জেনে নিন যেসব কারণে ইউরিন ইনফেকশন হয় । আসুন এ সম্পর্কে আজকে আলোচনা করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। ইউরিন ইনফেকশন বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) খুবই মারাত্মক একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। দীর্ঘদিন এ সমস্যায় ভুগলে অকেজো হতে পারে কিডনি। এ ছাড়াও মূত্রথলিতে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু পানিশূনত্যার কারণেই নয়, ইউটিআই হওয়ার আরো কিছু কারণ রয়েছে। যেগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে।
নারী-পুরুষ উভয়ই আক্রান্ত হতে পারেন এই রোগে। এ বিষয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এ সামাদ বলেন, ‘পুরুষের চেয়ে নারীর ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নয়গুণ বেশি, যা দীর্ঘদিন চিকিৎসা করা না হলে কিডনি বিকল হতে পারে। এজন্য নারীদের শরীরের নিম্নাঙ্গের যত্ন নিতে হবে ও পরিষ্কার রাখতে হবে।’
- আরো পড়ুন: চুলায় কিভাবে বারবিকিউ চিকেন তৈরি করবেন
- আরো পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তন কী? জেনে নিন বিস্তারিত
- আরো পড়ুন: ভুগোল কাকে বলে? জেনে নিন ভূগোলের বিস্তারিত
যেসব কারণে ইউরিন ইনফেকশন হয়
ইউটিআিই হলো এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ। যখন এর ফলে মূত্রনালির নিম্নাংশ আক্রান্ত হয়, তখন তাকে মূত্রথলির সংক্রমণ (বা সিস্টাইটিস) বলে আর যখন এর ফলে মূত্রনালির ঊর্ধ্বাংশ আক্রান্ত হয়, তখন তাকে কিডনির সংক্রমণ (বা পায়েলোনেফ্রাইটিস) বলে।
ইউটিআইয়ের লক্ষণ
১. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
২. ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ
৩. প্রস্রাবের রং লালচে
৪. প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত
৫. দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব
৬. নারীদের গোপনাঙ্গে ব্যথা
৭. পুরুষদের মলদ্বারে ব্যথা
অবস্থা সংকটাপন্ন হলে-
১. পেট ও কোমরের মাঝামাঝিতে ব্যথা অনুভব করা
২. শীত লাগা
৩. জ্বর
৪. বমি বমি ভাব
৫. বমি
যেসব কারণে ইউটিআই হয়
১. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়ার ফলেই বেশিরভাগ মানুষ এই সংক্রমণে ভোগেন। এক্ষেত্রে পানিশূন্যতার কারণে মূত্রথলিতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
২. নারী-পুরুষ ভেদে অনেকেই টাইট অন্তর্বাস পরেন। যা স্বস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। টাইট অন্তর্বাস ব্যবহারের ফলে যৌনাঙ্গ অতিরিক্ত আর্দ্র অবস্থায় থাকে। যার ফলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়।
৩. প্রস্রাব বা মলত্যাগের পর গোপনাঙ্গ ভালোভাবে পরিষ্কার না করার কারণেও হতে পারে ইউটিআই। এক্ষেত্রে অনেকেই পেছন থেকে সামনের দিকে মোছেন, যা ভুল পদ্ধতি। এতে জীবাণুর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে উচিত সামনে থেকে পেছন দিকে মোছা।
৪. সহবাসের পর অবশ্যই প্রস্রাব করা উচিত। এর ফলে গোপনাঙ্গে থাকা জীবণু প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। এর ফলে ইউটিআিইয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
৫. দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব ধরে রাখার কারণেও মূত্রাশয়ে সংক্রমণ ঘটতে পারে। প্রস্রাব বেশিক্ষণ ধরে রাখলে মূত্রাশয়ে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে।
৬. অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেই প্রস্রাবে সংক্রমণ হতে পারে।
৭. মেনোপজের সময়ও নারীদের ইউটিআিইয়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৮. ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ইউটিআিই হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
- আরো পড়ুন: বাংলা ব্যাকরণ
- আরো পড়ুন: হিসাববিজ্ঞানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
- আরো পড়ুন: ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রথম পর্ব
প্রতিরোধে করণীয়
১. প্রচুর পানি ও তরল খাবার খেতে হবে।
২. ব্যক্তিগত সুরক্ষা বজায় রাখতে পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।
৩. অপরিষ্কার পোশাক পরবেন না।
৪. নিয়মিত গোসল করতে হবে।
৫. একই কাপড় না ধুয়ে বেশিদিন পরিধান করা থেকে বিরত থাকুন।
৬. গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখতে হবে।
৭. একই অন্তর্বাস দীর্ঘসময় ব্যবহার করবেন না।
প্রতিবছর প্রায় ১৫ কোটি মানুষ মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এ সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এ সংক্রমণের হার বেশি।
যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।
Durba TV academic Website