(Download PDF ফ্রি) পদার্থবিজ্ঞান: সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরসহ

(Download PDF ফ্রি) পদার্থবিজ্ঞান: সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরসহ

সৃজনশীল প্রশ্ন
জিন প্রকৌশলী ড. হায়দারের বাগানের লেবু গাছগুলোতে প্রচুর লেবুর ফলন হলেও গাছগুলো দ্রুত রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তিনি লক্ষ করলেন তার বাড়ির পাশের জঙ্গলে একজাতের লেবু গাছ রয়েছে যাতে খুব একটা লেবু না হলেও গাছগুলো দীর্ঘদিন

বেঁচে থাকে। এ দুটি লেবুর জাত থেকে তিনি অধিক ফলনশীল রোগ প্রতিরোধী একটি জাত উদ্ভাবন করলেন। তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এর চারা উৎপাদন না করে ল্যাবে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এর চারা তৈরি করলেন।

ক. জীবপ্রযুক্তি কী?
খ. এগঙ বলতে কী বুঝায়?

গ. ড. হায়দারের লেবুগাছের জাত উন্নয়নের কৌশল ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ড. হায়দারের বিশেষ প্রক্রিয়ায় চারা তৈরি করার কারণ বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. জীবপ্রযুক্তির বা বায়োটেকনোলজি জীববিজ্ঞানের একটি ফলিত শাখা।
খ. জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে উঘঅ এর কাক্সিক্ষত অংশ ব্যাকটেরিয়া থেকে মানুষে, উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে, প্রাণী থেকে উদ্ভিদে স্থানান্তর সম্ভব হয়েছে। এর ফলে সৃষ্ট নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এই জীবকে বলা হয় GMO (Genetically Modified Organism)|।

গ. ড. হায়দার লেবুগাছের জাত উন্নয়নের জন্য জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রিকম্বিনেন্ট উঘঅ-প্রযুক্তি অবলম্বন করেন।
তিনি ট্রান্সজেনিক লেবুগাছ উৎপন্ন করার জন্য বন্যজাতের লেবু থেকে অধিক ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী জিনকে তাঁর বাড়ির

লেবুর জাতে স্থানান্তর করেন। এ স্থানান্তরের জন্য তিনি ল্যাবে এগঙ বা রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রস্তুত করার ধাপগুলো অনুসরণ করেন। ধাপগুলো হলো :

(১) বিশেষ পদ্ধতিতে বন্যজাতের লেবুর জিনের অধিক ফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী উঘঅ নির্বাচন।
(২) একটি বাহক নির্বাচন, যার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত উঘঅ খণ্ডটি স্থানান্তর করা সম্ভব।

(৩) নির্দিষ্ট স্থানে উঘঅ অণুকে ছেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম নির্বাচন।
(৪) ছেদনকৃত উঘঅ খণ্ডসমূহ লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে বাহকের উঘঅ-এর সঙ্গে যুক্তকরণ।

(৫) কাক্সিক্ষত উঘঅ সহ বাহক উঘঅ এর অনুলিপনের জন্য একটি পোষক নির্বাচন।
(৬) উঘঅ খণ্ড সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত রিকম্বিনেন্ট উঘঅ এর বহিঃপ্রকাশ মূল্যায়ন এবং পরবর্তীতে উদ্ভিদ দেহের কোষের প্রোটোপ্লাজমে প্রবেশকরণ।

(৭) অতঃপর টিস্যু কালচারের মাধ্যমে নতুন উন্নত জাতের উদ্ভিদের সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ এবং বাইরের পরিবেশ স্থানান্তর।
উপরিউক্ত কৌশলসমূহ অবলম্বন করে ড. হায়দার লেবু গাছের জাত উন্নয়ন করলেন।

ঘ. ড. হায়দার তাঁর উদ্ভাবিত ট্রান্সজেনিক লেবু জাতের চারার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির জন্য ল্যাবে টিস্যুকালচার পদ্ধতি অবলম্বন করেন। টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে কম জায়গার মধ্যে যথেষ্ট সংখ্যক চারা উৎপাদনের সুবিধা থাকায় চারা মজুদের সমস্যা এড়ানো যায়। ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হওয়া যায়।

এ পদ্ধতিতে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গের ক্ষুদ্র অংশ যেমন- মূল, কাণ্ড, পাতা, অঙ্কুরিত চারার বিভিন্ন অংশ ইত্যাদি নির্ধারিত জীবাণু মুক্ত আবাদ মাধ্যমে ল্যাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আবাদ করা হয়।

টিস্যুকালচারের ফলে এসব বর্ধনশীল অঙ্গ থেকে অসংখ্য অণুচারা উৎপন্ন হয়। এসব অণুচারার প্রত্যেকটি পরে উপযুক্ত পরিবেশে পৃথক পৃথক পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদে পরিণত হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প স্থানে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে লাখ লাখ রোগমুক্তি ও মাতৃ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যযুক্ত কাক্সিক্ষত চারা করা সম্ভব হচ্ছে।

উপরে উল্লিখিত সুবিধাসমূহের কারণেই ড. হায়দার তার উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ট্রান্সজেনিক জাতের লেবু চারা অল্প জায়গায় দ্রুত তৈরির জন্য টিস্যুকালচার প্রযুক্তি অবলম্বন করেন।

সৃজনশীল প্রশ্ন
রানা প্লাজায় দুর্ঘটনায় মৃতদেহ বিকৃত হবার কারণে আত্মীয়-স্বজনেরা তাদের আপনজনদের শনাক্তকরণে ব্যর্থ হয়। ফলে কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ পদ্ধতিতে তাদের শনাক্তকরণের ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এ পদ্ধতির সাহায্যে অপরাধী শনাক্তকরণ করা হচ্ছে।

ক. জিন কী?
খ. বিবর্তন বলতে কী বোঝায়?

গ. কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদ্ধতি কীভাবে সম্পন্ন হবে, ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উক্ত ধরনের প্রযুক্তি অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সম্পর্কিতÑ যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. জিন হলো জীবের সব দৃশ্য ও অদৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একক।
খ. পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব আছে তারা বিভিন্ন সময়ে এই ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে। যাদের কিছু সংখ্যক বিলুপ্ত হয়েছে আবার কোনো জীব ধীরে ধীরে পরিবর্তন ও অভিযোজন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। এ প্রক্রিয়াকেই বিবর্তন বলে।

গ. উদ্দীপকের রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় মৃতদেহ বিকৃত হওয়ায় আত্মীয়-স্বজনেরা তাদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করার ব্যবস্থা নিয়েছে।

ডিএনএ টেস্টের বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিকে বলা হয় ডিএনএ ফিঙ্গার প্রিন্টিং। ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন করার জন্য প্রথমে প্রয়োজন হয় জৈবিক নমুনা। জৈবিক নমুনা হতে পারে ব্যক্তির হাড়, দাঁত, চুল, রক্ত, লালা, টিস্যু ইত্যাদি। এ সকল নমুনার যেকোনো একটি নিয়ে তার ডিএনএ নকশা গবেষণাগারে তৈরি করা হবে।

এরপর দাবিকৃত আত্মীয় অথবা মাতা অথবা স্বামী অথবা পিতার দেহের কোষের ডিএনএ নকশা প্রস্তুত করতে হবে। অতঃপর দুর্ঘটনায় নিহত মৃতদেহের ডিএনএ চিত্রের সাথে দাবিকৃত ব্যক্তির ডিএনএ চিত্রের সাথে মিলিয়ে যদি ৯৯.৯% মিল পাওয়া যায় তাহলে তার দাবিকৃত মৃতদেহটি তার আত্মীয় বলে গণ্য করা হবে।

ঘ. উদ্দীপকে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে তাহলো জীবপ্রযুক্তি বা রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রযুক্তি।
রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রযুক্তির দ্বারা বাহকের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত জিন জীবের কোষের জিনের সাথে সংযোজিত করে ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ ও প্রাণী সৃষ্টি করা হয়।

ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি এনেছে। এগুলো আগাছানাশক সহনশীলতা সম্পন্ন ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ। জমিতে আগাছা দমনের জন্য আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে আগাছা মারা যায়। কিন্তু এই আগাছানাশকে ট্রান্সজেনিক ভুট্টা, তুলা, ক্যানোলা, টমেটো গাছগুলো মারা যায় না।

ট্রান্সজেনিক বিটি ভুট্টা, বিটি তুলা, বিটি ধান ক্ষতিকর পোকামাকড় প্রতিরোধী। এ শস্যগুলো নিজেদের দেহে টক্সিন তৈরি করে পতঙ্গ আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে পারে। প্রধানত ভাইরাস, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জাতীয় পরজীবীর আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়। ট্রান্সজেনিক- শস্য উদ্ভব করে বিজ্ঞানীরা এ ধরনের প্যাথোজেনকে দমনে সক্ষম হয়েছেন।

আবার ট্রান্সজেনিক গরু উদ্ভাবনের মাধ্যমে মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের মাতৃদুগ্ধের অতি প্রয়োজনীয় প্রোটিন ল্যাকটোফেরিনও পাওয়া যাচ্ছে। ট্রান্সজেনিক ভেড়া উদ্ভাবন করে মাংস বৃদ্ধি এবং শরীরের সমবৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা হয়েছে।

উদ্ভাবিত হয়েছে ট্রান্সজেনিক ছাগল। এসব ছাগলের দুধে পাওয়া যায় বিশেষ ধরনের প্রোটিন, যা জমাট রক্তকে গলিয়ে করোনারি থ্রম্বোসিস থেকে মানুষকে রক্ষা করছে। অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত।

সৃজনশীল প্রশ্ন
মি. সালাম পরীক্ষাগারে রিকম্বিনেন্ট প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আগাছাসহিষ্ণু জাতের টমেটো উৎপাদনের জন্য এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে আগাছাসহিষ্ণু জিন টমেটোতে স্থানান্তর করেন।

ক. জঘঅ এর পূর্ণরূপ কী?
খ. আবাদ মাধ্যম বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত উক্ত কাজটি মি. সালাম কীভাবে সম্পন্ন করবেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উক্ত পদ্ধতির ব্যবহারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভবÑ বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. RNA এর পূর্ণরূপ রাইবোনিউক্লিক এসিড (Ribonucleic Acid.
খ. উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি, ভিটামিন, ফাইটোহরমোন, সুক্রোজ এবং জমাট বাঁধার উপকরণ যেমন

অ্যাগার সঠিক মাত্রায় মিশিয়ে যে মাধ্যম তৈরি করা হয় তাকে আবাদ মাধ্যম বলে। টিস্যুকালচার প্রযুক্তিতে নির্বাচিত মাতৃউদ্ভিদের এক্সপ্লান্ট স্থাপনের জন্য আবাদ মাধ্যম প্রস্তুত করতে হয়।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত উক্ত কাজটি মি. সালাম রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করবেন।
এর জন্য তিনি নিম্নলিখিত ধাপগুলো অবলম্বন করবেনÑ

১) ব্যাকটেরিয়া থেকে কাক্সিক্ষত উঘঅ নির্বাচন।
২) একটি বাহক নির্বাচন যার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত উঘঅ খণ্ডটি স্থানান্তর করা সম্ভব।

৩) নির্দিষ্ট স্থানে উঘঅ অণুকে ছেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম নির্বাচন।
৪) ছেদনকৃত উঘঅ খণ্ডসমূহ সংযুক্ত করার জন্য উঘঅ লাইগেজ এনজাইম নির্বাচন।

৫) কাক্সিক্ষত উঘঅ সহ বাহক উঘঅ এর অনুলিপনের জন্য একটি পোষক নির্বাচন।
৬) কাঙ্খিত উঘঅ খণ্ড সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত রিকম্বিনেন্ট উঘঅ এর বহিঃপ্রকাশ মূল্যায়ন।
৭) এরপর কাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্য জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে টমেটো গাছে স্থানান্তরের দ্বারা আগাছা সহিষ্ণু ট্রান্সজেনিক টমেটো প্রজাতি উদ্ভাবন।

ঘ. সৃজনশীল ২(ঘ) নং প্রশ্নের উত্তর দেখ।

সৃজনশীল প্রশ্ন
দশম শ্রেণির ছাত্র হাসান নার্সারিতে গিয়ে জানতে পারে বর্তমানে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা এক বিশেষ পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় অল্প সময়ে যৌন প্রজননে অক্ষম উদ্ভিদের রোগমুক্ত অধিক সংখ্যক চারা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। যার ফলে এসব উদ্ভিদের চাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হয়েছে।

ক. GMO কী?
খ. জীবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি বর্ণনা কর।
ঘ. অর্থনৈতিক উন্নয়নে উক্ত প্রক্রিয়াটি কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে? বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীব হলো এগঙ বা Genetically Modified Organism.
খ. জীবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকে বোঝায়। কারণ,

পৃথকযোগ্য বৈশিষ্ট্যেই এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতি ভিন্ন। যেমনÑ বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা বৃদ্ধির ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নতাই প্রজাতিগত বৈচিত্র্য।

গ. উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো টিস্যুকালচার প্রযুক্তি।
টিস্যুকালচার প্রযুক্তির ধাপগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো-

মাতৃউদ্ভিদ নির্বাচন : উন্নত গুণসম্পন্ন, স্বাস্থ্যবান ও রোগমুক্ত উদ্ভিদকে এক্সপ্ল্যান্টের জন্য নির্বাচন করা হয়।
আবাদ মাধ্যম তৈরি : উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন, ফাইটোহরমোন, সুক্রোজ প্রভৃতি অ্যাগারে সঠিক মাত্রায় মিশিয়ে আবাদ মাধ্যম তৈরি করা হয়।

