ব্যবসায় উদ্যোগের সৃজনশীল অনুধাবনমূলক প্রশ্নর উত্তর (ফ্রি PDF)

ব্যবসায় উদ্যোগের সৃজনশীল অনুধাবনমূলক প্রশ্নর উত্তর (ফ্রি PDF)

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ॥ ১ ॥ অংশীদারি ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব অংশীদারদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়।

তবে যে সকল অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধিত হয়, সেগুলো অনিবন্ধিত ব্যবসায় থেকে বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করে থাকে। নিবন্ধিত হলেও এ ব্যবসায়ে কোনো আইনগত সত্তার সৃষ্টি হয় না।

ফলে ব্যবসায় নিজস্ব নামে পরিচালিত হতে পারে না। ব্যবসায়ের সকল লেনদেনও অংশীদারদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে হয়েছে বলে ধরা হয়। পৃথক আইনগত সত্তা না থাকায় এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব অংশীদারদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।

প্রশ্ন ॥ ২ ॥ যৌথ মূলধনী কোম্পানি একটি আইনসৃষ্ট ব্যবসায় সংগঠন ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : যৌথ মূলধনী কোম্পানি একটি আইনসৃষ্ট ব্যবসায় সংগঠন। দেশের প্রচলিত কোম্পানি আইনের আওতায় এ ব্যবসায় গঠিত হয়। আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে হয় বলে এর গঠন বেশ জটিল ও আনুষ্ঠানিকতাপূর্ণ।

আইন অনুযায়ী এর সদস্য সংখ্যা নির্ধারিত। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন এবং পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৭ জন এবং সর্বোচ্চ সংখ্যা শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ।

প্রশ্ন ॥ ৩ ॥ সমবায় সমিতি গঠন প্রক্রিয়ার উদ্যোগ গ্রহণ পর্যায় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : প্রাথমিক সমবায় সমিতি গঠন করতে চাইলে সমমনা, সমশ্রেণি, সমপেশা ও সমমর্যাদার প্রাপ্তবয়স্ক ন্যূনতম ২০ জন মানুষ স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হয়।

এসব উদ্যোক্তা নিজেদের মধ্য থেকে ৬ জনকে নিয়ে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে। উক্ত কমিটি নিবন্ধনসহ সমবায় সমিতি গঠনের জন্য একটি উপবিধি তৈরি করে। উপবিধিতে সমবায় সমিতির নাম, ঠিকানা, উদ্দেশ্য, মূলধনের পূর্ণ বিবরণ,

শেয়ারের মূল্যমান ও সংখ্যা, শেয়ার বিক্রয় পদ্ধতি, উদ্যোক্তাদের নাম, ঠিকানা ও পদবি এবং সমিতি পরিচালনার নিয়ম উল্লেখ থাকে। সমিতির জন্য একটি সীলমোহরও তৈরি করতে হয়। সমিতি সসীম দায়বিশিষ্ট হলে নামের শেষে লিঃ কথাটি লিখতে হয়।

প্রশ্ন ॥ ৪ ॥ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : সাধারণত দেশে অধিক শিল্পায়ন, অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক সম্পদসহ সকল সম্পদের সুষম বণ্টন ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে জনকল্যাণমূলক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে।

প্রশ্ন ॥ ৫ ॥ ব্যবসায়ের স্বাধীন সত্তা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : ব্যবসায়ের স্বাধীন সত্তা হলো মালিক থেকে ব্যবসায়ের পৃথক সত্তা। অর্থাৎ ব্যক্তি না হয়েও যখন কোনো কিছুর ব্যক্তির ন্যায়

মর্যাদা ও অধিকার থাকে। ব্যবসায়ের স্বাধীন সত্তা থাকলে যে সকল সুবিধা পাওয়া যায় তা হলো নিজ নামে পরিচিত ও পরিচালিত হওয়া, নিজ নামে অন্যের সাথে চুক্তি করতে পারা, নিজ নামে অন্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারা ইত্যাদি।

প্রশ্ন ॥ ৬ ॥ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠনের মূল উদ্দেশ্যটি সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ সাধন করা। অর্থাৎ জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্যই রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন গঠিত হয়। তাই জনকল্যাণমূলক প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।

প্রশ্ন ॥ ৭ ॥ সীমিত অংশীদারি ব্যবসায় বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : চুক্তি অনুযায়ী ব্যবসায়ের কোনো অংশীদারের দায় সীমাবদ্ধ হলে বা আইনগতভাবে সকল অংশীদারের সম্মতিক্রম কোনো নাবালককে সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা হলে এরূপ অংশীদারকে সীমিত অংশীদার বলা হয়।

প্রশ্ন ॥ ৮ ॥ অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : সরকার কর্তৃক নিয়োজিত অংশীদারি নিবন্ধনের অফিসে অংশীদারি ব্যবসায়ের নাম তালিকাভুক্ত রাখাকে অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলে।

এ পদ্ধতি অনুযায়ী নিবন্ধনের অফিস থেকে আবেদন পত্র সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণের পর নির্ধারিত ফিসহ জমা দিয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হয় এবং নিবন্ধক পত্র দিয়ে নিবন্ধনের বিষয় জানিয়ে দেন। এটাই অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন।

প্রশ্ন ॥ ৯ ॥ সাধারণ অংশীদার বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে এবং সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে

এবং অসীম দায় বহন করে তাকে সাধারণ অংশীদার বলে। এরূপ অংশীদারের ব্যবসায়ে কর্তৃত্ব, কার্যগত দায়িত্ব অসীম থাকে। এরূপ অংশীদারের মৃত্যু বা দেউলিয়ায় ব্যবসায়ের বিলুপ্তি ঘটতে পারে।

প্রশ্ন ॥ ১০ ॥ কোম্পানির গঠনতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : যে আইন বা গঠনতন্ত্র অনুসারে কোম্পানি গঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে কোম্পানির গঠনতন্ত্র বলে। আমাদের দেশে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোম্পানি গঠিত ও পরিচালিত হয়।

প্রশ্ন ॥ ১১ ॥ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ এবং যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয় তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে। এ কোম্পানির সদস্য কেবল নিজেরাই শেয়ার ক্রয় করতে পারেন। আইন অনুযায়ী এ কোম্পানির পরিচালকের সংখ্যা ২ জন হয়ে থাকে।

প্রশ্ন ॥ ১২ ॥ বহুমুখী সমবায় সমিতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : একাধিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কোনো সমবায় সমিতি গঠিত হলে তাকে বহুমুখী সমবায় সমিতি বলে।

বহুমুখী সমবায় সমিতি উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয়, ঋণদান ইত্যাদি বিভিন্ন উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গঠিত হতে পারে। এ ধরনের সমবায় সমিতির উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গঠিত হতে পারে। কারণ এ ধরনের সমবায় সমিতির সীমিত নয়।

প্রশ্ন ॥ ১৩ ॥ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : কয়েকটি প্রাথমিক সমবায় সমিতির সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি বলে। এতে কোনো ব্যক্তি সদস্য হতে পারে না। কমপক্ষে ১০টি প্রাথমিক সমবায় সমিতি মিলে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি গঠন করা হয়।

প্রশ্ন ॥ ১৪ ॥ শেয়ার কাকে বলে?
উত্তর : কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে শেয়ার বলে। কোম্পানি একটি বৃহদায়তন সংগঠন যেখানে অধিক পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়।

কোম্পানির এ বৃহৎ মূলধনকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়। এ এক একটি ভাগকে কোম্পানির শেয়ার বলে। যেমন : ১০ টাকার শেয়ার, ২০ টাকার শেয়ার। শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে কোম্পানির মালিকানা লাভ করা যায়।

প্রশ্ন ॥ ১৫ ॥ একচেটিয়া ব্যবসায়ের ধারণা দাও।
উত্তর : যে ব্যবসায়ের কোনো প্রতিযোগী থাকে না তাকে একচেটিয়া ব্যবসায় বলে। সরকার বেশ কিছু ব্যবসায়কে এককভাবে ব্যবসায় পরিচালনার অনুমতি প্রদান করে থাকে।

সেক্ষেত্রে অন্য কোনো প্রতিযোগী ঐ বাজারে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে এককভাবে ব্যবসায়টি পণ্য বা সেবা মূল্য নির্ধারণ করতে পারে। এরূপ ব্যবসায়কে একচেটিয়া ব্যবসায় বলে। যেমন : বাংলাদেশ রেলওয়ে।

প্রশ্ন ॥ ১৬ ॥ জাতীয় সম্পদের ধারণা দাও।
উত্তর : যে সম্পদের মালিক কোনো ব্যক্তি হতে পারে না, বরং রাষ্ট্র বা সরকার ঐ সম্পদের মালিকানা লাভ করে তাকে জাতীয় সম্পদ বলে। এক কথায় সরকারি মালিকানাধীন সকল সম্পদই হলো জাতীয় সম্পদ। যেমন : খনিজ সম্পদ, বনজ সম্পদ ইত্যাদির মালিকানা কেবল সরকারই লাভ করতে পারে। এসব সম্পদ দেশের জনকল্যাণে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন ॥ ১৭ ॥ একমালিকানা সংগঠনকে ব্যবসায় জগতের মুরব্বি বলা হয় কেন?
উত্তর : ব্যবসায় সংগঠনগুলোর আবির্ভাব মধ্যযুগ থেকে। মধ্যযুগে ব্যবসায় সংগঠন হিসেবে প্রথম আবির্ভাব ঘটে একমালিকানা সংগঠনের। একমালিকানা সংগঠন ব্যবসায় জগতের প্রথম এবং প্রাচীনতম সংগঠন হওয়াতে এটিতে ব্যবসায় জগতের মুরব্বি বলা হয়।

প্রশ্ন ॥ ১৮ ॥ একমালিকানা ব্যবসায়ের আয়তন ছোট হয় কেন?
উত্তর : একমালিকানা ব্যবসায় একটি ক্ষুদ্রায়তনের ব্যবসায়। একজন ব্যক্তি সামান্য মূলধন নিয়েই একমালিকানা সংগঠন গড়ে তুলতে পারে। একক ব্যক্তির প্রচেষ্টায় গঠিত ও পরিচালিত হয় বলে একমালিকানা ব্যবসায়ের আয়তন ছোট হয়।

প্রশ্ন ॥ ১৯ ॥ অংশীদারি ব্যবসায়ে চুড়ান্ত সদ্বিশ্বাস বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : অংশীদাররা চুক্তিবদ্ধ হলেই অংশীদারি ব্যবসায়ে চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের জন্ম হয়।

এ চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের কারণে অংশীদাররা ব্যবসায় সংক্রান্ত বিষয়ে একে অন্যের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের বলে যেমন অংশীদারি ব্যবসায়ের সৃষ্টি হয় তেমনি এ বিশ্বাসের ঘাটতি হলে ব্যবসায়ের পরিসমাপ্তিও ঘটতে পারে।

প্রশ্ন ॥ ২০ ॥ মৌসুমি ফলের দোকান একমালিকানার অধীনে হওয়া উচিত কেন?
উত্তর : দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একমালিকানা ব্যবসায় উত্তম। মৌসুমি ফল ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু এ ব্যবসায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।

আর মালিকের সংখ্যা একাধিক থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্ব হয়। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মৌসুমি ফলের দোকান একমালিকানার অধীনে হওয়া উচিত।

প্রশ্ন ॥ ২১ ॥ একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের উৎসাহ অনেক বেশি থাকে কেন?
উত্তর : একক মালিকানা ব্যবসায়ে মালিক একজন। ফলে ব্যবসায়ের যাবতীয় আয় ও সুনাম সবকিছু মালিক একাই ভোগ করে।

ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ের উন্নয়ন কার্য ব্যক্তির উন্নয়ন বলে বিবেচিত হয়। কার্যক্ষেত্রেও তারা স্বাধীনতা ভোগ করে সব মিলিয়ে একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের উৎসাহ অনেক বেশি থাকে।

ANSWER SHEET

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

এগুলো দেখুন

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ সমবায় সমিতির প্রকারভেদ MCQ

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ সমবায় সমিতির প্রকারভেদ MCQ

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ সমবায় সমিতির প্রকারভেদ MCQ সমবায় সমিতির প্রকারভেদ সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর …

Leave a Reply

Your email address will not be published.