ঠোঁট কেন ফুলে ও এতে করণীয় কী

জেনে নিন ঠোঁট কেন ফুলে ও এতে করণীয় কী । আসুন এ সম্পর্কে আজকে আলোচনা করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। হঠাৎ অনেকের ঠোঁট ফুলে যায়। আবার কিছু দিন পর পরই কেউ কেউ এ সমস্যায় পড়েন। এমনটি হলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। ঠোঁট ফুলে গেলে ঠোঁটের স্বাভাবিক পুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। একে কোনও ভাবেই অবহেলা করা যাবে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ফারুক হোসেন।



কেন ঠোঁট ফুলে

১. সংক্রমণ যেমন : কোল্ড সোর বা জ্বরঠোসা; ২. প্রদাহ ৩. হারপিস জিনজাইভোস্টোমাইটিস ৪. এলার্জিজনিত কারণে ৫. আঘাতজনিত কারণ ৬. পোকামাকড়ের কামড়ে ৭. ক্যান্সার ৮. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৯. সূর্যের আলোর প্রতিক্রিয়া বা সান বার্ন (কর্মক্ষেত্রে দেখা যায়) ১০. অ্যানাফাইলেকটিক রিঅ্যাকশন। ১১. ভাইরাসজনিত কারণে ১২. অনেক সময় কোনো প্রসাধনসামগ্রী রাতের বেলায় প্রয়োগ করলে দেখা যায় সকাল বেলা ঠোঁট ফুলে গেছে বিশেষ করে নিচের ঠোঁট। এ ক্ষেত্রে ওই প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহার চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে এবং ঠোঁট ফুলে যাওয়ার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

ঠোঁট কেন ফুলে ও এতে করণীয় কী

উপরোক্ত কারণগুলো ছাড়া কম গুরুত্বপূর্ণ যেসব কারণে ঠোঁট ফুলে যেতে পারে তা হলো—

  • এক্রোমেগলি
  • সেলুলাইটিস
  • ক্রনস্ ডিজিজ
  • অ্যাকজিমা
  • কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস
  • এনজিও ইডিমা
  • হাইপোথায়ডিজম
  • কাওয়াসাকি ডিজিজ
  • স্টিফেন জনসনস্ সিনড্রোম
  • গ্লুকাগোনামা।

করণীয়

গরম অথবা ঠাণ্ডা প্যাক প্রয়োগ

এক খণ্ড জীবাণুমুক্ত কাপড় বা গজে আইস কিউব বা বরফের টুকরা মুড়িয়ে ফুলা ঠোঁটের ওপর কিছুক্ষণ ধরে রাখতে হবে। কোল্ড প্যাক ছাড়া গরম প্যাক ও প্রয়োগ করা যেতে পারে। গরম প্যাক ফোলা জায়গায় রক্ত জমা হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং এভাবে ফোলা কমিয়ে দেয়। গরম ও ঠাণ্ডা প্যাক উপকারী শুধু যখন কোনও আঘাতের কারণে ঠোঁট ফুলে যায়।

চা পাতার ব্যাগ

ফোলা ঠোঁটে চা পাতার ব্যাগের প্রয়োগ আরেক কার্যকর উপশম পদ্ধতি। একটি টি ব্যাগ বা চা পাতার ব্যাগ কয়েক মিনিট গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। তার পর চা পাতার ব্যাগকে বের করে ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠাণ্ডা হওয়ার পর চা পাতার ব্যাগ ফুলা ঠোঁটের ওপর কয়েক মিনিট ধরে রাখতে হবে। এ পদ্ধতি ঠোঁট ফোলা কমতে সাহায্য করে থাকে।

মেডিকেটেড মলম ঠোঁটের ওপর প্রয়োগ করা যেতে পারে শুষ্কাবস্থা অবসানের জন্য। কারণ ঠোঁট ফুলে গেলে স্থানটি শুষ্ক হয়ে যায়। হারপিস ভাইরাসজনিত কারণে ঠোঁট ফুলে গেলে অবশ্যই অ্যাসাইক্লোভির গোত্রভুক্ত ওষুধ সঠিক নিয়মে নির্দিষ্ট মাত্রায় সেবন করতে হবে। এলার্জিজনিত কারণে ঠোঁট ফুলে গেলে এন্টিহিস্টামিনজাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।



দরকার হলে কর্টিকোস্টেরয়েড প্রয়োগ করা যেতে পারে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায়। কোনও কোনও সময় স্থানীয়ভাবে প্রয়োগকারী মলম ব্যবহার করা যেতে পারে। জীবাণুযুক্ত কোনও ফুলা থাকলে এন্টিবায়োটিক দরকার হতে পারে। রোগীরা বাসায় বসে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। একটি কথা মনে রাখতে হবে যে ৫ দিনের মধ্যে যদি ঠোঁট ভালো না হয়, তবে সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার।

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

এগুলো দেখুন

ব্রণ দূর করার উপায় ? ব্রণ ও ব্রণের কালো দাগ দূর

ব্রণ দূর করার উপায় ? ব্রণ ও ব্রণের কালো দাগ দূর

দুর্বা ডেস্ক:  ব্রণ বা অ্যাকনি বাড়িতে ঢাকা মেডিকেলে পরিভাষায় বলি যেটা শুনে খুব কমন একটা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *