ঢাবির কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস খুলছে সোমবার

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির পর অবশেষে চালু হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সোমবার (১ জুন) থেকে এই অফিসের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর আজ রোববার শেষ হচ্ছে ছুটি। তবে এই সময়েও অনলাইন ও ই-মেইলের মাধ্যমে সেবা নেওয়ার সুযোগ ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্য?

প্রতি বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া ঘিরে থাকে ব্যাপক আগ্রহ। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভর্তি হতে চান হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী। তাই ভর্তি অফিসের খোলা-বন্ধার খবর তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, যারা ইতিমধ্যে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়ায় জড়িত অথবা বিভিন্ন জরুরি কাজে অফিসে যোগাযোগ করতে চান, তাদের জন্য এই সংবাদ অত্যন্ত সময়োপযোগী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস ২৫ মে তারিখ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ ছিল। তবে এই ছুটির মধ্যেও কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের সব ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন কার্যক্রম এবং ই-মেইল সেবা যথারীতি চালু ছিল। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

অনলাইনে সেবা নেওয়ার সুযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওয়েবসাইট থেকে সব প্রয়োজনীয় অনলাইন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে তারা নিম্নোক্ত ই-মেইল আইডির মাধ্যমেও যোগাযোগ করতে পারবেন— helpline@eis.du.ac.bd। অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সেবা কার্যক্রম ছুটির সময়ও চালু ছিল বলেই জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

আমার নিজের একজন ছোট ভাই এই বছর ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানান, “ঈদের সময়ও ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করতে পেরেছি, কোনো সমস্যা হয়নি। অফিস বন্ধ থাকলেও ই-মেইল করলে উত্তর দেওয়া হয়েছে।” এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে।

ভর্তি অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম

সোমবার থেকে ভর্তি অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ভর্তি ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া: যারা ইতিমধ্যে ফর্ম কিনেছেন বা এখনো কেনেননি, তারা সরাসরি অফিসে এসে কাজ করতে পারবেন।
  • মেধাতালিকা ও ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ: যেসব শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেন, তাদের তালিকা প্রকাশ ও ভর্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।
  • নথি যাচাই-বাছাই: আবেদনকারীদের জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাইয়ের কাজ চলবে অফিসে।
  • সাধারণ তথ্য ও পরামর্শ: যেকোনো ভর্তি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসার সমাধান দেওয়া হবে অফিসের কাউন্টার থেকে।

শিক্ষার্থীদের করণীয়

যেসব শিক্ষার্থী এখনও ভর্তি ফরম জমা দেননি অথবা অফিসে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য কিছু পরামর্শ—

  1. প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র (মার্কশিট, সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, পরিচয়পত্র) আগে থেকেই তৈরি করে রাখুন।
  2. ভর্তি অফিসের নির্ধারিত সময় (সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা) অনুযায়ী অফিসে আসার পরিকল্পনা করুন।
  3. অনলাইন সেবার সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন। ওয়েবসাইটে সব আপডেট তথ্য দেওয়া থাকে।
  4. জরুরি প্রয়োজনে ই-মেইলে যোগাযোগ করুন। ফোনে কনজেশন থাকলে ই-মেইলই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।
বিষয় বিস্তারিত
অফিস খোলার তারিখ সোমবার, ১ জুন ২০২৬
ছুটির মেয়াদ ২৫ মে – ৩১ মে (ঈদুল আজহা)
অনলাইন সেবা ছুটির সময়সীমাতেও চালু ছিল
ই-মেইল সেবা helpline@eis.du.ac.bd
অফিসের সময় সকাল ৯টা – বিকেল ৪টা (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত)

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

২০১৮ সালে আমি নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। তখন অফিসের দীর্ঘ লাইন এবং জটিল প্রক্রিয়া দেখে মনে হয়েছিল, এই পদ্ধতি আরও সহজ করা উচিত। কিন্তু গত কয়েক বছরে ডিজিটাল সেবার প্রসারের কারণে পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এখন অনেক কাজই বাড়ি বসে করা যায়। তবুও, যারা সরাসরি অফিসে যেতে চান, তাদের জন্য অফিস খোলার খবর নিশ্চয়ই স্বস্তির।

শেষ কথা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস পুনরায় চালু হওয়া মানে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসা। ঈদের ছুটির পর অফিস যখন খুলবে, তখন অনেকেই দ্রুত নিজেদের কাজ সেরে নিতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও যাতে কোনো শিক্ষার্থী সমস্যায় না পড়েন, সেদিকে খেয়াল রাখছে। আশা করা যায়, আগামী দিনগুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া আরও সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে।

সকল শিক্ষার্থীকে অনুরোধ, অফিসে আসার আগে ওয়েবসাইট বা ই-মেইলে আপডেট তথ্য জেনে নিন। তাহলে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও সময় নষ্ট এড়ানো সম্ভব হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হচ্ছে সোমবার থেকে— এই খবর রাখুন সবার আগে।

এগুলো দেখুন

উচ্চশিক্ষায় নারী–পুরুষ সমান সমান, কিন্তু বিসিএস ক্যাডারে কেন মাত্র ২০ শতাংশ

উচ্চশিক্ষায় নারী–পুরুষ সমান সমান, কিন্তু বিসিএস ক্যাডারে কেন মাত্র ২০ শতাংশ

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নারীরা এখন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুরুষের সমান সমান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে শুরু করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *