(ফ্রি PDF) SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- (যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন)
নবাবপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে রহমত আলী চেয়ারম্যান হিসাবে আছেন। কোনোভাবেই নির্বাচন হতে দেন না। এবার সব বাধা পার করে এলাকার লোকজন নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। নির্বাচনে উক্ত চেয়ারম্যানকে পরাজিত করতে কয়েকটি দল একত্রিত হয়ে একজনকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণের সামনে তারা নির্বাচন-পূর্ব বেশ কয়েকটি দফা উপস্থাপন করেন। নির্বাচনে তাদের মনোনীত ব্যক্তি জিতলেও কিছুদিন পর কর্তৃপক্ষ উক্ত নির্বাচন বাতিল করে।
ক. কার নেতৃত্বে গণআজাদী লীগ গঠিত হয়?
খ. পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে যে বৈষম্য ছিল তার বিবরণ দাও।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচন তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করছে? তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উল্লিখিত রহমত আলীর মতো শাসকগোষ্ঠী বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না” উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
- উত্তর ডাউনলোড করুন> SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (ফ্রি PDF)
- উত্তর ডাউনলোড করুন> SSC পূর্ব বাংলার আন্দোলন:গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর (PDF)
- উত্তর ডাউনলোড করুন>SSC পূর্ব বাংলার আন্দোলন সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (ফ্রি PDF)
- উত্তর ডাউনলোড করুন>SSC:পূর্ব বাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান
- উত্তর ডাউনলোড করুন> SSC ব্যবসায় উদ্যোগ:অনুধাবন ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (PDF)
- উত্তর ডাউনলোড করুন> নবম-দশম শ্রেণি ব্যবসায় উদ্যোগ:সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (ফ্রি PDF)
- উত্তর ডাউনলোড করুন> নবম-দশম শ্রেণি:দ্বিতীয় অধ্যায় MCQ (উত্তরসহ ফ্রি PDF)
সৃজনশীল প্রশ্নর উত্তর
ক ১৯৪৭ সালে কামরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গণআজাদী লীগ গঠিত হয়।
খ পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় এগিয়ে ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিগুণের বেশি লাভ করতে থাকে। ফলে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
গ উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচন আমার পাঠ্যবইয়ের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শাসক দল মুসলিম লীগ দীর্ঘদিন নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানা পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগ যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২১ দফা প্রণয়ন শেষে ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১-দফাকে তাদের স্বার্থ রক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
এই নির্বাচনে পূর্ববাংলার জনগণ পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্ব ও প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার রায় প্রদান করে। কিন্তু যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল। পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি।
তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। আদমজি পাটকল ষড়যন্ত্রের একপর্যায়ে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের নির্বাচন যেন যুদ্ধফ্রন্ট নির্বাচনেরই পুনরাবৃত্তি।
ঘ উল্লিখিত রহমত আলীর মতো শাসকগোষ্ঠী বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। বস্তুত গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরে যারা ক্ষমতায় থাকতে চায়, তারা টিকতে পারে না। বরং কখনো কখনো দেখা যায় এ ধরনের সরকার অগণতান্ত্রিক উপায়েই ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হয়। যেমন উদ্দীপকে রহমত আলীর মতো পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে যায় নি।
অতঃপর ’৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলও নষ্ট করে। নির্বাচিত যুক্তফ্রন্টকে বরখাস্ত করে। অথচ এরা ১৯৫৮ সালে সামরিক জান্তার রোষানলে পড়ে। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে নস্যাৎ করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক সামরিক-বেসামরিক শাসক গোষ্ঠী তৎপরতা চালিয়ে যেতে থাকে।
ফলে সংসদ ও সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। কেন্দ্রে এবং প্রদেশে ঘন ঘন সরকারের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী ক্ষমতা দখলের সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের পরস্পর বিরোধী এমএলএদের মধ্যে মারামারির মতো এক অপ্রীতিকর ঘটনায় ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীকালে হাসপাতালে মারা যান।
এরই সুযোগ নিয়ে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সারা দেশে সামরিক আইন জারি করেন। পরিশেষে আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি জনসমর্থনহীন অগণতান্ত্রিক সরকার কোনোভাবেই বেশিদিন ক্ষমতায় টিকতে পারে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে তাদের অপসারণ হয় মর্মন্তুদ।
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ
অমি তার দাদুর সাথে বসে এমন একটি যুদ্ধের তথ্যচিত্র দেখছিল যার ব্যাপ্তিকাল ছিল ১৭ দিন। এটি ছিল ‘ক’ রাষ্ট্র ও ‘খ’ রাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ। ‘ক’ রাষ্ট্রের একটি অংশ যুদ্ধে লিপ্ত হলেও অপর অংশটি ছিল ভীষণ বিপদের মুখে। এই বিপদের সময় তারা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের জাগরণ অনুভব করে এবং অধিকার রক্ষায় সচেতন হয়ে ওঠে।
ক. ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নতুনভাবে কী নামে গঠিত হয়?
খ. “পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল নগণ্য।”Ñ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন যুদ্ধের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর উক্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ছয়-দফার উৎপত্তি?Ñযুক্তিসহ তোমার মতামত উপস্থাপন কর।
সৃজনশীল প্রশ্নর উত্তর
ক ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নতুনভাবে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামে গঠিত হয়।
খ পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল অতি নগণ্য। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল ব্যাপক। ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ে ৮১% পশ্চিম পাকিস্তানি নিয়োজিত ছিল। পূর্ব পাকিস্তানের ছিল মাত্র ১৯%।
তদ্রƒপ দেশরক্ষায় ছিল মাত্র ৮.১%, শিল্পখাতে ২৫.৭%, স্বরাষ্ট্র খাতে ২২.৭%, তথ্য খাতে ২০.১%, শিক্ষা খাতে ২৭.৩%, স্বাস্থ্য খাতে ১৯%, আইনে ৩৫% এবং কৃষিতে পূর্ব পাকিস্তানি ছিল মাত্র ২১%। প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের অংশগ্রহণের এ শতকরা হিসাবই প্রমাণ করে পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য।
গ উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের সাথে পাঠ্যপুস্তকের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের মিল রয়েছে। ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ ১৭ দিন ধরে অব্যাহত ছিল। উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধেরও ব্যাপ্তিকাল ছিল ১৭ দিন। এটি ছিল ‘ক’ রাষ্ট্র ও ‘খ’ রাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ। ‘ক’ রাষ্ট্রের একটি অংশ যুদ্ধে লিপ্ত হলেও অপর অংশটি ছিল ভীষণ বিপদের মুখে।
এই বিপদের সময় তারা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের জাগরণ অনুভব করে এবং অধিকার রক্ষায় সচেতন হয়ে ওঠে। অনুরূপভাবে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধেও পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণরূপে অরক্ষিত ছিল। বিষয়টি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বৈষম্যমূলক মনে হয়েছিল।
ঘ আমি মনে করি উক্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তথা ’৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষিতেই ছয় দফার উৎপত্তি। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পূর্ব পাকিস্তান কেবল নিজেদের অরক্ষিতই পায় নি, বরং এ সময় ‘ইসলাম বিপন্ন হওয়া’, রবীন্দ্র সঙ্গীতকে ‘হিন্দু সংস্কৃতি’, নজরুল ইসলামের গানে ‘হিন্দুয়ানি’র অভিযোগ তুলে এসবের চর্চা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়।
পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ নিজেদের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হতে থাকে।
অতঃপর পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে ৬ দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামায়। এ প্রেক্ষিতে আমি মনে করি, ’৬৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ছয় দফার উৎপত্তি।
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- ভাষা আন্দোলনের প্রভাব
আঁখি তার বন্ধু লুসির জন্মদিনের শুভেচ্ছায় বাংলায় ‘শুভ জন্মদিন’ লিখে পাঠিয়ে গর্ববোধ করে। পাশ্চাত্য ভাবধারায় বেড়ে ওঠা লুসি তার কাজটি সমর্থন করতে পারে নি। সে ইংরেজিতে প্রচলিত শব্দ ‘ঐঅচচণ ইওজঞঐ উঅণ’ আশা করেছিল।
ক. কত সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়?
