আসুন মসজিদ মুখি হই (পর্ব-১) ফিরোজ মাহমুদ :: রাসূল (স:) এর সাহাবিরা রমযানের শেষ দশকে হতেন মসজিদমুখী, আর বর্তমানে আমাদের সমাজে এ চিত্র পাল্টে আমরা হচ্ছি মার্কেটমুখি। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আর রাসূল (স:) এর মসজিদমুখি হওয়ার কারণ ছিল- রমযানের রহমত, বরকত ও নাজাত লাভের আশায় মাহে রমযানের মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির শুনিশ্চিত প্রত্যাশায় সর্বোপরি মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য রমযানের শেষ দশকের ‘ইতিকাফ’। যা অত্যান্ত ফজিলতপূর্ন ইবাদত।
রমযানের শেষ দশকের ইতিকাফ রাসূল (স:)- এর গুরুত্বপূর্ন একটি সুন্নত আমল। ফরয ইবাদত ব্যতিত আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য যেসব ইবাদত করা হয় তার মধ্যে ‘ইতিকাফ’ একটি অন্যতম ইবাদত। বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমানিত রমযানের শেষ দশকের ‘ইতেকাফ’ সুন্নতে মুয়াক্বাদাহ আলাল কেফায়া। অর্থাৎ মহল্লার মসজিদে কোন রোযাদার মুসলিম ইতেকাফ করলে সবার তরফ থেকে এ ধরনের সুন্নত আদায় হবে। আর এলাকাবাসীর কেউ যদি ইতেকাফ না করে তাহলে সুন্নত ছেড়ে দেওয়ার কারনে সবার সুন্নত তরকের গোনাহ হবে।
“ইতিকাফ” আরবি শব্দ আকঠ। মূল ধাতু থেকে গঠিত একটি শব্দ। ‘আকফ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা। ‘ইতেকাফ’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ‘স্থির থাকা, আবদ্ধ থাকা, অবস্থান করা’ শরীয়তের পরিভাষায় নির্ধারিত সময়ে সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে পার্থিব ও জাগতিক সব ধরনের সংস্পর্শ ত্যাগ করে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতেকাফ বলে। (বিস্তারিত দেখুন সূরা-বাকারা ১৮৭নং আয়াত-এর তাফসির )
বিশ রমযান সূর্যাস্তের কিছুক্ষন আগে থেকে উনত্রিশ অথবা ত্রিশ রমযান অর্থাৎ ইদুল ফিতরের চাঁদ দেখার সূর্যাস্ত পর্যন্ত মসজিদে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়মিত একাধারে অবস্থান করাকে ‘ইতেকাফ’ বলে। ইতিকাফের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির মাধ্যমে মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভ। সুতরাং যারা ইতেকাফ করবেন তাদের ২০ রমযান সূর্যাস্তের পূর্বেই ইতেকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করতে হবে।
চলবে…..
লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক ও গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব
যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুণ।
Durba TV academic Website