দুর্বা ডেস্ক :: আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। গতকাল (মঙ্গলবার ৮ জুন) ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেয় বিশ্ব ব্যাংক।
গত ৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২২-২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতে তিনি ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে লক্ষ্য ধরেছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে তা মোকাবিলায় বিধিনিষেধ আরোপের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কর্মস্থলে চলাফেরা ও বেচাকেনা মহামারীপূর্ব পরিস্থিতির অনেক নিচে নেমেছে।
কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ধাক্কা এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাই আগামী অর্থবছরে ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি ও তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করবে।
আগামী ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে কোনো পরিবর্তন আনেনি সংস্থাটি।
গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, এ বছর ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। পরে গত মার্চ মাসে প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস স্প্রিং ২০২১: সাউথ এশিয়া ভ্যাকসিনেটস’ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলছে, আগামী অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। গত অর্থবছরে (২০২০-২১) ভারতের জিডিপি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে পাকিস্তানে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালে বিশ্বের গড় প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। গত ৮০ বছরের মধ্যে মন্দা–পরবর্তী সময়ে এত প্রবৃদ্ধি আর হয়নি। কারণ, বিশ্বের কয়েকটি বড় দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। অবশ্য উন্নয়নশীল দেশগুলো এখনও করোনা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন।
Durba TV academic Website