থ্রি-হুইলার শ্রমিকদের ওপর বাস মালিকদের নির্যাতন থামছে না

DTV Online / ৯২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১
থ্রি-হুইলার শ্রমিকদের ওপর বাস মালিকদের নির্যাতন থামছে না

স্টাফ রিপোর্টার :: থ্রি-হুইলার শ্রমিকদের ওপর বাস মালিকদের নির্যাতন থামছেই না। মহাসড়কে চেক পোস্টের নামে প্রায়শই তাদের ওপর চালাচ্ছে নির্যাতনের স্টিম রোলার। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকালেও রূপাতলী এলাকায় প্রকাশ্যে এক থ্রি-হুইলার চালককে নির্মমভাবে পিটিয়েছে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির লোকেরা। মুমূর্ষ অবস্থায় মাহেন্দ্র চালক সগির মিয়া (৩৫) নামে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।



নির্যাতনের শিকার মো. সগির বরিশাল নগরীর রূপাতলী কাঠালতলা নামক এলাকায় বসবাস করেন এবং বরগুনার লাল মিয়ার ছেলে। অভিযোগ উঠেছে, ‘রূপাতলী পুলিশ বক্সের একশত গজের মধ্যে মালিক সমিতির চেক পোস্টের নামে থ্রি-হুলার চালককে নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। তাই এই ঘটনায় বাস মালিক সমিতির অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন নির্যাতিত শ্রমিক।

নির্যাতনের শিকার মাহেন্দ্র চালক সগির মিয়া জানিয়েছেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রূপাতলী গোলচত্বর থেকে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে খয়রাবাদ সেতুর শেষ প্রান্তে জিরো পয়েন্টের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এসময় রূপাতলী লিলি পাম্পের সামনে থাকা বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতি’র অবৈধ চেক পোস্টে আমার গাড়ির গতিরোধ করে।

এক পর্যায় গাড়ি থেকে নামিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটা কাঠ দিয়ে এলোপাথারী পেটানো শুরু করে। একপর্যায় মাথায় আঘাত করলে মুহুর্তেই রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে রক্ত বমি করেন ওই মাহেন্দ্র চালক। তাৎক্ষনিকভাবে অন্যান্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সগির মিয়া অভিযোগ করেন, ‘বিভিন্ন পরিবহনে তল্লাশীর কথা বলে রূপাতলী বাস মালিক সমিতি অবৈধভাবে চেক পোস্ট বসিয়েছে। সেখানে পরিবহনে তল্লাশী না করে মাহেন্দ্র চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। ঘটনার দিন একইভাবে মালিক সমিতির পক্ষে বাবু, হারুন এবং সুরুজ সহ কয়েকজন অবৈধভাবে চেক পোস্ট বসিয়ে মাহেন্দ্র চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এমনকি তারাই মাহেন্দ্র শ্রমিক সগিরকে নির্মমভাবে মারধর করে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা থ্রি-হুইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মিলন মোল্লা বলেন, ‘বাস মালিক সমিতির স্বেচ্ছাচারিতা দীর্ঘ দিনের। গরিব শ্রমিকরা মাহেন্দ্র চালিয়ে উপার্জন করে তা দিয়ে সংসার চালাচ্ছে। এটা মালিক সমিতির কতিপয় লোকের সহ্য হচ্ছে না। এজন্যই তারা মাহেন্দ্র শ্রমিকদের ওপর বার বার নির্যাতন করছে।

তিনি বলেন, ‘মালিক সমিতির চেক পোস্ট বসানোর কোন বৈধতা নেই। মাহেন্দ্র মহাসড়কে চলাচলে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেটা দেখার জন্য পুলিশ প্রশাসন আছে। অথচ বাস মালিকরাই প্রশাসনের ভূমিকা নিচ্ছে। তারাই মাহেন্দ্র শ্রমিকদের নির্যাতন করছে। কিন্তু প্রশাসন এর কোন সুষ্ঠু সমাধান দিচ্ছে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ইতোপূর্বে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু এবং খয়রাবাদ সেতুর ঢালে দুদফা অবৈধভাবে চেক পোস্ট বসায় বাস মালিক সমিতি। সেখানেও একাধিকবার মাহেন্দ্র শ্রমিকদের মারধরসহ নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ নিয়ে পূর্বে অনেক আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মালিক সমিতিকে অবৈধ চেক পোস্ট সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে।



কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশনার কর্ণপাত করছে না মালিক সমিতি। বরং তারা এখন রূপাতলী এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে মাহেন্দ্র চলাচলে বাধা এবং শ্রমিক নির্যাতন করছে। গত বৃহস্পতিবার যে ঘটনা ঘটেছে সেটা একেবাইরেই অহেতুকভাবে গায়ের জোড়ে ঘটানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনায় মালিক সমিতির অভিযুক্তদের বিরুদ্ধ মামলা করবো।

অভিযোগের বিষয়ে মালিক সমিতির অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মমিন উদ্দিন কালু’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রূপাতলীতে সমিতির লোকজন কর্তৃক মাহিন্দ্র শ্রমিককে নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা তা আমি জানি না। আমাদের ভোলা রাস্তার মোড়ে একটি চেক পোস্ট ছিল।

সম্প্রতি নানা ঝামেলার কারণে সেই চেক পোস্টটিও এখন বন্ধ রাখা হয়েছে। তাছাড়া বাবু নামের যে ছেলেটিকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে সেও গত তিন দিন ধরে স্টেশনে নেই। আমাদের বিরুদ্ধে নানা দিক থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এটা তারি একটা অংশ হতে পারে বলে দাবি করেন মালিক সমিতির এই নেতা।

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।


এই বিভাগের আরো সংবাদ