তাকওয়া অর্জনের মাস মাহে রমযান (রোযার আদব সমূহ)

তাকওয়া অর্জনের মাস মাহে রমযান (রোযার আদব সমূহ) সম্পর্কে ধারাবাহিক লেখক ফিরোজ মাহমুদ॥ রোযাদারের উচিত, যেন তার জিভও রোযা রাখে। অর্থাৎ সে যেন প্রত্যেক নোংরা কথা থেকে; পরচর্চা বা গীবত থেকে চুগলখোরী বা লাগান-ভাজান থেকে অশ্লীল ও মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকে। দূরে থাকে মূর্খামী ও বেওকুফি করা থেকে। মহানবী (স:) বলেন,“যে ব্যাক্তি রোযা রেখে নোংরা কথা ও তার উপর আমল ত্যাগ করতে পারলোনা সে ব্যাক্তির পানাহার ত্যাগ করার মাঝে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ)

অর্থাৎ তার রোযা কবুল করার ব্যাপারে আল্লাহর কোন ইচ্ছা নেই। আর তার মানে তার রোযা আল্লাহ কবুল করেন না। (ফাতাহুল বারী) রোযাদারের উচিত, অশ্মীলতা, হৈ-হট্টগোল ও গালাগালি করা থেকে বিরত থাকা এবং ভদ্রতা, আদব ও গাম্ভির্য অবলম্বন করা। মহানবী (স:) বলেন, “তোমাদের কারো রোযার দিন হলে সে যেন অশ্মীল না বকে ও ঝগড়া হৈচৈ না করে; আর যদি তাকে কেউ গালাগালি করে, অথবা তার সাথে লড়তে চায়, তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযা রেখেছি, আমার রোযা আছে। (বুখারী, মুসলিম)

প্রিয় নবী (স:) আরো বলেন, “পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম রোযা নয়। আসলে রোযা হল, অসার ও অশ্মীল কথা ও কর্ম থেকে বিরত থাকার নাম। অতএব যদি তোমাকে কেউ গালাগালি করে অথবা তোমার সাথে কেউ মুর্খামি করে, তাহলে তুমি তাকে বল,‘আমি রোযা রেখেছি’ আমার রোযা আছে”। (সহীহুল জামেইস সাগীর)

সুতরাং রোযাদারকে কেউ গালি দিলে তার বিনিময়ে গালিদাতাকে আমি রোযা রেখেছি বলা সুন্নত। আর এ জবাবে রয়েছে দুটি উপকার; একটিতে রয়েছে নিজের জন্য সতর্কতা এবং অপরটিতে রয়েছে তার বিরোধী পক্ষের জন্য সতর্কতা। প্রথম উপকার এই যে, রোযাদার এই জন্যই গালিদাতার গালির বদলা নিয়ে মুকাবালা করতে চায় না, কারণ সে রোযা রেখেছে। এ জন্য নয় যে, সে মুকাবালা করতে অক্ষম। যেহেতু সে যদি অক্ষমতা প্রকাশ করে মুকাবালা ত্যাগ করে, তাহলে বিরোধী পক্ষের কাছে সে তুচ্ছ হয়ে যায় এবং রোযাদার তাতে লাঞ্চিত হয়।

আরো পড়ুন:-তাকওয়া অর্জনের মাস মাহে রমযান (রোযার আদব সমূহ)

আরো পড়ুন: ফজিলতে রমযান

আরো পড়ুন: ফজিলতে রমযান পর্ব:-২

পক্ষান্তরে ঐ ব্যাপারে বিরোধী পক্ষ লাঞ্চিত হয় এবং গালাগালি বা লড়াই করা অভ্যাহত রাখতে আর সাহস পায় না। আর দ্বিতীয় উপকার এই যে, উক্ত জবাবের মাধ্যমে রোযাদার বিরোধী পক্ষকে এই সতর্কতা দান করে যে, রোযা অবস্থায় কাউকে গালাগালি করতে হয় না। সে ক্ষেত্রে গালিদাতাও রোযাদার হতে পারে; বিশেষ করে এই গালাগালি যদি রামাযান মাসে হয়।

আর তাহলে উভয়েই নিষিদ্ধ বিষয়ে লিপ্ত হয়ে যাবে। সুতরাং রোযাদারের ঐ উত্তর তাকে গালি দেওয়া থেকে নিষেধ করার পর্যায়ভুক্ত হবে। পরন্তুগালি দেওয়া হল একটি মন্দ কাজ; যাতে বাধা দেওয়া জরুরী। কোন কোন বর্ননাতে আছে যে, “রোযা রেখে তুমি কাউকে গালাগালি করো না। কিন্তু যদি তোমাকে কেউ গালাগালি করে তাহলে তুমি তাকে বল, ‘আমি রোযা রেখেছি। আর সে সময় যদি তুমি তাকে বল আমি রোযা রেখেছি। আর সে সময় যদি তুমি দাঁড়িয়ে থাক, তাহলে বসে যাও”।

কারণ ক্রোধান্বিত অবস্থায় বসে গেলে ক্রোধ প্রমশিত হয়। (আহমাদ, মুসনাদ) এ ব্যপারে মাসয়ালা হচ্ছে। রোযাদারের জন্য ওয়াজিব তার জিভও যেন রোযা রাখে; অর্থাৎ তাতে যেন (সে গীবত ও চোগলখোরী করে) মৃত ভাইয়ের গোশত না খায় কারণ গীবতকারীকে আল্লাহ মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার অপরাধ বলেছেন।

রোযাদারের জিভ যেন বাজে কথা থেকে, গুজব রটানো থেকে এবং দ্বীনদার মানুষদের সুনাম নষ্ট করা থেকে রোযা রাখে। রোযাদারের জিভ যেন গালাগালি করা থেকে, অপরকে হিট করা থেকে এবং সমাজ বিরোধী অপরাধীদেরকে গোপন রাখা এবং তাদের তরফদারী করা থেকে রোযা রাখে।
আল্লাহর রসূল (স:) বলেন “মানুষকে তাদের নিজ জিহ্বা জাত পাপ ছাড়া অন্য কিছু কি তাদের মুখ অথবা নাক ছেচড়ে দোজখে নিক্ষেপ করবে। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ) আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন-আমীন্
চলবে…..
লেখক:-মাদ্রাসা শিক্ষক ও গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এখানে

এগুলো দেখুন

সালাতুত তাসবিহ পড়ার নিয়ম

ফজরের জামাত চলা অবস্থায় সুন্নত পড়া যাবে?

জেনে নিন ফজরের জামাত চলা অবস্থায় সুন্নত পড়া যাবে? আসুন এ বিষয়ে কোরআনে কি বলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.