(ফ্রি পিডিএফ) SSC:স্বাধীন বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

(ফ্রি পিডিএফ) SSC:স্বাধীন বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

  • সৃজনশীল প্রশ্ন
  • মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রজনতা ও সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী যখন নারকীয় তাণ্ডব শুরু করে, তখন মশিউরের পিতা মোঃ আব্দুল মতিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। দেশের এ পরিস্থিতির কারণে তিনি দেশকে, দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার অনেক বন্ধুও তার সাথে শত্রুর মোকাবিলা করেন। দেশের জন্য মশিউরের পিতার এ ত্যাগের কথা শুনে তার বন্ধুরা তাকে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে।

ক. মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
খ. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গ্রেট ব্রিটেনের ভূমিকা কী ছিল? ব্যাখ্যা কর।

গ. মশিউরের পিতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে যাদের ভূমিকার প্রতিফলন ঘটেছে, তা আলোচনা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর, একমাত্র মশিউরের পিতার মতো ব্যক্তিরাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সার্থক করে তুলেছিলেন? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন এম.মনসুর আলী।
খ ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে বৃটেনে প্রচার মাধ্যমে বিশেষ করে বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা বাঙালিদের ওপর পাক বাহিনীর নির্মম নিয়াতন এবং বাঙালিদের সংগ্রাম ও প্রতিরোধ,

ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের করুণ অবস্থা, পাক বাহিনীর গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে বিশ্ব জনমতকে জাগ্রত করে তোলে। ব্রিটিশ সরকারও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে খুবই সহানুভূতিশীল ছিল। উল্লেখ্য, লন্ডন ছিল বর্হিবিশ্বে মুক্তিযুুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র।

গ মশিউরের পিতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রদের ভূমিকার প্রতিফলন ঘটেছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিরাট অংশ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়।

অনেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, মশিউরের পিতা আব্দুল মতিন ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পাকিস্তান বাহিনী নারকীয় তাণ্ডব শুরু কারলে তিনি দেশের মানুষকে রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

তার সাথে তার অনেক বন্ধুও যোগ দেয়। বস্তুত মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। মুক্তিবাহিনীর অনিয়মিত শাখায় এক বিরাট অংশ ছিল ছাত্র।

মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুুদ্ধে ছাত্র সমাজের মহান আত্মত্যাগ ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হতো।

ঘ আমি মনে করি মশিউরের পিতার মতো ব্যক্তিরাই শুধু নয় বরং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সর্বস্তরের জনতার অংশগ্রহণ সার্থক করে তুলেছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র জনগণের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আক্রমণ চালালে বাঙালি ছাত্র, জনতা, পুলিশ, ইপিআর (ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলস) সাহসিকতার সাথে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।

বিনা প্রতিরোধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বাঙালিরা ছাড় দেয়নি। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে বহু মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে শহিদ হন, আবার অনেকে গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হন। মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্যে মৃত্যুকে তুচ্ছ মনে করে যুদ্ধে যোগদান করেছিল। তারা ছিল দেশপ্রেমিক, অসীম সাহসী এবং আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ যোদ্ধা।

মুক্তিযুদ্ধে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের বাঙালিরা অংশগ্রহণ করেছিল বলে এ যুদ্ধকে ‘গণযুদ্ধ’ বা ‘জনযুদ্ধ’ও বলা হয়। আর মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ।

তাই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ছাত্ররা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। জাতি চিরকাল মুক্তিযোদ্ধাদের সূর্য সন্তান হিসেবে মনে করবে।

    • সৃজনশীল প্রশ্ন
    • ৭ মার্চের ভাষণ

ক. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ কোথায় ভাষণ দেন?
খ. বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর স্বাধীনতাকামী মানুষের নিকট অমর হয়ে থাকবে কেন?

গ. চিত্রে যে ভাষণের দৃশ্য লক্ষ করা যায় সে ভাষণ ছিল মূলত স্বাধীনতার ঘোষণাÑ বর্ণনা কর।
ঘ. স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রায় উক্ত ভাষণপরবর্তী ঘটনা প্রবাহÑ বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ভাষণ দেন।
খ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-শাসন, বঞ্চনার ইতিহাস,

নির্বাচনে জয়ের পর বাঙালির সাথে প্রতারণা ও বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের পটভূমি তুলে ধরেন। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এ ভাষণ এক স্মরণীয় দলিল, মুক্তির সনদ। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব ঐতিহাসিক ভাষণের নজির আছে ৭ মার্চের ভাষণ তার অন্যতম; পৃথিবীর স্বাধীনতাকামী মানুষের নিকট এ ভাষণ অমর হয়ে থাকবে।

গ চিত্রের ভাষণটি ছিল ৭ মার্চের। ৭ মার্চের ভাষণ থেকে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা ও মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা পায়। এ ভাষণের পরেই বাঙালি জাতির সামনে একটি মাত্র গন্তব্য নির্ধারণ হয়ে যায়, তা হলো ‘স্বাধীনতা’। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু যে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ডাক দেন, সে ডাকেই বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণে পরবর্তী করণীয় ও স্বাধীনতা লাভের দিক নির্দেশনা ছিলÑ ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এ ভাষণে তিনি প্রতিরোধ সংগ্রাম, যুদ্ধের কলাকৌশল ও শত্রু মোকাবিলার উপায় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেন। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালায় এবং নৃশংস গণহত্যা শুরু করে। বাঙালিরা আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ঘ ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত কর্মসূচি এবং আহ্বানের প্রতি সাড়া দিয়ে সকল স্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। পূর্ব বাংলার সকল অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা বেগতিক দেখে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনা করতে।

এ সময় ভুট্টোও ঢাকায় আসেন। অপরদিকে গোপন আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য, গোলাবারুদ এনে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।

১৭ মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনক্সা তৈরি করে। ২৫ মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতম গণহত্যা, ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু হয়।

ইয়াহিয়া ও ভুট্টো ২৫ মার্চ গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হত্যা করে বহু মানুষকে।

পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প, পিলখানা ইপিআর ক্যাম্প, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আক্রমণ চালায় এবং নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত করে যা ইতিহাসে ‘২৫ মার্চের কালরাত্রি’ নামে পরিচিত।

২৫ মার্চের কালরাত্রিতেই অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এবং ওয়্যারলেসযোগে তা পাঠিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাবাণী শোনা মাত্রই চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। শুরু হয় পাকিস্তানি সশস্ত্র সেনাদের সঙ্গে বাঙালি, আনসার ও নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের এক অসম লড়াই যা বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান মুক্তিযুদ্ধ নামে পরিচিত।

অতিরিক্ত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

  • সৃজনশীল প্রশ্ন
  • অপারেশন সার্চলাইট ও ১৯৭০ নির্বাচন পরবর্তী ঘটনা

‘ক’ দেশের প্রশাসকগণ নির্বাচনে হেরে বিজয়ী দলকে ক্ষমতা না দিয়ে প্রহসনের আলোচনায় বসেন। অবশেষে তারা আলোচনাকে ভণ্ডুল করে দিয়ে সামরিক শক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার প্রয়াস চালান।

ক. ইয়াহিয়া ও ভুট্টো কবে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন?
খ. বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাকে সাড়া দিয়ে জনগণ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে কেন?

গ. ‘ক’ দেশের প্রশাসকদের সামরিক হস্তক্ষেপের সাথে পাকিস্তানের কোন সামরিক আগ্রাসনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘ক’ দেশের প্রশাসকদের অনুরূপ কালক্ষেপণের বৈঠক হয়েছিল একাত্তরের মার্চে Ñ আলোচনা কর।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক ইয়াহিয়া ও ভুট্টো ২৫ মার্চ গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।
খ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রধান রাজনৈতিক দলটি ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক নেতৃত্বই মুক্তিযুদ্ধের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করে।

আওয়ামী লীগ প্রথমে পূর্ববাংলার জনগণকে স্বাধিকার আন্দোলনে সংগঠিত করে, এরপর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর জনগণকে স্বাধীনতা আনয়নে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাকে সাড়া দিয়ে জনগণ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

গ ক’ দেশের সামরিক হস্তক্ষেপের সাথে পাকিস্তানের সামরিক আগ্রাসন অপারেশন সার্চলাইট-এর মিল রয়েছে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল মূলত পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যার অভিযানের নাম। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট নামে এক নারকীয় গণহত্যা চালায়। ’

৭০ এর নির্বাচনে পরাজয়ের পর আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা ছাড়তে চাননি। উদ্দীপকে যেমন মনোভাব দেখা যায় ‘ক’ দেশের প্রশাসকদের মধ্যে।

বরং ঐ সময়টিতে ইয়াহিয়া-ভুট্টো চক্র আলোচনার প্রহসন চালায় এবং ১৭ মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা প্রণয়ন করে। তারা সামরিক আগ্রাসনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং গণহত্যার প্রস্তুতি নেয়।

উদ্দীপকেও তদ্রƒপ নির্বাচনে পরাজিত ‘ক’ রাষ্ট্রের প্রশাসকদের সামরিক শক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার প্রয়াস দেখা যায়। পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ তথা সমগ্র বাঙালি জাতিকে দমন করতে যে নিষ্ঠুর, অমানবিক সামরিক আগ্রাসন চালায় তার নাম দিয়েছিল তারা ‘অপারেশন সার্চলাইট’। সুতরাং বলা যায়, ‘ক’ দেশের প্রশাসকদের সাথে পাকিস্তানের সামরিক আগ্রাসন ‘অপারেশন সার্টলাইট’-এর মিল রয়েছে।

ঘ উদ্দীপকে ‘ক’ দেশের প্রশাসকগণ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের নামে কালক্ষেপণ করে। অনুরূপ কালক্ষেপণ আমরা দেখতে পাই ’৭০ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী আওয়ামী লীগের নিকট তৎকালীন সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে।

মূলত তারা অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার ভাব দেখালেও তার মূল উদ্দেশ্য ছিল কালক্ষেপণ করা। অর্থাৎ সময় অতিবাহিত করা। নরপিশাচ ইয়াহিয়া খান ও যড়যন্ত্রের নায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো অযথা আলোচনা দীর্ঘায়িত করেন।

আর এর সুযোগ নিয়ে তারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনী ও সামরিক সরঞ্জাম গোপনে আনার কাজটি সম্পন্ন করেন। শেষ পর্যন্ত দেখা যায় তারা বাঙালি নিধনে মেতে ওঠে, গণহত্যা চালায়। অর্থাৎ ‘ক’ দেশের মতোই ছিল পাকিস্তানিদের বৈঠক।

ANSWER SHEET

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

এগুলো দেখুন

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ: MCQ উত্তরসহ

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ: MCQ উত্তরসহ

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ: MCQ উত্তরসহ বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর ১. রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *