যেসব মিষ্টি খেলে ওজন বাড়বে না

যেসব মিষ্টি খেলে ওজন বাড়বে না দুর্বা ডেস্ক :: মিষ্টি খাবারের কথা শুনলেই অনেকে ভাবেন সেটি অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু এ রকম ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে পারে কিছু মিষ্টি খাবার। কিছু মিষ্টি খাবার আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবেও কাজ করতে পারে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডায়েটিশিয়ান শেরল মুসাত্তো বলেন, মিষ্টি খাবার মানেই অস্বাস্থ্যকর খাবার নয়। পুষ্টিকর মিষ্টি খাবার ওজন কমানোর পাশাপাশি মিষ্টির চাহিদা পূরণ করতে সহায়তা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ইট দিস ডটকম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে শেরল কিছু মিষ্টি খাবারের কথা জানান যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবে কাজ করে। জানুন এমন কিছু মিষ্টি খাবারের তালিকা—

১. পুষ্টি বৃদ্ধিকারক

কিছু মিষ্টি খাবার আমাদের শরীরে পুষ্টি বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। এ বিষয়ে মুসাত্তো বলেন, ‘মিষ্টি কিছু খেতে ইচ্ছা হলে স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন- কোকোয়া, ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ পিনাট বাটার, শস্য, আঁশসমৃদ্ধ বাদাম, পুষ্টিকর খেজুর খাওয়া যায়। এগুলো মিষ্টি খাবারের চাহিদার পাশাপাশি পুষ্টি যোগাতেও সহায়তা করে’।

২. আঁশসমৃদ্ধ আইসক্রিম ও বিস্কুট

আইসক্রিম বা মিষ্টি বিস্কুট মানেই যে সেটি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে এমনটা নয়। উচ্চ আঁশসমৃদ্ধ আইসক্রিম ও বিস্কুট ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি মিষ্টি খাবারের চাহিদাও পূরণ করে।

এ বিষয়ে ‘আপলিফট ফুড’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও পুষ্টিবিদ কারা ল্যান্ডাউ বলেন, ‘আঁশ মস্তিষ্কের পেট পরিপূর্ণ রাখে এমন হরমোনগুলো সক্রিয় রাখতে সাহায্য করায় ঘন ঘন খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। উচ্চ আঁশজাতীয় আইসক্রিম, বেরিযুক্ত দই, আঁশসমৃদ্ধ বিস্কুট পেট ভরা রাখে এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবে কাজ করে’।

৩. ডার্ক চকলেট

ডার্ক চকলেট হচ্ছে আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বিসমৃদ্ধ খাবার। তাই এটি ক্ষুধা কমায় বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ ম্যাকেঞ্জি বারগেস। এই খাবারটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোকোয়ার পরিমাণ বেশি হওয়া উপকারী। কারণ এতে চিনির পরিমাণ কম ও আঁশের পরিমাণ বেশি থাকে। কাঠ বাদাম বা দইয়ের সাথে পছন্দের ডার্ক চকলেট খাওয়া বাড়তি প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে সহায়তা করে’।

৪. প্রোটিন কেক

বারগেস স্বাস্থ্যকরভাবে কেক বানানোর পদ্ধতিও জানান। তিনি বলেন, পিনাট বাটার, চকলেট চিপস ও কলা দিয়ে প্রোটিন কেক তৈরি করা যেতে পারে। আর এর সাথে প্রোটিন পাউডার, ভ্যানিলা, নারিকেল বা ডার্ক চকলেট যোগ করে স্বাদ বাড়ানো যায়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবে কাজ করবে।

৫. হুইপড ক্রিম

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রিচি-লি হটজ বলেন, ‘কম ক্যালরির হুইপড ক্রিমের সাথে ফল যেমন— আঙুর ও কাঠ বাদাম মিশিয়ে ওপরে ডার্ক চকলেট, টকদই বা সামান্য মধু দিয়ে খাওয়া উপকারী’। এগুলো কার্বোহাইড্রেইট, প্রোটিন ও সামান্য চর্বিযুক্ত হওয়ায় সেগুলো সুস্বাদু এবং পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ও ক্ষুধা নিবারণকারী খাবার।

৬. বেরিজাতীয় ফল

বেরিজাতীয় খাবার খাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিদ টালিয়া সিগাল ফিডলার বলেন, ‘বেরি খাবারে স্বাদ ও সৌন্দর্য বাড়ায় এবং এর প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে ইনস্যুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। এ ছাড়া অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখতে বেরি কার্যকর’। তাই আপনার মিষ্টি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা মেটাতে পারে এগুলো।


আরো পড়ুন: বৃষ্টিতে মোবাইল ফোন ভিজে গেলে যা করবেন


৭. আপেল ও বাদাম

বাদাম ও আপেল খাওয়ার বিষয়ে ‘নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি’ এর পুষ্টিবিষয়ক অধ্যাপক এবং ‘ফাইনালি ফুল, ফাইনালি স্লিম’ বইয়ের লেখক লিসা ইয়ং বলেন, ‘আপেল বেইক করে এর সাথে আখরোট মিশিয়ে খেতে পারেন। আপেল আঁশ ও বাদাম স্বাস্থ্যকর চর্বিসমৃদ্ধ খাবার। আর স্বাদের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে তুলতে এগুলোর সঙ্গে স্ট্রবেরি, ডার্ক চকলেট বা পিনাট বাটার ব্যবহার করা যেতে পারে’।

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন।

এগুলো দেখুন

ইফতারে তিন পানীয় প্রাণ জুড়াবে

ইফতারে তিন পানীয় প্রাণ জুড়াবে

ইফতারে তিন পানীয় প্রাণ জুড়াবে । জেনে নিন কিভাবে তৈরি করবেন এই তিন পানীয়। ইফতারে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *