জেনে নিন বারবার পানি তৃষ্ণা পাচ্ছে কেন? শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধছে না তো! আসুন এ বিষয়ে আজকে আলোচনা করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। শীতে জল খাওয়ার পরিমাণ এমনিই কমে যায়। যেহেতু ঘাম হয়ে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শীতে কিছুটা বন্ধ থাকে, তাই জল খাওযার তাগিদও কমতে থাকে এই সময়। তবে, যতই জল পান করুন না কেন, বার বার গলা শুকিয়ে কাঠ হচ্ছে। রোজই যদি এমন হতে থাকে, তা হলে শীঘ্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, বারবার গলা শুকিয়ে যাওয়া বিভিন্ন বড় রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। যেমন ডিহাইড্রেশন। শরীরে যখন জলের মাত্রা কমে যায় তখনই গলা শুকোতে থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন কিন্তু মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে। বেশি ঘাম হওয়া, পেট খারাপ ইত্যাদির জেরেও ডিহাইড্রেশন হতে পারে। মানবদেহের ৭৫ ভাগই জল দিয়ে তৈরি। খাবার ছাড়া কয়েক দিন কাটাতে পারলেও জল বিনা অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রভূত।
- আরো পড়ুন: চোখের পাতা কাঁপে কেন? জানুন আসল কারণ
- আরো পড়ুন: পাইলস রোগ সম্পর্কে জানুন
- আরো পড়ুন: খালি পেটে ডাবের পানি খেলে কী উপকারিতা
বারবার পানি তৃষ্ণা পাচ্ছে কেন? শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধছে না তো!
অতিরিক্ত তৃষ্ণার কারণ
চিকিৎসা শাস্ত্রে অতিরিক্ত তৃষ্ণার কারণে বলা হয় ‘পলডিপ্সিয়া’। এই অবস্থায় কোনো ব্যক্তি অতিরিক্ত জল পান করেন যার কারণে শরীরে সোডিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। বমি বমি ভাব বা বমির মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত প্রস্রাবের সমস্যার মুখোমুখি হতেও পারেন। তবে কিছু রোগ আছে যার মধ্যে পলিডিপসিয়া অর্থাৎ অতিরিক্ত তৃষ্ণা হওয়াই প্রধান লক্ষণ। দেখে নিন সেগুলো কী কী-
ডায়াবিটিস
ডায়াবিটিসের একটি অন্যতম উপসর্গ হল গলা শুকিয়ে যাওয়া। অতিরিক্ত পরিমাণে মূত্রের জেরে শরীরে জলের সমতা থাকে না। ফলে গলা শুকোয়। সেপসিস- এর মতো ভয়ানক রোগেরও উপসর্গ এটি। বিভিন্ন ধরনের জীবাণু থেকে শরীরে ইনফেকশনের ফলে এমন প্রভাব পড়ে যে গলা প্রায় শুকিয়ে যায়। হার্ট, কিডনি অথবা লিভার তার কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করলেও এই সমস্যাগুলো হতে পারে। যাঁরা অবসাদে ভোগেন তাঁদের মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যায়। উচ্চ রক্তচাপে ভুগলে তাঁদের অতিরিক্ত ঘাম হওয়ায় শরীরে জলের মাত্রা ঠিক থাকে না। ফলে গলা শুকিয়ে যায়।
ডিহাইড্রেশন বা বদহজম
ডিহাইড্রেশন বা বদহজম যেমন এর অন্যতম কারণ। শরীরে যখন জলের মাত্রা কমে যায় তখনই গলা শুকোতে থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন কিন্তু মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে। বেশি ঘাম হওয়া, পেট খারাপ ইত্যাদির জেরেও ডিহাইড্রেশন হতে পারে। তবে হজমের সমস্যা ছাড়াও বেশ কিছু অসুখের কারণেও ঘুমের মধ্যে গলা শুকোয়। এখনই সাবধান হোন সে সব সম্পর্কে।
নার্ভাসনেস হলে
সাধারণ অর্থে, হার্টবিট বৃদ্ধি, অস্থিরতা এবং নার্ভাসনেস অনুভূতিকে চিকিত্সা শাস্ত্রে উদ্বেগ বলে। এমন পরিস্থিতিতে মুখটিও শুষ্ক হয়ে যায়, যার কারণে ব্যক্তি বেশি পরিমাণে জল পান করেন। এ জাতীয় পরিস্থিতিতে কিছু এনজাইম মুখে লালা তৈরির পরিমাণও হ্রাস করে, যার ফলে আরও তেষ্টা বাড়তে পারে।
- আরো পড়ুন: খালি পেটে চা-কফি কী শরীরের জন্য ক্ষতিকর
- আরো পড়ুন: কেন জাম খাবেন?
- আরো পড়ুন: আতাফল কেন খাবেন
অতিরিক্ত তেল-মশলা যুক্ত খাবার খেলে
এই রোগগুলো ছাড়াও আরো কয়েকটি প্রাথমিক কারণে রাতে গলা শুকনোর প্রবণতা দেখা যায়। অতিরিক্ত তেল-মশলা যুক্ত খাবার খেলে বার বার গলা শুকোয়। সর্দি হলে বা নাক বন্ধ থাকলে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে সহজেই মুখের ভিতর শুকিয়ে যায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান যারা করেন তাদেরও বেশি মাত্রায় জল তেষ্টা পায়। অ্যালকোহল শরীরকে শুষ্ক করে তোলে ও জলের চাহিদা তৈরি করে।
যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন। এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।
Durba TV academic Website