খ. জাতীয়তাবোধ বলতে কী বোঝায়?
গ. আঁখির মানসিকতায় ঐতিহাসিক কোন ঘটনার ইংগিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর লুসির চিন্তাচেতনা বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের অন্তরায়? যুক্তিসহ লেখ।
সৃজনশীল প্রশ্নর উত্তর
ক ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়।
খ ‘জাতীয়তাবোধ’ এক ঐক্যের অনুভূতি। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে যখন ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক সকলের মধ্যে অনুভূত হয়, যখন নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তারা উপলব্ধি করে তখন যে ঐক্য চেতনা অনুভূত হয় তাই জাতীয়তাবোধ ।
গ আঁখির মানসিকতায় ভাষা আন্দোলনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। কারণ ভাষা আন্দোলনের মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করা, বাঙালির মুখের ও লেখার ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। মূলত ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানিদের ওপর নানা ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করে।
পুরো পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬ শতাংশ জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে এই আন্দোলন ব্যাপক রূপলাভ করে।
এই আন্দোলনে সালাম, বরকত, রফিকসহ আরও অনেকে শহিদ হন। অবশেষে শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের দাবি মেনে নেয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, আঁখি তার বন্ধু লুসির জন্মদিনের শুভেচ্ছায় বাংলায় ‘শুভ জন্মদিন’ লিখে পাঠায়। এ বিষয়ের মাধ্যমে আঁখির মানসিকতায় ভাষা আন্দোলনের প্রভাব ফুটে ওঠে।
ঘ আমি মনে করি লুসির চিন্তা চেতনা বাংলা ভাষা বিকাশের অন্তরায়। ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধিকার আন্দোলন। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ ছিল এই ভাষা আন্দোলন। ভাষার জন্য শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এবং আরও অনেকে।
আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করা এবং পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা। বহু ত্যাগ তিতিক্ষার পর আমরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে পেয়েছি। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। বিশ্বের ইতিহাসে অনন্যসাধারণ ঘটনা হিসেবে আমাদের ভাষা ও শহিদ দিবস আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে।
ভাষা আন্দোলনের এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আঁখি তার বন্ধু লুসিকে জন্মদিনে বাংলায় ‘শুভ জন্মদিন’ লিখে পাঠায়। পাশ্চাত্য ভাবধারায় বেড়ে ওঠা তার বন্ধু লুসি ইংরেজিতে প্রচলিত শব্দ ‘ঐঅচচণ ইওজঞঐ উঅণ’ আশা করেছিল।
বাংলা ভাষা চর্চা না করে বিদেশি ভাষা চর্চা করলে নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিসর্জন দেওয়া হয়। বাংলা ভাষার বিকশিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। এতে বাংলা ভাষার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়। এতে বাঙালি চেতনাবোধ নষ্ট হয়ে যায়। অথচ লুসির চিন্তা চেতনা তেমনই। সুতরাং লুসির চিন্তাচেতনা বাংলা ভাষা বিকাশের অন্তরায়।
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- ভাষা আন্দোলন
প্রভাত ফেরি, প্রভাত ফেরি আমায় নিবে সঙ্গে
বাংলা আমার বচন আমি জন্মেছি এই বঙ্গে।
আগামীকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে রাতুল আবৃত্তি করবে। তার মা কবিতাটি শেখাচ্ছেন। রাতুলের আবৃত্তি শুনে বৃদ্ধ দাদু মোশারফ সাহেবের তার ছাত্রজীবনের একটি আন্দোলনের কথা মনে পড়ে গেল। ফেব্রুয়ারি মাসের সেই দিনে ঢাকা শহরে ছাত্রজনতা বিশাল মিছিল নিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। শুরু হয় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ। সেই গোলাগুলিতে অনেকে শহিদ হন।
ক. ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় কবে?
