SSC: স্বাধীন বাংলাদেশ সংক্ষিপ্ত ও বর্ণনামূলক উত্তরসহ ফ্রি পিডিএফ

SSC: স্বাধীন বাংলাদেশ সংক্ষিপ্ত ও বর্ণনামূলক উত্তরসহ ফ্রি পিডিএফ

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ॥ ১ ॥ মুজিবনগর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের কাঠামোটি ছকে উপস্থাপন কর।
উত্তর : মুজিবনগর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ :

রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ

অর্থমন্ত্রী এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামান
পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ

প্রশ্ন ॥ ২ ॥ স্বাধীনতা অর্জনে গণমাধ্যমের ভূমিকা চিহ্নিত কর।
উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। পরে এটি মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথা, রণাঙ্গনের নানা ঘটনা ইত্যাদি দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের প্রতি অনুপ্রাণিত করে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যুগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করে। এছাড়া, মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত পত্রিকা মুক্তিযুদ্ধে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন ॥ ৩ ॥ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকাসমূহ লিখ।
উত্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে অধুনাবিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।

পাকবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী-নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান। তিনি ইয়াহিয়াকে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন।

সোভিয়েত পত্র-পত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাক বাহিনীর নির্যাতনের কাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

প্রশ্ন ॥ ৪ ॥ ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানের মূল কারণ কী?
উত্তর : ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতায় এসেই সংবিধান স্থগিত করেন, জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। পত্র-পত্রিকা স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

সামরিক বাহিনীর গুলিতে সেলিম, দেলোয়ার, শাহজাহান, জয়নাল, দিপালী সাহাসহ বেশ ক’জন ছাত্র নিহত হন। অগণতান্ত্রিক ও পাশবিক আচরণ এবং ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করাই এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল কারণ।

প্রশ্ন ॥ ৫ ॥ ‘স্বাধীনতা আমাদের দেশ ও জনগণের সবচেয়ে বড় অর্জন’Ñ কথাটির পক্ষে তোমার যুক্তিগুলো কী?
উত্তর : ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন। এই স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলার মানুষ পাকিস্তানি শাসন ও শোষণের নাগপাশ ছিন্ন করে।

এই স্বাধীনতা অর্জনের ফলেই প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের মানুষ মর্যাদাবান জাতিতে পরিণত হয়। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, স্বাধীনতা আমাদের দেশ ও জনগণের সবচেয়ে বড় অর্জন।

বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ॥ ১ ॥ স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান বর্ণনা কর।
উত্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মূল নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সারাজীবনের কর্মকাণ্ড, আন্দোলন, সংগ্রাম নির্দেশিত হয়েছে বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্যে।

এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ ও ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন। ১৯৬৬ সালে ‘আমাদের বাঁচার দাবি ৬ দফা’ কর্মসূচি পেশ ও ৬ দফা ভিত্তিক আন্দোলন, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে

আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন বিজয়, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনে একচ্ছত্র ভূমিকা পালন করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

পাকিস্তানের চব্বিশ বছরের মধ্যে বার বছর তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সশস্ত্র আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চ ১৯৭১ প্রত্যুষে তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সংগ্রামের পথ ধরে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তার ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছেন।

তার নামেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি। তার বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন জাতির জনক, স্বাধীনতার মহানায়ক ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। তাই স্বাধীনতা অর্জনে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অপরিসীম।

প্রশ্ন ॥ ২ ॥ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। আক্ষরিক অর্থে শূন্য হাতে যাত্রা শুরু করে বঙ্গবন্ধু সরকার।

সরকারপ্রধান হিসেবে ১৪ জানুয়ারি, ১৯৭২ প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সরকারের জরুরি কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের পাশাপাশি বিশ্বের সকল রাষ্ট্র, স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে উদার সাহায্য প্রদানের আহ্বান জানান। শুরু করেন দেশ গঠন।

সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দলিল। এই দলিল লিখিত বা অলিখিত হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের জনগণ এই সংবিধান লাভ করে।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু সরকার মাত্র দশ মাসে বাংলাদেশকে একটি সংবিধান উপহার দিতে সক্ষম হয়। যা দেশ পুনর্গঠনে সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ ছিল।

প্রথম পাঁচসালা পরিকল্পনা : নবীন রাষ্ট্র হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, দারিদ্র্য হ্রাস, প্রবৃদ্ধির হার ৩% থেকে ৫.৫%-এ উন্নীত করার জন্য ব্যবস্থা। উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

এছাড়া সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রথম পাঁচসালা পরিকল্পনা (১৯৭৩-১৯৭৮) ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়।

কৃষির উন্নয়ন : স্বাধীনতার পর পর বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ ভাগ জনগণের জীবিকা ছিল কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় আয়ের অর্ধেকেরও বেশি আসত কৃষিখাত থেকে। তাই বঙ্গবন্ধু কৃষিব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন।

যেমন :
১. ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফসহ পূর্বের সমস্ত বকেয়া খাজনা মওকুফ করে দেন।
২. একটি পরিবারের জন্য সর্বাধিক ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা নির্ধারণ করেন।
৩. বাইশ লাখের অধিক কৃষক পরিবার পুনর্বাসন করা হয়।

সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু মানবসম্পদের উন্নয়নে শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তিনি স্বাধীন দেশের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।

শিক্ষার উন্নয়ন : শিক্ষাক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি ৯০০ কলেজ ভবন ও ৪০০ হাইস্কুল পুনর্নিমাণ করেন। প্রথমবারের মতো সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করেন। এর ফলে এসব স্কুলে কর্মরত ১ লক্ষ ৬০ হাজার শিক্ষকের চাকরিও সরকারি করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় শিক্ষকদের পাওনা ৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের জন্য জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেন।
সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগের উন্নয়ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত সকল ব্রিজ-সেতু জরুরি ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ শুরু হয়।

১৯৭৪ সালের মধ্যে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা একটা সন্তোষজনক অবস্থায় উন্নীত হয়। ঢাকা-আরিচা সড়কের বড় বড় সড়ক সেতুগুলোসহ ৯৭টি নতুন সড়ক সেতু নির্মাণ করা হয়। হার্ডিঞ্জ ব্রিজসহ ধ্বংসপ্রাপ্ত অন্যান্য রেল সেতুগুলোও চালু হয়। যমুনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ১৯৭৪ সালের ৪ নভেম্বর যমুনা সেতুর প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটে বিমান চালু, তেজগাঁও বিমানবন্দর ব্যবহার উপযোগী করার কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। ১

৯৭২ সালের ৭ মার্চের মধ্যে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর ও কুমিল্লার বিমান যোগাযোগ কার্যকর হয়। ঢাকা-লন্ডন রুটে ১৯৭৩ সালের ১৮ জুন প্রথম ফ্লাইট চালু হয়। এভাবে যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলেই শক্ত অবস্থানে চলে আসে।

প্রশ্ন ॥ ৩ ॥ ১৯৭২ সালের সংবিধানে বর্ণিত মূলনীতিসমূহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রস্তাবনায় চারটি আদর্শকে গ্রহণ করা হয় রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে। যথাÑ

ক. জাতীয়তাবাদ : পাকিস্তান আমলের ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাতিল হয়ে যায়। এর বিপরীতে ভাষা ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম। অসাম্প্রদায়িক চেতনা হলো বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।

খ. সমাজতন্ত্র : বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনে সব সময় সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছেন। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সংগ্রাম করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের একটা বড় অংশ ছিল নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান।

স্বাধীনতার পর দেশের মানুষের স্বপ্ন ছিল সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মৌলিক চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাই সংবিধানে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মূলত মানুষের ওপর মানুষের শোষণহীন সমাজ গঠনের জন্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করাই ছিল এর লক্ষ্য।

গ. গণতন্ত্র : পাকিস্তান রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এই অঞ্চলের জনগণ ১৯৪৭ থেকেই কোনো গণতান্ত্রিক অধিকার পায়নি। সংবিধানে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি হবে একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালিত হবে।

ঘ. ধর্মনিরপেক্ষতা : সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ছিল সাম্প্রদায়িকতা পরিহার করা। কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান না করা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবে না। প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেবে রাষ্ট্র।

প্রশ্ন ॥ ৪ ॥ জেনারেল জিয়ার শাসন আমল মূল্যায়ন কর।
উত্তর : ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনীর মেজর ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড পরবর্তী ঘোলাটে পরিস্থিতিতে ১৯৭৬ সালের ৩০ নভেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল নিজেকে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত করেন।

জেনারেল জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সামরিক বাহিনীর মধ্যে বেশ কিছু ব্যর্থ অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এতে বিচারের নামে অনেক নিরপরাধ সামরিক কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, সাজা কিংবা চাকরিচ্যুত হয়। জেনারেল জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়।

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭২-এর সংবিধানে প্রণীত যেসব মৌলিক নীতি ও চেতনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পরিচালিত হয়ে আসছিল, তার বেশিরভাগই এ সময় বাতিল করে দেওয়া হয়।

১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করা হয়। বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া চালু করে রাজনীতিতে জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারীদের রাজনীতি করার সুযোগ প্রদান করেন। তিনি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করেন। রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহারের পথ তৈরি করেন।

জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের নিজস্ব ব্যাখ্যা প্রদান করেন। প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ধারণার প্রবক্তা। তিনি খালকাটা কর্মসূচি প্রবর্তন করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী চীন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশকে এই সময়ে স্বীকৃতি প্রদান করে।

পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ-সম্পর্ক গড়ে তোলে। ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ পূর্ব ইউরোপীয় দেশসমূহের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হয়। ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে এ সময় বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নীতি অনুসরণ করে।

জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং দেখা যায়, জেনারেল জিয়ার শাসনামলে দেশের রাজনীতিতে কিছু প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ গৃহীত হলেও দেশের সার্বিক উন্নয়নে তার শাসনামল ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ।

প্রশ্ন ॥ ৫ ॥ জেনারেল এরশাদের নির্বাচন পদ্ধতি মূল্যায়ন কর।
উত্তর : জেনারেল এরশাদের নির্বাচন পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ প্রহসনমূলক। তার আমলের সবগুলো নির্বাচনই নিতান্ত প্রহসন ছিল। উদাহরণস্বরূপÑ ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের

জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৮ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ২৮টি দল অংশগ্রহণ করে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে।

নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ এককভাবে ৭৬টি আসন লাভ করে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দল জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া ক্যু’র মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উত্থাপন করে।

পর্যবেক্ষকগণও এ অভিযোগের যথার্থতাকে সমর্থন করেন। আবার ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বয়কট করে। প্রহসনমূলক এ নির্বাচনে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।

১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ দেশের প্রধান দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। ভোটারবিহীন, দলবিহীন এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে বিজয়ী হয় এবং সরকার অনুগত আ স ম রবের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত বিরোধী জোট (কপ) ১৯টি আসন পায়।

বাকি আসনের ৩টি জাসদ (সিরাজ), ২টি ফ্রিডম পার্টি এবং ২৫টি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পান। সুতরাং দেখা যায় জেনারেল এরশাদের নির্বাচন ছিল লোক দেখানো এবং নিজেকে জয়ী করে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার প্রচেষ্টা। তার নির্বাচন পদ্ধতি স্বৈরতান্ত্রিক এবং প্রহসনমূলক।

ANSWER SHEET

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

এগুলো দেখুন

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ: MCQ উত্তরসহ

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ: MCQ উত্তরসহ

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ: MCQ উত্তরসহ বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর ১. রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *