জেনে নিন প্রেসার কমানোর ৬ উপায় সম্পর্কে। আসুন এ বিষয়ে আজকে আলোচনা করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। আসলে আমাদের প্রতিটি মানুষের শরীরে প্রেশার (Pressure) রয়েছে। এক্ষেত্রে রক্তনালীর মধ্যে দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় রক্তনালীর দেওয়ালে যেই চাপ তৈরি হয় তাকে বলা হয় রক্তচাপ (Blood Pressure)। এই চাপ মানুষভেদে বিভিন্ন হতে পারে। এমন কী সময়ের ব্যবধানেও এই চাপ কমে বাড়ে।
এবার সকলের শরীরে ব্লাডপ্রেশার আছে, এই কথাটা সত্যি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রেশার বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে একাধিক রোগ দেখা দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই প্রতিটি মানষকে অবশ্যই এই বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়। এক্ষেত্রে ব্লাডপ্রেশার বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেশার হল নিঃশব্দ ঘাতক। সহজে বোঝা যায় না আপনার শরীরে এই সমস্যা আছে কিনা।
- আরো পড়ুন: বারবার পানি তৃষ্ণা পাচ্ছে কেন? শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধছে না তো!
- আরো পড়ুন: চোখের পাতা কাঁপে কেন? জানুন আসল কারণ
- আরো পড়ুন: পাইলস রোগ সম্পর্কে জানুন
কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগের তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। শরীরের অন্দেরই বাড়তে থাকে এই রোগ। তারপর একটা সময় সমস্যা খুব বাড়লে লক্ষণ প্রকট হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে মাথা ব্যথা, খুব ঘেমে যাওয়া, মাথা ঘোরানো ইত্যাদি সমস্যা। তাই প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
ব্লাডপ্রেশার একটি ঘাতক রোগ। এই রোগটি শরীরে নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। স্ট্রোক (Stroke) থেকে শুরু করে হার্টের নানা সমস্যা। এমনকী কিডনি ও চোখের ক্ষতি করতে পারে এই রোগ। তাই প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই এই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, আপনার যদি এই রোগটি থাকে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেই হবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার পাশাপাশি আপনাকে এমন কিছু কাজ করতে হবে যাতে এই রোগ কমে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা ও ওষুধের পাশাপাশি বেশকিছু পরিবর্তনও করতে হবে।
তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রেসার কমানোর ৬ উপায় সম্পর্কে:
মদ্যপান ছাড়ুন
মদ্যপান (Drinking) শরীরের পক্ষে খুবই খারাপ। কিন্তু মদ্যপান করলে যে ব্লাডপ্রেশারও বাড়ে, এই বিষয়টিও প্রতিটি মানুষকে মাথায় রাখতে হবে। তাই মদ্যপান প্রেশার আক্রান্ত রোগীর শরীরে সমস্যা তৈরি করতে পারে। অনেকেই ভাবেন, কম পরিমাণে মদ্যপান করলে বুঝি সমস্যা দেখা দেয় না। যদিও বিষয়টি একেবারেই তেমন নয়। বরং অল্প মদ্যপানেও দেখা দিতে পারে সমস্যা। এমনকী এর থেকে ওজনও বাড়তে পারে। তাই প্রেশার বেড়ে গিয়ে থাকলে রক্তচাপ কমাতেই হবে। তবেই ভালো খাকবে শরীর। রক্তচাপ থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
ধূমপান নয়
ধূমপান শরীরে তৈরি করতে পারে মহা সমস্যা। তাই প্রতিনিয়ত মানুষকে ধূমপান ছাড়ার কথা বলা হয়। এক্ষেত্রে ধূমপান (Smoking) ক্যানসার থেকে শুরু করে নানা গুরুত্বপূর্ণ রোগের পিছনে কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ধূমপান করার পরও মানুষের শরীরে রক্তচাপ অনেকটাই বাড়ছে। তাই প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই ছাড়তে হবে ধূমপান। তবেই ভালো থাকতে পারবেন। এবার একটাও ধূমপান নয়।
ম্যাগনেশিয়াম
শরীরে ব্লাডপ্রেশার কমাতে পারে ম্যাগনেশিয়াম। অন্তত এমনটাই উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ডায়েটে ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার থাকলে অনেক সমস্যার হয় সমাধান। এমন কী উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই এই খাবার পাতে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সবজি, ডার্ক চকোলেট, কলা, ব্রাউন ব্রেড ইত্যাদি খাবারে ভালো পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম থাকে।
পটাশিয়াম
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আপনার অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে পটাশিয়াম। এক্ষেত্রে শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য রাখার কাজে পটাশিয়াম ভালো কাজ কর। তাই রক্তচাপ থাকে নিয়ন্ত্রণে। তাই প্রতিটি মানুষকেই থাকতে হবে সতর্ক। এক্ষেত্রে পটাশিয়াম রক্তনালীর চাপও অনেকটাই কমাতে পারে। তাই প্রেশারের সমস্যা থাকলে আপনাকে অবশ্যই এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আলু, কমলালেবু, মাশরুম ইত্যাদি খাবারে ভালো পরিমাণে এই উপাদান থাকে।
- আরো পড়ুন: নারিকেল তেল-দারুচিনিতে ব্রণ নিরাময়
- আরো পড়ুন: অ্যালার্জির কারণে ত্বকে র্যাশ হলে করণীয়
- আরো পড়ুন: ত্বকের সুরক্ষায় লবণের ব্যবহার
এক্সারসাইজ
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে আপনাকে রোজ অন্তত আধা ঘন্টা ব্যায়াম করতেই হবে। এক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ব্যায়াম (Exercise) করতে হবে। তবেই নিয়ন্ত্রণে থাকে প্রেশার। এক্ষেত্রে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ব্যায়াম (Exercise) করার পর শরীরে এমন কিছু হর্মোন বেরয় যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া ব্যায়াম আপনার শরীরে রক্তপ্রবাহ সঠিক রাখতেও পারে। তাই এই বিষয়টিও অবশ্যই মাথায় রাখুন। এক্ষেত্রে নাচ, দৌড়ানো, হাঁটা ইত্যাদি এক্সারসাইজ করা যেতে পারে।
নুন নয়
সোডিয়াম বা নুন শরীরে জল ধরে রাখতে পারে। এর ফলে রক্তনালীতে চাপ বাড়ে। এই কারণেই আপনাকে আপনাকে অবশ্যই নুন খাওয়া ছাড়তে হবে। এক্ষেত্রে সরাসরি নুন খাওয়ার বদলে খেতে পারেন খাবারে নুন। তবে তাও সামান্য পরিমাণে। সবচেযে ভালো হয় একদম ছেড়ে দিতে পারলে।
যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন। এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।
Durba TV academic Website