ছোট ও দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার পরামর্শ । আসুন পরামর্শটি আমরা বিস্তারিত জানি। দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও জবাবদিহি আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এই খাতকে রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাবমুক্ত না রাখলে ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কোনো সুফল বয়ে আনবে না বলে মনে করেন তাঁরা। এ সময় ছোট ও দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
ছোট ও দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার পরামর্শ
রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশের ব্যাংক খাত: সংস্কার ও সুশাসন’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে পরামর্শক ও গবেষণা সংস্থা ঢাকা ফোরাম বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ।
- আরো পড়ুন: বাংলাদেশে প্রচলিত এবং ইসলামী ধারার ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য কি
- আরো পড়ুন: সাধারণ ব্যাংক বনাম ইসলামী ব্যাংক
- আরো পড়ুন: HTML কি ও কেন শিখবেন?
আলোচনায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম এত বেশি ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এত ব্যাংক হলে মান থাকে না। এখন ছোট ও দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে দেয়ার সময় এসেছে। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে সীমান্ত ব্যাংকের অনুমতি দেয়া হলো। তার আগে নয়টি ব্যাংক দেয়া হয়েছিল।
আরো আগে থেকে আনসার-ভিডিপি ব্যাংক আছে। কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো দেখা যাবে নেভি ব্যাংক দেয়া হয়েছে। আস্তে আস্তে হয়তো পুলিশ অফিশিয়াল ব্যাংক, বিসিএস ক্যাডার ব্যাংক, সরকারি চাকরিজীবী ব্যাংক—এভাবে একের পর এক ব্যাংকের অনুমতি দেয়া হবে।
এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আরো বলেন, ব্যাংক খাত একেবারে ধসে গেছে তেমন নয়। তবে এই খাতে সুশাসনের অভাব আছে। সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে সব ধরনের নীতি অনুসরণে ব্যাংকগুলোর সকল পর্যায়ে বাধ্য করতে হবে। পরিস্থিতি উন্নয়নে ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ সুশাসন ও জবাবদিহি বাড়াতে রাজনৈতিক দৃঢ়তা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের মনে রাখতে হবে, ব্যাংকের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর খাতকে সব সময় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা উচিত।
ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না হয়, তা হলে সেখান থেকে সুফল আসবে না। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে এখন ৫৬টি ব্যাংক হয়েছে। বেশি ব্যাংক হওয়ার ফলে এখন সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সুশাসন নিশ্চিত করতে কিছু ব্যাংক একীভূত করা দরকার। গভর্নর থাকা অবস্থায় ব্যাংক একীভূত করার নীতিমালা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে তা নিয়ে আর কোনো কাজ হয়নি। এখন কিছু ব্যাংক একীভূত করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিজের ৫ বছর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গভর্নরকে শুধু যে রাজনৈতিক চাপে থাকতে হয় তা-ই নয়, লবিস্টরাও অনেক চাপে রাখেন।’ চাপমুক্ত হয়ে কাজ না করতে পারলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলোর সমাধান করা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি শক্ত অবস্থান নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কর্মসূচির’ কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই গভর্নর। রাজশাহীতে তাঁর এক বন্ধুর ১০ লাখ টাকার এসএমই ঋণ পেতে ভোগান্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১০ লাখ টাকা ঋণ পেতে তাঁকে ছয় মাস ঘুরতে হয়েছে। ফলে সংখ্যা দিয়ে দেখানো যাবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অনেক ঋণ পাচ্ছেন। তবে বাস্তবতা তা না।
- আরো পড়ুন: HTML কি ও কেন শিখবেন?
- আরো পড়ুন: এইচটিএমএল টিউটোরিয়াল
- আরো পড়ুন: HTML কেন ব্যাবহার করা হয় এর কোডিং কিভাবে করে
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি জোরদার ও ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসানো হয়েছে।
গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য দেন মেঘনা ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ নুরুল আমিন, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমডি মশিউর রহমান, সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মঈনুদ্দীন, বিআইবিএমের মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ফারুক সোবহান, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।
যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন। এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।
Durba TV academic Website