের উপকারী?
এটি কামরাঙ্গার নিকট আত্মীয়। এর স্বাদও অনেকটা কামরাঙ্গার মতোই। শুধু স্বাদই নয় প্রজাতি, বিন্যাস, পরিবার, গুণ সবকিছুতেই কামরাঙ্গার নিকটাত্মীয় এই ফলটি।
বাংলা নাম : বিলিম্বি। ইংরেজি নাম : বিলিম্বি। বৈজ্ঞানিক নাম : এভারোয়া বিলিম্বি। অন্যান্য নাম : বিলিম্বি, বিলিম্বি বিলিম্বির গাছ নামেও পরিচিত।
বিলিম্বি দেখতে অনেকটা পটলের মতো, তবে আরো ছোট। ফল ৩-৬ সে.মি. পর্যন্ত বড় হয় এবং রং উজ্জ্বল, হালকা সবুজ। বিলিম্বি গাছে প্রচুর ফল আসে এবং ধরে খুবই অদ্ভুতভাবে। গাছের ডালে তো বটেই, কান্ড ঘিরেও ফল ধরে। গাছ খুব বেশি বড় হয় না, ৫-১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। পাতাগুলো কামরাঙ্গার মতোই।
নিয়মিত পাতা ছেটে ও ডালপালা পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে সারা বছরই এ গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়। গাছে বেশি ফুল ফোটে ফেব্রুয়ারিতে এবং মোটামুটি সারা বছরই ফল পাওয়া যায়। শীতকালে বিলিম্বি গাছের পাতা ঝরে পড়ে তবে বসন্তের আগমণে আবার নতুন কুঁড়ি ও পাতা গজাতে থাকে। একটি পূর্ণ গাছে বছরে প্রায় ৩০০ কেজি বিলিম্বির ফলন হয়।
এর উৎপত্তি সম্ভবতঃ ইন্দোনেশিয়ার মলুক্কাসে, তবে অনেক উদ্ভিদবিজ্ঞানীর মতে, বিলিম্বির উত্পত্তি ব্রাজিলে এবং পরে তা দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এটি মূলতঃ উষ্ণ আবহাওয়ার উদ্ভিদ। ভারতের উষ্ণ আবহাওয়ায় বিলিম্বি খুব ভালো জন্মে।
বিশেষ করে কেরালা, মহারাষ্ট্র, তামিল নাড়ু এবং গোয়ায় বিলিম্বি খুবই জনপ্রিয়। এই গাছটি ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মায়ানমার প্রভৃতি দেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই চাষ করা হয় অথবা আধ-বুনো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়, এশিয়ায় সর্বোপ্রথম বিলিম্বির সন্ধান পাওয়া যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানা সদর প্রাচীন শাহ্শাহের বাড়ি অঞ্চলে ।
বাংলাদেশ, বিলিম্বি কাঁচা খাওয়া হয়। বিলিম্বি কামরাঙ্গার মতোই ঝাল-লবণ দিয়ে খেতে ভালো লাগে। ছোট মাছ, ডাল বা মাংশতেও বিলিম্বি ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া বিলিম্বি কামরাঙ্গার মতোই ঝাল লবণ দিয়ে খেতে ভালো লাগে।
ফলের স্বাদ টক, পাকা বিলিম্বি দিয়ে আচার বা চাটনি তৈরি করা হয়। বিলিম্বি দিয়ে তৈরি চাটনি ও আচার খুবই মজাদার। এ ফলটি কাঁচা অবস্থায় খুব টক হলেও রান্নার পর বা চাটনি কিংবা আচার তৈরি করার পর টক থাকে না। বিলিম্বি গাছ সেখানে সাধারণভাবে বাড়ির পিছনে অথবা উঠোনে পাওয়া যায়।
- আরো পড়ুন: কুমড়ার বীজে যেসব রোগ সারবে
- আরো পড়ুন: টমেটো কমাবে পাকস্থলী ক্যানসারের ঝুঁকি
- আরো পড়ুন: এক পাতায় ৯ সমস্যার সমাধান!
ফিলিপাইননে বিলিম্বির পাতা চুলকানি, ফোলা, বাত, মাম্পস বা চামড়া ফাটার জন্য পেস্ট হিসাবে ব্যবহার করা হয়। অন্যত্র বিলিম্বির পাতা বিষধর প্রাণীর কামড় থেকে নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করে।
যখন ফুল আধান জন্য গায়ক পক্ষী, ঠাণ্ডা, এবং কাশি ব্যবহার করা হয় পাতার আধান, একটি পরে জন্ম টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মালয়েশিয়াতে, তাজা বিলিম্বির পাতা যৌনরোগ রোগের চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত হয়। ভারতের তিরুবনন্তপুরম জেলার কিছু গ্রামে সালে বিলিম্বি ফল স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের জন্য লোক ঔষধ ব্যবহার করা হতো।
বিলিম্বি oxalate উচ্চ মাত্রা ধারণ করে। উচ্চ কলেস্টেরল চিকিত্সার জন্য কয়েক জন ক্রমাগত বিলিম্বি রস পান করেছেন; তারা বিলিম্বির oxalate কারণে তীব্র কিডনির সমস্যায় পড়েন। ইন্দোনেশিয়াতে, তার লাল ফুল ঐতিহ্যগত টেক্সটাইল জন্য প্রাকৃতিক লাল ছোপানো এর একটি অঙ্গ হিসাবে চাওয়া হয়।
যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন। এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।
Durba TV academic Website