রাজনীতি থেকে সরে এলো কওমি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার :: কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও হেফাজতে ইসলামের পৃষ্টপোষকতায় চালু ছিল কওমি মাদ্রাসা। তবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনে সারাদেশে তাণ্ডব চালায় হেফাজত। আর এতে অংশ নেয় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই।

পরিস্থিতি বিবেচনায় নড়েচড়ে বসে সরকার। সর্বশেষ মামুনুল রিসোর্ট কাণ্ডের পর একাধিক মহলের চাপে কোনঠাসা দেশের কওমি মাদ্রাসা। এমন পরিস্থিতিতে রাজনীতি থেকে সরে আসছে মাদ্রাসাটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এমনকি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলেও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড এসব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, হেফাজত ইসলাম যতদিন আল্লামা শফী সাহেবের নিয়ন্ত্রণে ছিল ততদিন কওমি মাদ্রাসার সাথে হেফাজতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল। কিন্তু আল্লামা শাহ আহমদ শফির মৃত্যুর পর হেফাজতের সাথে কওমি মাদ্রাসার আগের সম্পর্ক আর নেই। সর্বশেষ সে সম্পর্ক এখন শূন্যের কোঠায়।

এ বিষয়ে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ সদস্য মুফতি নূরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কোনো দিন রাজনীতি করি নাই। এমনকি কোনো সংগঠনের সাথেও সম্পৃক্ত ছিলাম না। আমরা লেখাপড়া নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। এখন যে আইন করা হয়েছে তাতে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট কেউই রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকতে পারবে না। এতদিন পরে কেন এই আইন করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে কোনো অশান্তি সৃষ্টি না হয়।’

মুফতি নূরুল আমিন দাবি করেন, ‘অনেক আলেম-ওলামা রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে তারাও এখন প্রচলিত রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।’

এদিকে কওমি শিক্ষাবোর্ডের অফিস সম্পাদক মু. অছিউর রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতিমুক্ত রাখতে গত এপ্রিল মাসের বোর্ডের সিদ্ধান্ত বুধবারের সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এপ্রিল মাসের আল-হাইআতুল উলয়া কর্তৃক নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধানের জন্য আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ৫ বোর্ডের ৫ জন, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া থেকে ৫ জন এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত ৫ জন সমন্বয়ে সর্বমোট ১৫ জনের একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়। এ সাব-কমিটির নাম দেওয়া হয় ‘বাস্তবায়ন ও সমন্বয় সাব-কমিটি’। বুধবারের সভায় ‘বাস্তবায়ন ও সমন্বয় সাব-কমিটি’তে আরও ২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ সাব-কমিটি’র আহ্বায়ক করা হয়েছে বোর্ডের চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানকে।’

সর্বশেষ সরকারের নিয়ন্ত্রণে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়নের বিধান রেখে ‘শিক্ষা আইন ২০২১’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে শিক্ষা আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখেই শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়ন করার বিধান যুক্ত করা হয়।

কষ্টে আছে এতিম শিশুরা

দেশের কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ লাখ। যার অধিকাংশ শিক্ষার্থী এতিম ও দরিদ্র। কওমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা জানান, মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় শিশুরা কষ্টে আছেন। অনেক শিশু আবার দুবেলা খাবার পাচ্ছে না। এছাড়াও কোরআন মুখস্থ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া কিন্তু বিরতির ফলে শিশুরা যেটুকু কোরআন মুখস্থ করেছিলেন তা ভুলে যাচ্ছে। এছাড়া নতুন বছরে মাদ্রাসাগুলোতে নতুন কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এ বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি যেনো শিক্ষার্থীরা সশরীরে মাদ্রাসায় এসে ভর্তি হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কওমি মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক বলেন, কওমি মাদ্রাসা খুলতে সরকারের সাথে আলোচনা হয়েছে। তবে সে আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাদ্রাসা খুলতে সবশেষ আবেদনের চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন।

এগুলো দেখুন

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি

ধীরে ধীরে খুলছে সরকারি চাকরির নিয়োগজট

স্টাফ রিপোর্টার :: করোনা নিয়ন্ত্রণে আসায় ধীরে খুলছে বিভিন্ন স্তরের সরকারি চাকরির নিয়োগজট। আগে থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.