নাগরিকদের সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি ও নৈতিকজীবনযাপনে উদ্বুদ্ধকরনের জন্য রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল হতে হবে

একটি রাষ্ট্রের অন্যতম উপাদান জনগন যারা সামাজিক জীব,সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করার ক্ষেত্রে মানুষকে সামাজিক নানাবিধ নিয়ম কানুন ও শৃঙ্খলার মধ্যে বসবাস করতে হয় তাতে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ে উপকৃত হয়।সামাজিকতার নিরীক্ষে মানুষ এগুলোর একটি মানদন্ড নির্ধারন করে।কোন কাজগুলো ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ভাল,কোন কাজগুলো খারাপ,কোন কাজগুলো একজন সুস্থ্য স্বাভাবিক জ্ঞানের মানুষের নীতি দ্ধারা স্বীকৃত এবং কোন গুলো বর্জনীয় তার একটি মাপকাঠী বা সীমারেখা আছে।

কিন্তু কোন মানুষ যদি সামাজিক নিয়ম কানুন না মানে বা নিজের খেয়াল খুশিমত চলে বা নৈতিকভাবে সমর্থন যোগ্য নয় এমন কিছু করে তাহলে পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।বর্তমান সমাজব্যবস্থায় মাঝেমধ্যেই এমন ঘটনা দেখা যায়।যখন এমন ঘটনাগুলো ঘটে তখন অনেক মানুষই এমন ঘটনাগুলোর প্রতিবাদ করে নিন্দা জানায়,এবং এজাতীয় কর্মকান্ডের মধ্যে যেগুলো দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী অপরাধ,সেগুলোর আইনানুযায়ী বিচার চায়।

রাষ্ট্র অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করে।কিন্তু কিছুদিন পর আবার দেখি সমাজের নিয়মকানুন ও নীতিনৈতিকতা উপেক্ষা করে নিজের খেয়ালখুশিমত সমাজের কেউ না কেউ আবার অনৈতিক বা অগ্রহনযোগ্য বা অসামাজিক কাজ করে।বর্তমান যুগের ব্যাপক গনমাধ্যম এবং সর্বত্র সোস্যাল মিডিয়ার ব্যবহারের জন্য ঘটনাটি আবার পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে,তখন অনেকের মধ্যে অনেক ধরনের প্রতিক্রিয়া,প্রতিবাদ,নিন্দা জানানোসহ নানাবিধ আলোচনা সমালোচনা শুনি,এবং রাষ্ট্র তার প্রচলিত আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকে।

কিন্তু যখন ঘটনা ঘটবে তখন সরব বা তখন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন এবং জনগনের প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি এমন ঘটনা যাতে পূনরায় না ঘটে সে মর্মে দীর্ঘমেয়াদী ও সুদূরপ্রসারী ব্যবস্থা গ্রহন করাও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।সচেতন নাগরিকগনও এবিষয়ে জোড়ালো ভূমিকা রাখতে পারে।রাষ্ট্র দেশের সকল জনগনের অভিভাবক,জনগনের মধ্যে ভাল,মন্দ,সচেতন,অসচেতন,শিক্ষিত অশিক্ষিত,অপরাধী,নির্দোষ সকল শ্রেনীই অন্তর্ভুক্ত তাই রাষ্ট্রকে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে সকল শ্রেনীর মানুষের মাঝে সচেতনতা,নৈতিক দায়বদ্ধতা ও সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পায়।সেজন্য শিক্ষাক্রমের নিম্ন স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা,সকল সরকারী অফিস,আদালতে ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে এসংক্রান্ত নিয়মিত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা,গনমাধ্যম সমূহে সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বৃদ্ধির প্রোগ্রাম করা,সুস্থ্য সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো,সমাজকে ব্লকে ব্লকে ভাগ করে সামাজিকমূল্যবোধহীন ও অনৈতিক কর্মকান্ডে যেন কেউ জড়িত না হয় সেমর্মে উদ্দ্যোগ গ্রহন,ধর্মীয় উপসানলয় গুলোতে নৈতিক ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের বিষয়ে নিয়মিত বানী বা বক্তৃতা প্রচার করা,সমাজের সচেতন ও আদর্শবান মানুষদের পুরস্কৃত করা এবং অনৈতিক ও মূল্যবোধহীন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাসহ সর্বপরি রাষ্ট্রকে সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনা বৃদ্ধির জন্য যুদ্ধ করতে হবে।ফলে সমাজ থেকে মূল্যবোধহীন অনৈতিক কর্মকান্ড হ্রাস পেয়ে সুন্দর,সুশৃঙ্খল,আদর্শিক ও নৈতিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

লেখক:
এডভোকেট মো: কাওসার হোসাইন
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি,আইনগ্রন্থপ্রনেতা ও কলামিস্ট

 

 

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.