প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি জানলে তবেই অ্যাকিউরেট রেসাল্ট পাবেন। আসুন এ সম্পর্কে আজকে আলোচনা করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। আপনি গর্ভবতী কিনা, তা জানার জন্য এখন আর কষ্ট করে ডাক্তারের কাছে যেতে হয় না। ছোট্ট একটা প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের সাহায্যেই তা জানা যায়। অনেকেই প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহার করেন, কিন্তু সমস্যা হল তাঁরা ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না যে তাঁরা আদৌ গর্ভবতী কিনা। তার একটাই কারণ, প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের সঠিক ব্যবহার অনেকেই জানেন না।



অনেক মহিলা রয়েছেন যারা জানেনি না যে ঠিক কোন সময়ে বাড়িতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের সাহায্যে পরীক্ষা করলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যাবে। আগেকার দিনে বয়স্ক সদস্যারা নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে কোনো টেস্ট না করেই বলে দিতে পারতেন যে বাড়ির কোনো মহিলা গর্ভবতী কিনা, কিন্তু আজকাল সেই অভিজ্ঞতা অনেকেরই নেই। আর ঠিক সে কারণেই আমরা আজ আলোচনা করব যে ঠিক কিভাবে আর কখন আপনি প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের সাহায্যে পরীক্ষা করলে একদম সঠিক ফলাফল জানতে পারবেন।

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি

কখন প্রেগন্যান্সি টেস্ট করবেন

আপনার সেক্স লাইফ যদি অ্যাক্টিভ হয় আর আপনি পিরিয়ড মিস করেন, তাহলে মাসিক মিস করার ১ সপ্তাহ পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করবেন। মাসিক মিস হওয়ার সাথে সাথেই টেস্ট কিট কিনে ফেলবেন না। অনেক কারণেই মাসিক মিস হতে পারে। ১ সপ্তাহ পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের সাহায্যে টেস্ট করতে বলার একটাই কারণ, যদি আপনি গর্ভবতী হন তাহলে আপনার প্রস্রাবে HCG হরমোন তৈরি হবে। আর এটি তৈরি হতে মোটামুটি সপ্তাহখানেক লাগে।

কিভাবে টেস্ট করবেন

আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন যে সকালের প্রথম প্রস্রাবের সাহায্যেই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা উচিত। কিন্তু কারণটা জানেন কি? কারণ, সকালের প্রথম প্রস্রাবেই HCG হরমোনের পরিমান সবচেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকে। আপনি যে কন্টেনারে সকালের প্রথম প্রস্রাব সংগ্রহ করবেন সেটি যেন পরিষ্কার ও শুকনো হয়। সম্ভব হলে প্লাস্টিকের কন্টেনার নেবেন। হোম প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটে একটি স্ট্রিপ থাকে, সাথে ড্রপার থাকে। সকালের প্রস্রাব কন্টেনারে সংগ্রহ করে ড্রপারের সাহায্যে ঠিক ২ ফোঁটা প্রস্রাব স্ট্রিপের যেখানে ছোট্ট একটা গোল বা চৌকো বক্স করা রয়েছে সেখানে ঢেলে ৫- ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। অনেকেই ২ মিনিট অপেক্ষা করেন এবং সঠিক রেসাল্ট দেখানোর আগেই কিট ফেলে দেন। অপেক্ষা করার সময়ে খেয়াল রাখবেন স্ট্রিপের নিচের অংশে যেন হাত না লাগে।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কেনার আগে এক্সপায়ারি ডেট দেখে নেবেন

সাধারণত হোম প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের মেয়াদ মোটামুটি ২- ৩ বছরের হয়। অর্থাৎ ম্যানুফ্যাকচারিং ডেটের থেকে ২- ৩ বছর পর্যন্ত এটি ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এর থেকে বেশি সময় অতিক্রান্ত হলে কিন্তু যতি নিয়ম মেনে টেস্ট করুন না কেন, আপনি বুঝতেও পারবেন না যে আপনি গর্ভবতী কিনা, কারণ রেসাল্ট ভুল আসতে পারে।



সঠিক রেসাল্ট পাবেনই, তার কোনও মানে নেই কিন্তু!

আপনি হয়ত সব নিয়ম মেনে সঠিকভাবে হোম প্রেগন্যান্সি টেস্ট করলেন, কিন্তু প্রতিবারি যে সঠিক রেসাল্ট আসবে, এমনটা নাও হতে পারে। এর অবশ্য কিছু কারণ রয়েছে। আকজাল সিংহভাগ মহিলাই PCOD বা PCOS-এ আক্রান্ত। আর যাঁদের এই লাইফস্টাইল ডিজিজ রয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে অনেক সময়েই ভুল ফলাফল দেখায়। এমন হলে আমাদের পরামর্শ, আপনি একবার ডাক্তারের সাথে কথা বলে ব্লাড টেস্ট করিয়ে জেনে নিন যে আপনি গর্ভবতী কিনা।

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

এগুলো দেখুন

শিশু কেন খেতে চায় না

শিশু কেন খেতে চায় না

জেনে নিন শিশু কেন খেতে চায় না । আসুন আজকে এ সম্পর্কে আলোচনা করে বিস্তারিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *