জেনে নিন কিভাবে বিনা জামানতে ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পাবেন। আসুন এ বিষয়ে আজকে আলোচনা করে বিস্তারিত জেনে নেই। বাংলাদেশের যত ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা রয়েছেন তাদের জন্য একটি সুখবর হলো সরকারের দ্বিতীয় দফায় প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা রয়েছেন তাদের জন্য নতুন ১ লক্ষ টাকা থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পাবেন বিনা জামানতে।
আর লোনের সুদের পরিমাণ একদম কম মাত্র ৪ শতাংশ সুদের পরিমাণ নির্ধারিত করা হয়েছে। আপনারা জানেন যে বাংলাদেশে একটি এস এম ই ফাউন্ডেশন রয়েছে যেটা মিনিং হচ্ছে এস্মল মিডিয়াম এন্টারটেইনার অ্যাসোসিয়েশন। তারা মিডিয়াম এন্টারটেইনারদের বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে কাজ করেন।
- আরো পড়ুন: পোস্ট অফিসে টাকা রাখার নিয়ম
- আরো পড়ুন: ব্র্যাক ব্যাংক থেকে পার্সোনাল লোন
- আরো পড়ুন: ইসলামী ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং
তাদেরকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয় এবং তাদেরকে বিভিন্ন লোন দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে যাতে তারা ব্যবসা সঠিকভাবে দাঁড় করাতে পারে। এবং ভালো অর্থ আয় করতে পারে। চলুন তাহলে আমরা জেনে নেই কারা এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কিভাবে লোন পাবেন এবং কিভাবে আবেদন করবেন? আর কোন ব্যাংক গুলা এর লোন দিবে? সব প্রশ্নের উত্তর আপনারাই আর্টিকেলে পাবেন। তাহলে দেরি না করে চলুন জেনে নেওয়া যাক।
এস এম ই ফাউন্ডেশন এর তথ্য মতে সরকার দ্বিতীয় দফায় যে প্রণোদনা প্যাকেজটা ঘোষণা করেছেন যার মধ্যে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে আর এই ৩০০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা এসএমই ফাউন্ডেশন কে বরাদ্দ করা হয়েছে । অর্থাৎ এসএমই ফাউন্ডেশন তাদের সুপারিশ অনুযায়ী এই ৩০০ কোটি টাকা বিতরণ করতে পারে ।
যার মধ্যে ১০০ কোটি টাকা চলতি বছরে বরাদ্দ করতে হবে। এই যে প্যানডেমিক এর যে স্থগিত রয়েছে সব প্রতিষ্ঠানগুলো। মানে এক কথায় বলতে গেলে পরিস্থিতি শিথিল হলেই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে।
অর্থাৎ চলতি বছরের সময় কিন্তু খুবই অল্প। এমনের জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা কিন্তু যদি পরিস্থিতি শিথিল হয় তাহলে সামনে থেকেই। মানে সামনের মাস থেকেই এই লোন ক্ষুদ্ ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের চালানো শুরু হবে। আর ২০০ কোটি টাকা সেগুলা ২০২১ এর শেষে এবং ২০২২ এর শুরুতে দেয়া হবে। এখন আপনারা জানবেন যে
SME Foundation কিভাবে লোন দেয়? এই লোন গুলা চালাবে কারা?
কোন কোন ব্যাংক এর মাধ্যমে লোন গুলা আপনারা যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মাজারি উদ্যোক্তারা পাবেন। একটা কথা সবার জানা উচিত যে এসএমই ফাউন্ডেশন সরাসরি কোন লোন প্রোভাইড করে না। তারা বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে তাদের হাতে ১১ টি ব্যাংক রয়েছে এই ১১ টি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাধ্যমে তারা লোন দিয়ে থাকেন।
এসএমই ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক এবং কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেছে। আর বাকি যে কয়েকটি স্থান রয়েছে ওই গুলো কিছুদিনের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যাবে।
ইতিমধ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন যে ব্যাংকগুলোর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে
ব্রাক ব্যাংক যে ব্র্যাক ব্যাংক ৩০ কোটি টাকা ছাড় করবেন। এ ১০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩০ কোটি টাকা ছাড় করবেন এই ব্র্যাক ব্যাংক এবং এছাড়াও আরেকটি ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি যেটা বড় পরিমাণের অর্থছাড় করবেন সেটা হচ্ছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড।
আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড এর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা ছাড় করবেন এস এম ই ফাউন্ডেশন। এছাড়া বাংলাদেশ মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ২০ কোটি এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক ১০ কোটি এবং বেসিক ব্যাংক ৫ কোটি ঋণ বিতরণ করবেন। এই এসএমই ফাউন্ডেশন এর সুপারিশ অনুযায়ী। আর ৬ টি ব্যাংক এবং কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে খুব শীঘ্রই আসলে চুক্তিবদ্ধ হবে এই এসএমই ফাউন্ডেশন। এখন আমরা জানবো যে কারা
কারা এই লোন গুলোর জন্য আবেদন করতে পারবেন। কারা লোনটা পাবে এবং কিভাবে পাবে?
এই লোনটা পাবে এস এম ই স্মল এবং মিডিয়াম উদ্যোক্তাদের জন্য যারা একদম প্রান্তিক লেভেলের গ্রামীণ উদ্যোক্তা প্রান্তিক উদ্যোক্তা এবং নারী উদ্যোক্তাদের এই ঋণ দেয়া হবে। এসএমই ফাউন্ডেশন এর সুপারিশ অনুযায়ী। এখানে এসএমই ফাউন্ডেশন যাদেরকে সুপারিশ করবে শুধুমাত্র তাদেরকে এই ঋণ দেয়া হবে।
এই এসএমই সংস্থা লক্ষ্যপথে সরকার দ্বিতীয়বারের মতো এখানে যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং প্রান্তিক লেভেলের উদ্যোক্তা এবং নতুন উদ্যোক্তা আপনারা ঋণ পাবেন। কারণ এর আগের বার অনেক ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছিল যে বলেছিল যে সবাই যারা ছোট উদ্যোক্তা তারা ঋণ পায় না । মানে যাদের বেশি প্রয়োজন এই ঋণ তাদের কাছে আসে না ।
এই জন্য এসএমই ফাউন্ডেশন নতুন নিয়ম শুরু করেছে এই ধরনের ঋণ যাদের প্রয়োজন শুধুমাত্র তারা ঋণ পাবেন। এই ৩০০ কোটি টাকা এসএমই ফাউন্ডেশন এর সুপারিশ ছাড়া কাউকে প্রদান করা হবে না।
অর্থাৎ যাদেরকে এসএমই ফাউন্ডেশন সুপারিশ দিবে না তাদেরকে এ লোন প্রদান করা হবে না এবং এই ঋণের আরও একটি ভালো দিক হচ্ছে এখানে বিনা জামানতে লোন পাবেন। মানে ঋণ নেয়ার জন্য আপনার কোন জামানতের প্রয়োজন হবে না।
অনেকে আছেন যারা জামানতের কারণে ঋণ নিতে পারেন না মানে জামানতের কথা শুনলে অনেকে ভয় পেয়ে যান যে আমার ত জমি নাই এবং আমার মর্টগেজ দেয়ার জন্য তেমন কিছুই নেই।
আমি কিভাবে লোন পাবো? তাদের জন্য এই সুবিধাটি দেয়া হয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশনের এই লোনের জন্য আবেদন করতে হলে আপনাকে কোন প্রকার কোন জামানতের প্রয়োজন হবে না।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ঋণ শুধুমাত্র কারা পাবে?
এই ঋণ পাবে শুধুমাত্র এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসা দাঁড় করিয়েছে শুধুমাত্র তারাই লোন পাবে।
এই ঋণ নিতে আগ্রহীরা এসএমই ফাউন্ডেশন যে ব্যাংক এর সঙ্গে জড়িত আছে সে ব্যাংক এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। যে ব্যাংকের সাথে এসএমএস ফাউন্ডেশন এর চুক্তি হয়েছে সে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং যে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে এসএমই নতুন করে যুক্ত হবে সেটাও আপনি এসএমই ফাউন্ডেশন এর ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখতে পারবেন যে তারা কোন ব্যাংকের সাথে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সে ব্যাংকের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ করুন।
আপনি যেখান থেকে এবং যেকোনো লোনের জন্য আবেদন করার সময় লোন নেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের যে সকল ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় তা হলো – আবেদন ফর্ম যথাযথভাবে পূরণকৃত এবং স্বাক্ষরিত থাকতে হবে।
- আবেদনকারীর ফটোগ্রাফ লাগবে।
- জাতীয় পরিচয় পত্র বা ফটোকপি
- অফিস আইডি
- ভিজিটিং কার্ড / আপনার কোন প্রতিষ্ঠানে থাকলে সে ক্ষেত্রে ভিজিটিং কার্ড এর প্রয়োজন হবে
- স্যালারি সার্টিফিকেট / পে স্লিপ / যদি আপনি কোথায় চাকরি করেন সেক্ষেত্রে
- TNT / মোবাইল ফোন / গ্যাস বিল / ইউটিলিটি বিল ইত্যাদির বিল কপি লাগবে
- টি আই এন / আয়কর রিটার্নের অনুলিপি লাগবে
- চেকের পাতা / চেক বইয়ের পাতা লাগবে
- বৈধ পাসপোর্ট লাগবে / ড্রাইভিং লাইসেন্সের অনুলিপি / অন্যান্য
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট ( নূন্যতম ৬ মাস )
- অন্যান্য ব্যাংক ঋণ অনুমোদনের চিঠি ( স্যাংশন লেটার )
- অন্যান্য আয়ের প্রুফ ডকুমেন্টস
- ট্রেড লাইসেন্স / শেয়ার মূলধনের সংক্ষিপ্তসার
- অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠানের স্মারকলিপি এবং অ্যাসোসিয়েশন / অংশীদারি চুক্তির নিবন্ধ
- ভাড়া চুক্তি / মালিকানা দলিলসমূহ
- ভাড়া / অন্যান্য আয়ের পরিদর্শন প্রতিবেদন
- অন্যান্য নথি যদি থাকে / না থাকলে প্রয়োজন হবে না
- গ্যারান্টারের ফটোগ্রাফ, জাতীয় পরিচয়পত্র, অফিস আইডি, ভিজিটিং কার্ড ।
এই ডকুমেন্টগুলো সাধারণত প্রত্যেক ব্যাংকে প্রয়োজন হয় যদিও নতুন কোন নিয়ম কারণ চালু হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে নতুন কিছু ডকুমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে হয়ত এখান থেকে অনেক ডকুমেন্ট অনেক ব্যাংকে নেয় না।
- আরো পড়ুন: শূন্য থেকে শুরু বিসিএস প্রস্তুতির
- আরো পড়ুন: চরকাউয়া নয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়‘র প্রধান শিক্ষক মালেকের সনদ বানিজ্য‘র ভিডিও ফাঁস
- আরো পড়ুন: বাংলা ব্যাকরণ
এখানে শুধু আইডিয়া দেয়া হয়েছে যে এই এই ডকুমেন্টগুলো সাধারণত ব্যাংক লোন নেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। আপনি যদি লোন নিতে চান তাহলে আপনি ব্যাংকের অফিসার অথবা ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে এবং তাদের থেকে তাদের ব্যাংকের কি কি নিয়ম অনুসারে লোনের ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয় জেনে নিবেন ।
ধন্যবাদ আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে কিভাবে বিনা জামানতে ব্যাংক লোন নিতে পারবেন এবং এখানে ১ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কিভাবে ব্যাংক লোন নিতে পারবেন বিনা জামানতে।
যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।
Durba TV academic Website