পায়রা সমুদ্র বন্দরের চলছে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ

পায়রা সমুদ্র বন্দরের চলছে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ সম্পর্কে আজকের আলোচনা করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনা করছেন, বিশেষ প্রতিনিধি বায়েজীদ পান্নু ।। বরিশাল সিঙ্গাপুর হতে একের পর এক পথ অতিক্রম করছে। স্বপনের সিঙ্গাপুর হতে মেগা প্রকল্পের পদ্মা সেতু দিয়ে আগামী বছর যান চলাচলা করবে ইতিমধ্যে সরকারের সংশ্লিস্টরা নিশ্চিত করেছেন। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারের আরেক বড় প্রকল্প পটুয়াখালীর কলাপাড়া রামনাবাদ নদীতে পায়রা সমুদ্র বন্দর সম্পূর্ন হওয়া ।

এই বন্দর পরিপূর্ন করতে নিরলস ভাবে কাজও করছে সংশ্লিস্টরা। ২০১৬ সনে উদ্ভোধন হওয়া এই বিশাল মেগা প্রকল্পের উন্নয়ন মূলক কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। বন্দরের দায়িত্বশীলরা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর এই মেগা প্রকল্পের দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। পায়রা বন্দর পূর্নাঙ্গ রুপ দিতে জমি অধিগ্রহন ,সড়ক ও সেতু নির্মান ,জাহাজ ভেড়ানো টার্মিনাল নির্মান ,ক্যাপিটাল ড্রেজিং সহ নানা উন্নয়ন মূলক কাজ দ্রুত সম্পান্ন হতে চলছে । ইতিমধ্যে ঢাকা কুয়াকাটা কলাপাড়াস্থ মহাসড়ক হতে আন্দারমানিক নদীর তীরে পায়রার প্রধান অফিস পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার ৪ লেন সড়ক সম্পন্ন হয়েছে।



বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ৪ হাজার একর জমি অধিগ্রহন, টাগবোট ,পাইলট ভেসেল ,ডিউটি স্পীডবোড সহ মোট ৭ টি জনযান নির্মান এবং ওয়্যার হাউজ ও প্রসাশনিক ভবন নির্মান করা হয়েছে । সেই সাথে বন্দরের কাজে ব্যবহারের জন্য মাদার ভেসেল বন্দরে ভিরতে ৬৫০ মিটার ১ম টার্মিনাল ( জেটি ) নির্মান প্রায় ৩০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে ।

আর এ জেটির সাথে ব্যাক-আপ ইর্য়াড নির্মানও চলছে। এ টার্মিনাল নির্মান সম্পান্ন হলে সরাসরি একসাথে ১৫০ মিটারের বেশি ৫টি মাদার ভেসেল এক সাথে ভিরতে পারবে। আর এ টার্মিনাল (জেটি) ব্যহারের জন্য ২টি টাগবোট ক্রয়ের জন্য দরপত্র উম¥ুক্ত করা শেষে মূল্যয়নের জন্য মূল্যয়ন কমিটির প্রতিবেদন নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় পাঠানো হয়েছে ইতিমধ্যে।

পাশাপাশি এ জেটি ব্যহারের জন্য বানিতাপাড়া হতে জেটি পর্যন্ত (৪+২) ও বন্দর হতে বানিতাপাড়া পর্যন্ত সড়ক নির্মান কাজ চলছে বলে বন্দর সুত্র নিশ্চিত করেছে। সেই সাথে রামনাবাদ চ্যানেলে যোগাযোগের জন্য আন্দারমানিক নদীর উপর সেতু নির্মানে বন্দর কতৃপক্ষ বাংলাদেশ সড়ক ও জনপদ বিভাগে চলতি বছর দরপত্র উন্মুক্ত করা হয় এবং মূলয়ন প্রেিবদন গ্রহনের জন্য সওজে প্রেরন করেন।

বন্দরের সূত্র জানিয়েছে রামনাবাদ তথা পায়রা বন্দরে পাশে আরেক প্রকল্প ১৩২০ মেগা ওয়াট থার্মাল কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে এখানে ২৬ হাজার মেট্রিক টনের অধিক বাল্ক টাইপের (ঢালা) মাদার ভেসেল নিয়মিত কয়লা নিয়ে আসছে । নিয়মিত কয়লা সরবরাহে সংশ্লিস্ট বন্দর চট্রগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩৭.৩০ কোটি টাকা অনুদানে রামনাবাদ চ্যানেলের জরুরী রক্ষনাবেক্ষন ও ড্রেজিংয়ে প্রায় ৮৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়াও পায়রা বন্দরের আরেক বড় কর্মযজ্ঞ রামনার আউটার ও ইনটার চ্যানেলের ১০.৫ মিটার গভীরতার ও রক্ষনাবেক্ষনের ক্যাপিটাল ড্রেজিং। চলতি বছর বেলজিয়াম ভিত্তিক কোম্পানী জানডে ডে লুন এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষরীত হয় । যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫৩৫.২০ কোটি টাকা। এতে করে জান ডে লুন রামনা চ্যানেল হতে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার আউটার এ্যাংকরেজ এ ৭২ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ঘন মিটার বালু ড্রেজিং করবে । পাশাপাশি ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ১৪.৮ ঘন মিটার ৬ মাস রক্ষনাবেক্ষন করবে।

ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্ন হলে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এই বন্দরে ভিড়তে পারবে। সুত্র আরও জানায় বন্দরের ড্রাইবাল্ক ,কোল্ড টার্মিনাল ( কয়লা জেটি) প্রকল্পটি প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পরিবর্তে বাস্তবায়নে মন্ত্রনালয় পাঠানো হয়েছে । পাশাপাশি এই কয়লা টার্মিনাল নির্মান লক্ষ্যে আরএনপিএল এবং পায়রা বন্দর সাথে টুক্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এছাড়াও মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মান , কন্টেননার টার্মিনাল ১ (ট্রান্সশিপমেন্ট ), কন্টেননার টার্মিনাল ২ (ডিপ ওয়াটার ),আগত জাহাজ সমূহের উপকরন সরবরাহের অবকাঠামো নির্মান, বন্দরের অতিব প্রয়োজনীয় ভবন,পয়ঃনিষ্কাশন ,ড্রেনেজ নির্মান, রাস্তা ,বিদুৎ সুবিধা ও বন্দরে রেল সংযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে বন্দর রক্ষায় ১০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষন, ৮টি টার্মিনালের জন্য প্রয়োজনীয় টাগবোট ক্রয় সহ প্রভৃতি কম্পোনেট উন্নয়নে সংশ্লিস্টরা এসব কম্পোনেট বাস্তবায়নে জিটুজি ও পিপিপি অর্থয়নে নৌ Ñপরিবহন মন্ত্রনালয় সহ জাপান, ভারত সাথে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) যুগ্ম সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ খান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার মেগা প্রকল্পের অন্যতম পায়রা সমুদ্রবন্দর। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পূর্ণাঙ্গ পায়রা বন্দরের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এতে ৬৫০ মিটার টার্মিনাল নির্মান , ক্যাপিটাল ড্রেজিং চুক্তি সম্পন্ন , টার্মিনাল যোগাযোগের জন্য বানতিপাড়া হয়ে বন্দর পর্যন্ত সড়ক নির্মান কাজ চলমান সহ আমদানী রপ্তানীতে সহায়কে বিভিন্ন উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বলেন, ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন পায়রা বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিং ,জাহাজ ভেড়ানো টার্মনাল নির্মান ,আন্দার মানিক নদীতে ব্রীজ নির্মান এলএনজি টার্মিনাল নির্মান দ্রুত সম্পন্ন হলে এই বন্দর অনেকদুর এগিয়ে যাবে।

সেই সাথে এই বন্দর ঘিরে ব্যবসায়ীরা তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে। ফলে বরিশাল সহ পুরো দক্ষিনাঞ্চলে হবে এক কর্মযজ্ঞ পরিবেশ । হবে কর্মসংস্থান । বন্দর ঘিরে হবে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প সহ বড় বড় মানের শিপ ইর্য়াডের । এছাড়াও মৎস প্রক্রিয়াকরন সহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হবে। এ বেপারে বরিশাল চেম্বার অফ কর্মাসের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান পায়রা বন্দর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশের মেগা প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম একটি ।



এটি বন্দর পুর্নাঙ্গ হলে বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের রুপ বদলে যাবে। এই বন্দর ঘিরে দেশের বড় বড় শিল্প উদ্যেক্তরা পায়রা বন্দর ও তার আশপাশে শিল্প প্রতিষ্ঠান করতে শতশত একর জমি ক্রয় করেছেন বলেন।
এদিকে বন্দরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে পায়রা বন্দর ঘিরে একাধিক ব্যবসায়ীরা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে আবেদন করছেন ।

উল্লেখ্য ২০১৬ সনে বরিশাল পটুয়াখালীর কলাপাড়াস্থ রামনাবাদ নদীর তীরে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর বানিজ্যিক ভাবে যাত্রা শুরু করেন। ইতিমধ্যে ১২৬ টি জাহাজ থেকে ২৫৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে ।

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

এগুলো দেখুন

২০২২সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ

২০২২সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ

২০২২সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *