যে ১০ টি অভ্যাস আপনাকে কখনোই ধনী হতে দিবে না!

DTV Online / ১৭৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১
যে ১০ টি অভ্যাস আপনাকে কখনোই ধনী হতে দিবে না!

আমরা সকলেই চাই বড়লোক হতে। কেউ পারি আবার কেউ ব্যর্থ হই। ব্যর্থ হওয়ার পিছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। আজ আমরা আলোচনা করবো যে ১০ টি অভ্যাস আপনাকে কখনোই ধনী হতে দিবে না! তাহলে চলুন আলোচনা শুরু করা যাক।

আপনি রোজগার খারাপ করেন না। প্রতি মাসে সংসারের সব খরচ বাদ দিয়েও আপনার হাতে টাকার একটি মোটা অঙ্ক থাকার কথা। তবে সবমিলিয়ে কিছুতেই যেন মাস শেষে পকেটে টাকা থাকছে না। কোনোভাবেই টাকা জমিয়ে বিত্তবান হতে পারছেন না। দিনের পর দিন কষ্ট করে উপার্জন করেও দিন আনি দিন খাই ভাব আপনার মধ্যে।

এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে এই দশা কাটিয়ে ছন্দে ফিরবে আপনার পকেট ও ব্যাঙ্ক ব্যালান্স? এ জন্য নিজেকে নিয়ে ভাবুন। আর খেয়াল করুন, ১০ টি অভ্যাস আপনার মধ্যে রয়েছে কি না, যেগুলো আপনার বিত্তবান হওয়ার পিছনে বড় বাধা হয়ে আছে। চলুন দেখে নেই সেই ১০ টি অভ্যাস যেগুলো আপনাকে ধনী হতে দিচ্ছে না।

যে ১০ টি অভ্যাস আপনাকে কখনোই ধনী হতে দিবে না!

১. মোবাইলে কেউ ফোন করলে কথা না বলা

আমরা ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের যুগে বসবাস করছি। প্রায় সব ধরনের কাজেই আমরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করি। কিন্তু কিছু মানুষ মোবাইল ফোনে কথা বলতে চায় না। তাদের অফিসের কলিগ কিংবা ব্যবসায়িক পার্টনার ফোন করলে তারা ফোন রিসিভ না করে কেটে দিয়ে খুদেবার্তা কিংবা ই-মেইল পাঠায়।

কিন্তু ওই সব মানুষ ভেবেও দেখে না তাদের এই অভ্যাসের কারণে তারা জীবনে ধনী হতে পারছেন না। কারণ এমন অভ্যাস আপনার মধ্যে থাকলে আপনাকে পাশের মানুষগুলো অহংকারী ভাববে আর আপনার কাছ থেকে তারা দূরে সরে যেতে থাকবে। এ কারণে আপনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই ধনী হতে হলে আপনাকে এই অভ্যাসটি ছাড়তে হবে।


আরো পড়ুন: বিনিয়োগ করে মাত্র ৪ বছরে ৫ গুণ মুনাফা!
আরো পড়ুন: কাজু বাদাম চাষের সফলতা
আরো পড়ুন: অর্থ সঞ্চয় করার সহজ পদ্ধতি


২. পারিপার্শ্বিক অবস্থা চিন্তা না করেই অন্যের কথায় সিদ্ধান্ত নেয়া

কোনও কাজে হাত দেয়ার আগে অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নেয়া ভালো। ধনী হওয়ার জন্য আমরা অনেক সময়ই আশপাশের মানুষের পরামর্শ নিয়ে থাকি। আমাদের সমাজে একটা বিষয় প্রচলিত রয়েছে, বয়সে বড় মানেই তাঁর কথামতো চলতে হবে। আপনি অবশ্যই বড়দের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করবেন না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, বয়সে বড় হলেই একজন সব বিষয়ে ভালো জানবেন।

আপনি ধনী হতে চাইলে এমন মানুষের কথা মেনে চলুন, যারা নিজেরা ধনী হয়েছেন, অথবা ধনী হওয়ার পথে আছেন। পরামর্শ শুধু তাদের কাছ থেকেই নিন যারা সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ। আমাদের আশপাশে এমন অনেক লোকই আছে যারা জীবনে বড় হওয়ার উপদেশ দেয়, কিন্তু নিজেরা আসলে জীবনে কিছুই করতে পারেনি। যখন কারো কাছ থেকে উপদেশ নেবেন, তখন তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা চিন্তা করে পরামর্শ নেয়া উচিত।

৩. ঘণ্টার হিসাবে টাকা আয় করার চেষ্টা

মানুষ পরিশ্রম কেন করে? অবশ্যই অর্থ উপার্জনের জন্য। সবার মতো আপনিও কাজ টাকার জন্যই করেন। কিন্তু কতটা সময় কাজ করার বিনিময়ে আপনি ধনী হতে পারবেন সেটা নির্ধারণ করা কঠিন। পৃথিবীতে ৩ শ্রেণির কর্মজীবী মানুষ রয়েছে। একদম নিচে রয়েছে শ্রমিক শ্রেণির মানুষ। তাঁরা যতটুকু কাজ করেন, সেই কাজের বিনিময়ে টাকা পান। কাজ নেই, টাকাও নেই। এর ওপরে রয়েছে দক্ষ কর্মী ও চাকরিজীবিরা।

প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কর্ম ক্ষেত্রে উপস্থিত হওয়া ও কাজ করার জন্য তাঁদেরকে একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দেয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা হয় মাসিক বেতন। এ ছাড়া কাজের ওপরে কিছু বোনাসও থাকে। সবচেয়ে ওপরের ভাগে রয়েছে সেইসব মানুষ, যারা বাকি ২ শ্রেণিকে টাকা দিয়ে থাকে। এরা অন্যের জন্য কাজ না করে নিজের জন্য কাজ করে।

যখন অন্যকে সার্ভিস দেয়, তখনো তারা নিজের জন্যই কাজ করে। তারা মোট যে টাকা আয় করে, সেই আয় থেকেই অন্যদের টাকা দেয়। এ ধরনের মানুষ তাদের আইডিয়া ও দক্ষতা দিয়ে অন্যদের পরিচালনা করে। এই শ্রেণির মানুষ কাজ করার সময় সময়ের তোয়াক্কা করে না। সুতরাং আপনি ঘণ্টার হিসাব করে কাজ করলে অন্যের কর্মচারী হতে পারবেন ঠিকই, কখনো ধনী হতে পারবেন না।

৪. কাজ না করে অলৌকিক কোনও কিছুর জন্য অপেক্ষা করা

আপনি যদি মনে করেন কাজ না করলেও ভাগ্যে থাকলে আপনি এমনিতেই একদিন ধনী হয়ে যাবেন, তবে এই ধারণা থেকে আপনাকে বেড়িয়ে আসতে হবে। এই মানসিকতা থাকলে আপনি জীবনে আর যাই হোন না কেন ধনী হতে পারবেন না। এটা আসলে পরিশ্রম না করার একটা অজুহাত।

অনেকে বলেন, ধনী হতে হলে ধনী হয়ে জন্মাতে হয় অথবা কারো সাহায্য পেতে হয়। কিন্তু সত্যি কথা হলো, আপনি যতক্ষণ না নিজে কিছু করে দেখাতে পারছেন, ততক্ষণ আপনাকে কেউ সাহায্য করবে না। উদাহরণ হিসেবে আপনি আলিবাবা প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার জীবনীর দিকে তাকান।

তিনি একদমই হতদরিদ্র থেকে বিশ্বের সেরা একজন ধনী হয়েছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধু পরিশ্রমের বদৌলতে। আপনার বর্তমান আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন, সঠিক ভাবে পরিকল্পনা ও পরিশ্রম করলে আপনার অবস্থা ঘুরে যাবেই।

৫. কাজের চেয়ে কথা বেশি বলা

কিছু মানুষ আছে যারা বড় বড় স্বপ্ন দেখে, কিন্তু তা পূরণের জন্য যা করা দরকার তা একেবারেই করে না। তারা শুধু স্বপ্ন পূরণের পরিকল্পনা ও কথায় আটকে থাকে। তাই তারা তাদের অবস্থান কখনোই বদলাতে পারে না। অন্যদিকে যারা বেশি কথা না বলে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা মত কাজ শুরু করে তারাই একদিন সফল হতে পারে। যারা নিজেদের কাজ বাদ দিয়ে শুধু বড় বড় কথায় ব্যস্ত থাকে তাদের স্বপ্নের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে কেবল আপনাকে তাদের পরিকল্পনার কথা শোনাবে। কিন্তু যারা কর্মঠ তারা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে স্বপ্ন পূরণে অনেকটাই সফল হয়ে যায়।

৬. জ্ঞানার্জন থেকে দূরে থাকা

পৃথিবীর সব সফল মানুষদের অন্যতম সেরা বিশিষ্ট হলো প্রচুর বই পড়া। তারা প্রতি বছর পরিকল্পনা করে বিশ্ববিখ্যাত বইগুলো পড়ে শেষ করে। আর ওই বই থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজের ক্যারিয়ারে কাজে লাগায়। উদাহরণ হিসেবে বিশ্বসেরা ধনী বিল গেটসকে দেখুন, তিনি প্রতি বছর একটি করে বইয়ের তালিকা প্রকাশ করেন যেগুলো তিনি ১ বছরে পড়ে শেষ করেন। কিন্তু যারা ধনী হওয়ার জন্য অলৌকিক কিছুর জন্য অপেক্ষায় থাকে তারা কখনোই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলে না।

৭. সম্পদ অর্জনের নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্য না থাকা

কোনও কিছু অর্জন করতে হলে তার জন্য নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য ঠিক করতে হয়। আপনার যদি টার্গেট না থাকে, তবে আপনি পরিকল্পনাও করতে পারবেন না। আর পরিকল্পনা না করলে সফল হওয়া খুবই কঠিন। চিকিৎসক হতে গেলে যেমন সেই লক্ষ্যে পড়াশুনা করতে হয়, বড় খেলোয়াড় হতে গেলে যেমন প্রাকটিস করতে হয়।

ধনী হতে হলেও আপনাকে বিশেষ কিছু কাজ করতে হবে। শুধু ‘আমি ধনী হব’ এই লক্ষ্য থাকলেই হবে না। আপনি কত টাকার মালিক হতে চান, কবে হতে চান ‘এসবও ঠিক করে রাখতে হবে। তাহলে নিজেই আপনি সেই পথে চলতে শুরু করবেন। যেদিন যত টাকার মালিক হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করবেন, সেদিনই তত টাকা আপনার হবে ব্যাপারটা এমন নয়। কিন্তু আপনি যদি লক্ষ্য ঠিক না করেন, তবে কাজ শুরু করাই হবে না।

৮. চাকরি পছন্দ না করা

অনেকেই তাঁদের কর্মক্ষেত্র পছন্দ করেন না। যদি অফিসের বস অপছন্দের হয় তবে, এর মাত্রা অনেক তীব্র হয়। আর এটা হয় সাধারণত নিম্ন পরিমাণ বেতন কাঠামোর কারণে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীরা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কাজের হিসাব করে। অফিস সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তারা অফিস থেকে বের হয়ে যায়। এতে তারা ক্যারিয়ারে বেশিদূর এগোতে পারে না। যদি আপনি ক্যারিয়ারে সফল হতে চান তবে সাময়িক সময়ের জন্য আর্থিক অসন্তোষ থাকলেও আপনাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাহলে একদিন আপনি সফল হবেনই।

আপনি যদি ধনী হতে চান, তবে অনেক নিরাপদ ক্যারিয়ারের হাতছানি আপনাকে অগ্রাহ্য করতে হবে। হয়তো উচ্চ বেতনের সরকারি চাকরির সুযোগও ছাড়তে হবে। কিন্তু আপনাকে নিরাপত্তা আর বিরাট ধনসম্পদের সম্ভাবনার একটি বেছে নিতে হবে। আর সত্যি কথা বলতে, আপনি যদি হাল না ছেড়ে চেষ্টা করে যান, তবে এক সময়ে না এক সময়ে আপনি অবশ্যই সফল হবেন।

৯. আয়ের চেয়ে বেশি খরচ করা

দামি মোবাইল থাকা, দামি রেস্টুরেন্টে খাওয়া, বিদেশে ট্যুর দেয়া এসব না করলে আজকাল প্রেস্টিজ ধরে রাখাটাই সমস্যা হয়ে গেছে। বিশেষ করে করপোরেট চাকরিজীবীদের মধ্যে এই প্রবণতা মহামারি আকার ধারণ করেছে। এসব আপনি অবশ্যই করতে পারেন, কিন্তু সেটা হতে হবে আয়ের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে।

আপনার যখন টাকা উপচে পড়ছে, তখন আপনি এগুলো করতে পারেন, কিন্তু শুধু প্রেস্টিজ রাখার জন্য নিজের বেতনের টাকা খরচ করে, বা এমনকি ক্রেডিট কার্ডের ধার করা টাকা দিয়ে এগুলো করলে আপনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এসব অভ্যাস বজায় থাকলে কর্মজীবন শেষে আপনি দারুণ বিপদে পড়তে যাচ্ছেন।

এই বড়লোকি দেখাতে গিয়ে সত্যিকার বড়লোক হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। লাখ টাকার ওপরে বেতন পেয়েও অনেকে মাসের শেষে ক্রেডিট কার্ড ভাঙিয়ে চলছে। অথচ তারা ইচ্ছা করলেই ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় চলতে পারে এবং বাকি টাকাটা বিনিয়োগ করে এক সময়ে নিজেই একটি ভালো ব্যবসার মালিক হতে পারে।


আরো পড়ুন: চোখ সুস্থ রাখতে যে ৫ টি খাবার খাবেন
আরো পড়ুন: ১০টি খাবারে আপনার জন্য ক্যানসারের ঝুঁকি
আরো পড়ুন: গর্ভবতী মায়েদের বাড়তি পুষ্টি সহ ১৬টি রোগের ঔষধ জিরা পানি


১০. শৃঙ্খলার অভাব

যদি নিজের চেষ্টায় ধনী হতে চান, তবে আপনাকে কষ্ট করতেই হবে। আর সেই সঙ্গে নিজেকে কঠোর শৃঙ্খলার মাঝে আটকে ফেলতে হবে। রাতারাতি বড়লোক বলতে পৃথিবীতে কিছু নেই। আপনি কি জানেন, ১০ শতাংশেরও কম লটারি বিজয়ী তাদের টাকা ধরে রাখতে পারে? হঠা‌ৎ‌ করে সাফল্য এলে তা কোনোদিনই স্থায়ী হয় না। সত্যিকার ধনী হতে চাইলে আপনাকে দিনের পর দিন, গভীর মনোযোগ দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই।

আপনার সব কাজ সময়মতো করতে হবে। কাজের সময়ে ঘুমানো, কাজের সময়ে বিনোদন এসব ভুলে যেতে হবে। আপনি যদি ব্যবসা করে ধনী হতে চান, তবে প্রথমে আপনাকে আপনার পরিশ্রম আর মনোযোগের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে একটু একটু করে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে হবে। জ্যাক মা, ইলন মাস্ক বা জেফ বেজোসের মতো বিশ্বের সেরা ধনীরা এভাবেই কাজ করেছেন।

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন। এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।


এই বিভাগের আরো সংবাদ