জেনে নিন শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়? কী করণীয়? আসুন এ বিষয়ে আজকে আলোচনা করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩ থেকে ৬ শতাংশ শিশু একটি গুরুতর জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। আর জন্মগত ত্রুটি শিশুর আর্থ-সামাজিক অবস্থা, ধর্ম, জাতি ও সামাজিক মর্যাদাকে প্রভাবিত করতে পারে।
- আরো পড়ুন: শিশু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ, কী করবেন?
- আরো পড়ুন: শিশুর জন্মগত হৃদরোগে চিকিৎসা
- আরো পড়ুন: শিশুর মলের সঙ্গে রক্ত গেলে কী করবেন?
শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়? কী করণীয়
জন্মগত ত্রুটি সাধারণত জন্মের সময় উপস্থিত গঠনগত পরিবর্তন। যা শরীরের যে কোনো অংশ বা অংশকে প্রভাবিত করতে পারে যেমন- হৃদয়, মস্তিষ্ক, পা, ঠোঁট কাটা ইত্যাদি। এটি শারীরিক গঠন, কার্যক্ষমতা বা উভয়ের উপর প্রভাব ফেলে।
শিশুর জন্মগত ত্রুটিগুলো হালকা থেকে গুরুতর পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে। যা গর্ভকালীন সময়ে ঘটে ও জন্মের সময় শনাক্ত করা যায়। কখনো কখনো দেরি করেও শনাক্ত হতে পারে। জন্মগত ত্রুটিগুলো এক বা একাধিক জেনেটিক, সংক্রামক, পুষ্টি বা পরিবেশগত কারণে ঘটে থাকে।
বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৮ মিলিয়ন নবজাতক প্রতি বছর জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ মারা যায় সংশ্লিষ্ট জটিলতার কারণে। যার মধ্যে আনুমানিক ৯০ হাজার মৃত্যু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ঘটে।
মৃত্যুহার ছাড়াও, জন্মগত ত্রুটি দীর্ঘমেয়াদী অক্ষমতা সৃষ্টি করে। যা ব্যক্তি, পরিবার, স্বাস্থ্য-পরিচর্যা ব্যবস্থা ও সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২০১০ সালে শিশুর জন্মগত ত্রুটির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক অফিস অব সাউথ-ইস্ট এশিয়া ও সিডিসি-ইউএসএ’র সহযোগিতায় জন্মগত ত্রুটির উপর একটি সামগ্রিক উদ্যোগ শুরু করে ২০১১- ২০১২ সালে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৯ টি দেশকে জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জাতীয় পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করেছে। ১২ টি সংস্থার সহায়তায় ৩ মার্চ ২০১৫ সালে প্রথম বিশ্ব জন্মগত ত্রুটি দিবস পালিত হয়েছিল। অনেক আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড বার্থ ডিফেক্ট ডে’ এর প্রস্তুতির জন্য সমর্থনে যোগ দিয়েছিল।
সিডিসির পরিসংখ্যান অনুসারে, জন্মগত ত্রুটিগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০টির মধ্যে হার্টের ত্রুটির হার প্রতি ১১০ জনে ১ জন। এছাড়া হাইপোস্প্যাডিয়াস, ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ত্রুটি, ক্লাবফুট, ডাউনসিন্ড্রোম, পালমোনারি ভালভ অ্যাট্রেসিয়া অ্যান্ড স্টেনোসিস, ঠোঁট ও তালুকাটা রয়েছে।
করোনা মহামারি চলাকালীন সময়ে সামাজিক সমর্থন পাওয়াও একটি চ্যালেঞ্জ ছিল জন্মগত ত্রুটিতে আক্রান্ত শিশুদের। পরিবারে পরিচর্যাকারীর অভাব ছিল। পিয়ার সাপোর্ট পাওয়া সম্ভব হয়নি। শিশুরা বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের সাথেও দেখা করতে সক্ষম হননি।
৩ মার্চ বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘বিশ্ব জন্মগত ত্রুটি দিবস’। জন্মগত ত্রুটি, এর কারণ ও বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রচেষ্টায় এ দিবস পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘অনেক জন্মগত ত্রুটি, একটি কণ্ঠ’।
- আরো পড়ুন: বাদামে কমবে হৃদরোগের ঝুঁকি
- আরো পড়ুন: হৃদরোগীদের দাম্পত্য জীবন কেমন কাটবে?
- আরো পড়ুন: ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের সুরক্ষা মিলবে কালোজিরায়
দিবসটি পালনের লক্ষ্য হলো জন্মগত ত্রুটি ও তার প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, এই অবস্থার প্রাথমিক শনাক্তকরণ উন্নত করা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও সময়মতো হস্তক্ষেপ বাড়ানো। এ শিশুরা ‘কোভিড শিশু’, ‘ক্লাবফুট বেবি’ বা জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু নয়। সবার প্রথমে তারাও একজন মানুষ, সহজ, সরল ও শক্তিশালী। সে সক্ষম এ পৃথিবীতে টিকে থাকতে।
একই সাথে জন্মগত ত্রুটির প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ সমস্যা প্রতিরোধের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেও কাজ করা হয়। শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ চিহ্নিত করার জন্য সঠিক পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি ও গবেষণার গুরুত্ব প্রচার করা জরুরি।
যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন। এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।
Durba TV academic Website