খ. ‘তমদ্দুন মজলিস’ সংগঠনটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের মোশারফ সাহেবের মনে পড়া আন্দোলনটির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে উক্ত আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছে’ তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নর উত্তর
ক ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রাতে।
খ সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে ওঠা তমদ্দুন মজলিসের উদ্দেশ্য ছিল মূলত বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ৬-৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উক্ত সংগঠনের যুবকর্মী সম্মেলনে ‘বাংলাকে শিক্ষা ও আইন আদালতের বাহন’ করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
১৫ সেপ্টেম্বর এই সংগঠন ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। এ সময়ে তমদ্দুন মজলিস ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে। অর্থাৎ তমদ্দুন মজলিসের উদ্দেশ্য ছিল মূলত ভাষার দাবি আদায় করা।
গ উদ্দীপকে মোশারফ সাহেবের মনে পড়া আন্দোলনটি হলো বাঙালির মাতৃভাষা আন্দোলন। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা না করার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) তৎকালীন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’
২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও তিনি অনুরূপ ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ ‘না, না’ বলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন। প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে।
৪ ফেব্র“য়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ২১ ফেব্র“য়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু ২০ ফেব্র“য়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্র“য়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে গুলি করে। এতে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন, আহত হন।
উদ্দীপকে মোশারফ সাহেবের এ ঘটনাই মনে পড়ে যায়। বস্তুত ১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপ নেয়। ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
ঘ উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ বাঙালির মাতৃভাষা আন্দোলনই বাঙালির মধ্যে জাতীয়তাবাদের চেতনা জাগ্রত করে। ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান এ দুটি অংশ নিয়ে গড়ে ওঠে পাকিস্তান রাষ্ট্র। তবে শুরু থেকেই পাকিস্তানের শাসনভার পশ্চিম পাকিস্তানের ধনিক গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় পূর্ব বাংলার সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থাকে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের করায়ত্ত করতে শুরু করে।
এর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ প্রতিবাদ ও আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলে। মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপলাভ করে। ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ভাষা আন্দোলন এ দেশে মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
অর্থাৎ বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে। পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মোহ ছিল তা দ্রুত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- ভাষা আন্দোলন
ক. ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় মোট আসামির সংখ্যা কত ছিল?
খ. ভিশন-২০২১ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের এগিয়ে যাওয়ার একটি কারণ বর্ণনা কর।
গ. উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রটি আমাদের কোন ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়? আলোচনা কর।
ঘ. উক্ত ঘটনাটি বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে অসামান্য অবদান রাখে বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নর উত্তর
ক ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ছিল ৩৫ ।
খ ভিশন-২০২১ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার এগিয়ে যাওয়ার একটি কারণ হচ্ছে, উন্নয়নের জন্য নীতিগত ভিত্তি প্রস্তুত করা। যেকোনো জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য একটি নীতিগত ভিত্তি প্রয়োজন হয়। সরকার অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধন করে একটি উন্নয়ন কাঠামো প্রস্তুতের প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা ও প্রকল্প প্রয়োজন হয়। এ আলোকে সরকার “বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১” শীর্ষক পরিকল্পনা দলিল প্রস্তুত করেছে। ফলে সরকার ভিশন ২০২১ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এগিয়ে গিয়েছে।
গ উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্র ‘শহিদ মিনার’ আমাদের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা সমাবেশ, মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা না করা নিয়ে অনেক আলোচনা শেষে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল এগিয়ে চলে।
পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন, অনেকে আহত হন। ঢাকায় ছাত্রহত্যার খবর দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশাল শোক র্যালি বের হয়।
এখানে পুলিশের হামলায় শফিউর নামে একজনের মৃত্যু হয়। শহিদদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকায় ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রজনতা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে। ২৩ ফেব্রুয়ারি শফিউরের পিতাকে দিয়ে প্রথম শহিদ মিনার উদ্বোধন করা হয়। ২৪ তারিখ পুলিশ উক্ত শহিদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে সেখানেই চিত্রে প্রদত্ত শহিদ মিনারটি নির্মিত হয়। যা চিরকাল আমাদের মনে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।
ঘ ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে অসামান্য অবদান রাখে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর পঞ্চাশের দশক ব্যাপী ছিল বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিকাল। ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। এ আন্দোলন এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
এ আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তোলে। পাকিস্তানি শাসনপর্বে এটি তাদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন। বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে। পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মোহ ছিল তা দ্রুত কেটে যেতে থাকে।
নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই জাতীয়বাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- যুক্তফ্রন্ট গঠন, নির্বাচন ও সরকার
‘ক’ রাষ্ট্রের একটি প্রদেশের জনগণ পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন করে আসছে। তাই আগামী প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে কয়েকটি দল জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নিতে যাচ্ছে। সংবাদপত্রে এ ধরনের একটি সংবাদ পড়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী নাসরিন তার পাঠ্যবইয়ে পড়া একটি নির্বাচনের সাথে এই নির্বাচনের মিল খুঁজে পেল। সেই সাথে প্রত্যাশা করল এই নির্বাচনের পরিণতি যেন পাঠ্যপুস্তকের সেই নির্বাচনের মতো না হয়।
ক. কোন সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে?
খ. আইয়ুব খান প্রবর্তিত মৌলিক গণতন্ত্রের ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
গ. নাসরিন তার পড়া কোন নির্বাচনের সাথে দৃশ্যকল্পের নির্বাচনের মিল খুঁজে পেল? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উক্ত নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।”Ñ উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নর উত্তর
ক ১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
খ সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র নামে একটি ব্যবস্থা চালু করেন। আইয়ুব খান প্রবর্তিত মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায়
পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করার ব্যবস্থা রাখা হয়। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়। এটি ছিল পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিমূলক ব্যবস্থা।
গ নাসরিন তার পড়া ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের সাথে দৃশ্যকল্পের নির্বাচনের মিল খুঁজে পেল। ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগ যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল। পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, নাসরিনের পাঠ্যপুস্তকে পড়া নির্বাচনটি হলো ১৯৫৪ সালের অনুষ্ঠিত পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন।
ঘ ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে। ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ববাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে শতকরা ৩৭ ও ১৯ ভাগ ভোটার ভোট দেয়। মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায়, বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা পূর্ববাংলায় মুসলিম লীগকে আর চায় না। যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের জনপ্রিয়তা, বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা পূর্ববাংলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির পথ সুগম করে। কারণ, অনেক তরুণ নেতার কাছে মুসলিম লীগের বড় বড় নেতৃত্বের পরাজয় ঘটে।
এছাড়া, যুক্তফ্রন্টের মধ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগের সর্বোচ্চ আসন লাভ ভবিষ্যতে তাদের পূর্ববাংলায় বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত বহন করে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ববাংলার রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ ধারার সৃষ্টি হয়। সর্বোপরি, এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগ ও অবাঙালি নেতৃত্বের প্রতি বাঙালির মনে ব্যাপক অনাস্থা জন্মায়।
তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। ফলে, বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে বাংলা ভাষাভাষী জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- ভাষা আন্দোলন
২১ ফেব্র“য়ারি উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে চলছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। একটি টিভি রিপোর্টে দেখা গেল দুজন বিদেশি নাগরিকও শহিদ মিনার পরিষ্কার করছেন। তারা কেন এ কাজ করছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বললেন, বাঙালির এমন বীরত্বগাথা কাজে অংশগ্রহণ করতে পেরে তারা নিজেদেরকে ধন্য মনে করছেন। তারা আরও বললেন, বাঙালির একুশ আজ শুধু বাংলাদেশিদের গর্ব নয়, এটি সমগ্র বিশ্বের ভাষার জন্যই গর্বের দিন।
ক. কখন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়?
খ. ভাষা আন্দোলনকে কেন বাঙালি মুক্তির প্রথম আন্দোলন বলা হয়?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত টিভি রিপোর্টে বিদেশি নাগরিকরা বাঙালির কোন বীরত্বগাথার কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিদেশি নাগরিকদের শেষের বক্তব্যটি কি তুমি সমর্থন কর? যুক্তি দেখাও।
সৃজনশীল প্রশ্নর উত্তর
ক ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়।
খ ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাদের অধিকার অর্জনের আন্দোলনের সূত্রপাত করে। তাই ভাষা আন্দোলনকে বাঙালি মুক্তির প্রথম আন্দোলন বলা হয়।
১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাঙালিরা তাদের ভাষার দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত রুখে দিয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। এটিই ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও শোষণনীতির বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রথম আন্দোলন।
- উত্তর ডাউনলোড করুন> নবম-দশম শ্রেণি:দ্বিতীয় অধ্যায় বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর(PDF)
- উত্তর ডাউনলোড করুন> নবম-দশম শ্রেণি:দ্বিতীয় অধ্যায় ব্যবসায় উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা
- উত্তর ডাউনলোড করুন> (PDF)নবম-দশম শ্রেণি:ব্যবসায় উদ্যোগ MCQ (উত্তরসহ)
- উত্তর ডাউনলোড করুন> নবম-দশম শ্রেণি :ব্যবসায় উদ্যোগ প্রথম অধ্যায় ব্যবসায় পরিচিতি
- উত্তর ডাউনলোড করুন>SSC:ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংজ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর(PDF)
- উত্তর ডাউনলোড করুন> SSC:ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংসমন্বিত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর(PDF)
গ উদ্দীপকে উল্লিখিত টিভি রিপোর্টে বিদেশি নাগরিকরা বাঙালির বীরত্বগাথা ভাষা আন্দোলনের কথা বলেছেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি ভাষার দাবিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেককে প্রাণ দিতে হয়েছে। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে কোনো জাতিকে এত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি।
তাদের প্রাণের বিনিময়ে বাঙালি ফিরে পেয়েছে মাতৃভাষার অধিকার। বাংলা ভাষা পেয়েছে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। ভাষা শহিদদের সম্মানে নির্মিত হয়েছে শহিদ মিনার। জাতীয় পর্যায়ে ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হলেও বাঙালির ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।
বাংলার ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্র“য়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। জাতিসংঘের প্রতিটি সদস্য দেশ বর্তমানে ২১ ফেব্র“য়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করছে। এটি বাঙালির এক বিরাট অর্জন।
ঘ উদ্দীপকে উল্লিখিত বিদেশি নাগরিকদের শেষের বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি। উদ্দীপকে এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বাঙালির একুশ আজ শুধু বাংলাদেশিদের গর্ব নয়, এটি সমগ্র বিশ্বের ভাষার জন্যই গর্বের দিন। বক্তব্যটিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য ধরা পড়েছে।
১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্র“য়ারি শহিদ দিবস হিসেবে দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর ২১ ফেব্র“য়ারি শহিদ মিনারে নগ্নপায়ে হেঁটে ফুল অর্পণ করে আমরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। বাঙালি জাতির কাছে দিনটি একটি শোকের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার দিন।
কানাডাপ্রবাসী কয়েকজন বাঙালির উদ্যোগ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো বাংলাদেশের ২১ ফেব্র“য়ারির শহিদ দিবসকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। পৃথিবীতে ৬০০০-এর বেশি ভাষা রয়েছে।
এসব ভাষার মানুষ সেই থেকে বাংলাদেশের শহিদ দিবসের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নিজেদের ভাষার মর্ম নতুনভাবে বুঝতে শিখেছে। আর এ প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের বিদেশি নাগরিকরা বাঙালির একুশকে বিশ্ববাসীর ভাষার জন্য গর্বের মনে করে বক্তব্য প্রদান করে। আমিও গর্বভরে তাদের এ বক্তব্য সমর্থন করি।
যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।
Durba TV academic Website