টাকা আত্মসাত করতে ছাত্রদল নেতা নুরুল্লাহ মুমেনের নাটক! অত:পর পুলিশের খাচাঁয়

DTV Desk / ৪৩৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১
নুরুল্লাহ মোমেন

নগদের টাকা আত্মসাত করতে ছাত্রদল নেতা নুরুল্লাহ মুমেনের নাটক! অত:পর পুলিশের খাচাঁয় গ্রেফতার। বরিশাল সরকারী বিএম কলেজের ছাত্রদলের ৬ নং যুগ্ম আহবায়ক তিনি।
কর্মস্থলের টাকা আত্মসাত করতে নানা ফন্দি করে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পায়নি এই ছাত্রদল নেতা।
পুলিশ জানান, টাকা আত্মসাত করতে ধারালো ব্লেড দিয়ে নিজেকে রক্তাক্ত করেও বেরসিক পুলিশের তৎপরতায় শেষ রক্ষা হলো না নুরুল্লা মোমেনের।

বাকেরগঞ্জের নুরুল্লা মুমেন, দেনার দায়ে  জর্জরিত হয়ে কোন উপায়ন্তর না দেখে  প্রায় ৮ মাস পূর্বে  ২০২০ এর নভেম্বরে চাকরি নেন বরিশাল ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল  সার্ভিস নগদ এর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর “জি টু কনসোর্টিয়াম” এর ডিস্ট্রিবিউটর সেলস অফিসার (ডিএসও) হিসেবে ছিলেন মুমেন।
ভেবেছিলেন চাকরি করে পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন কিন্তু চাকরি নেওয়ার পর বেতনের টাকায় নিজের থাকা-খাওয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকে তা দিয়ে  পাওনা পরিশোধ করতে  না পারায় তারমধ্যে তৈরি হয় এক ধরনের হতাশা।
এমতাবস্থায় মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে পরেন ছিনতাইয়ের কবলে। গতকাল তারিখ বরিশাল শহরের বিভিন্ন  মার্কেটে  ঘুরে ঘুরে টাকা কালেকশন করার সময় আনুমানিক রাত ৮ ঘটিকায়  নগরির বৈদ্য পাড়ায় ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে ছিনতাই করে নেয় মার্কেট থেকে সংগৃহীত  নগদ প্রায় ৮ লক্ষ টাকা।
ঈদুল আযহার পূর্বে ৮ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের  সংবাদ খুব স্বাভাবিক ভাবেই অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংবাদ পেয়ে খুব দ্রুত  ঘটনাস্থলে  গিয়ে  প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল ও ক্রাইমসিন পর্যালোচনা, ভিকটিম নুরুল্লাহ মোমেনের  দেওয়া ছিনতাইয়ের ঘটনার বিবরন, ভিকটিমের শরিরের আঘাতের ধরন, ভিকটিম যেই পথে চলাচল করেছে সে সমস্ত পয়েন্টে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক পূর্বে স্থাপিত সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশের কাছে ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক মনে হয়।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে  কোতোয়ালি মডেল থানার একটি চৌকস টিম রাতভর ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের  এক পর্যায়ে রাত নুরুল্লাহ মোমেন স্বীকার করেন যে আসলে তিনি ছিনতাইকারীর কবলে পড়েননি, আর  তার সাথে কোন  ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। মূলত তিনি নিজেই তার ডান হাতের বাহুতে ব্লেড দিয়ে পোচ দিয়ে নিজেকে রক্তাক্ত করে ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়েছেন।
পুলিশ আরো জানান, চাকুরীতে ঢোকার পূর্বেই অভিযুক্ত( কথিত ভিকটিম)  তার এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার করা প্রায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা তিনি চাকরিতে ঢোকার পর মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল  সার্ভিস নগদ এর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর “জি টু কনসোর্টিয়াম” এর মার্কেট থেকে বিভিন্ন সময় ধীরে ধীরে সরিয়ে পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধ করেছেন।
অপরদিকে  মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল  সার্ভিস নগদ এর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর “জি টু কনসোর্টিয়ামে এই ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকার হিসাব বোঝানোর জন্যই  তিনি এই ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন। এই ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ভিকটিম যখন তার অফিসের অপর ডিএসও  হাফিজের মোবাইল ফোন দিয়ে ম্যানেজার সেলিম খানকে ঘটনা জানান, তখন ম্যানেজার সেলিম খান তাকে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকার পরিবর্তে টাকার অংক বাড়িয়ে ৮ লক্ষ টাকা বলতে বলেন।
মুমেনের দেওয়া তথ্যমতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বৈদ্যপাড়া রাস্তার পাশের জঙ্গল থেকে একটি Gillette Wilkinson sword ব্লেড যা দিয়ে সে তার হাতে পোচ দিয়ে নিজেকে রক্তাক্ত করেছে  ও একটি কালো রঙের ব্যাগ উদ্ধার করেন।
মুমেনের গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জর মধ্য নিয়ামতি ( টহরকোলা হাওলাদার বাড়ী) রুহুল আমিন এর ছেলে।

আরো পড়ুন:কি কি শিখলে ওয়েব ডিজাইনার হতে পারবেন?

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন।


এই বিভাগের আরো সংবাদ