জীবাণুমুক্ত আবাদ প্রতিষ্ঠা : আবাদ মাধ্যমকে অটোক্লেভ যন্ত্রে রেখে জীবাণুমুক্ত করতে হয়। জীবাণুমুক্ত আবাদ মাধ্যমে এক্সপ্ল্যান্টগুলোকে স্থাপন করে নির্দিষ্ট আলো ও তাপমাত্রায় বর্ধনের জন্য রাখা হয়।

এক পর্যায়ে টিস্যু বারবার বিভাজিত হয়ে অণুচারা বা ক্যালাস-এ পরিণত হয়। ক্যালাস পরবর্তিতে একাধিক অণুচারা তৈরি করে।
মূল উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানান্তর : উৎপাদিত চারা গাছে মূল তৈরি না হলে বিটপগুলো বিচ্ছিন্ন করে তাদের পুনরায় মূল উৎপাদনকারী আবাদ মাধ্যমে স্থাপন করা হয়।

মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর : মূলযুক্ত চারা অ্যাগার মুক্ত করে মাটি ভরা ছোট পাত্রে স্থানান্তর করা হয়। চারাগুলো মাঝে মাঝে কক্ষের বাইরে রেখে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়।

পূর্ণাঙ্গ ও সকল চারাই পরিণত হলে সেগুলোকে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়। এভাবেই উদ্দীপকের টিস্যুকালচার প্রযুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ঘ. অর্থনৈতিক উন্নয়নে টিস্যুকালচার প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এই প্রক্রিয়ার কৌশলকে কাজে লাগিয়ে আজকাল উদ্ভিদ প্রজননের ক্ষেত্রে এবং উন্নতজাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশ অর্থনীতিতে অনেক এগিয়ে গেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে অনেক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে.

র. বিভিন্ন প্রকার দেশি, বিদেশি অর্কিডের চারা উৎপাদন।
রর. রোগ প্রতিরোধী ও অধিক উৎপাদনশীল কলা, বেল, কাঁঠাল ইত্যাদি চারা উৎপাদন।

ররর. চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস, লিলি কার্নেশন প্রভৃতি ফুল উৎপাদনকারী উদ্ভিদের চারা উৎপাদন।
রা. কদম, জারুল, ইপিল ইপিল, বক ফুল, সেগুন, নিম প্রভৃতি কাঠ উৎপাদনকারী উদ্ভিদের চারা উৎপাদন।
া. বিভিন্ন ডাল জাতীয় শস্য, বাদাম ও পাট এর চারা উৎপাদন।

এছাড়া টিস্যুকালচার প্রয়োগ করে আলুর রোগমুক্ত চারা এবং বীজ মাইক্রোটিউবার উৎপাদন করা হয়েছে।
উপরিউক্ত বিভিন্ন উদ্ভিদ উৎপাদনের মাধ্যমে আমাদের দেশ অর্থনীতিতে অনেক এগিয়ে গেছে। এগুলোর সঠিক প্রয়োগ করার

ফলে ভূমিতে অধিক জনসংখ্যার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান চিকিৎসাসহ মৌলিক অভাবকে পূরণ করেছে।
অতএব, অর্থনৈতিক উন্নয়নে উক্ত প্রক্রিয়া অর্থাৎ টিস্যুকালচার প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সৃজনশীল প্রশ্ন
অহনার পিতা একজন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার। একদিন অহনা তার পিতার নিকট রিকম্বিনেন্ট উঘঅ সম্পর্কে জানতে চায়। তিনি অহনাকে রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রযুক্তি এবং এর অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেন।

ক. জীব প্রযুক্তি বলতে কী বুঝ?
খ. ঈুংঊ ও ঈুংগ ভেড়ার জিনোমে স্থানান্তর করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তির মাধ্যমে কাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্য স্থানান্তর প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ বর্ণনা কর।
ঘ. কৃষি ও চিকিৎসাক্ষেত্রে উদ্দীপকের প্রযুক্তির অবদান মূল্যায়ন কর।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. কোন জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশ বিশেষ ব্যবহার করে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কোন জীব উদ্ভাবন প্রযুক্তির জীব প্রযুক্তি বলা হয়।

খ. বিভিন্ন প্রাণীর মান উন্নয়নের জন্য জিনগত রূপান্তর বা পরিবর্তন ঘটানো হয় রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রযুক্তিকে মাধ্যমে। ব্যাকটেরিয়ার ২টি জিন ঈুংঊ ও ঈংুগ। ভেড়ার জিনোমে স্থানান্তর করা হয় ভেড়ার পশমের পরিমাণ ও গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তিটি রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রযুক্তি। রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রযুক্তি নিচে বর্ণিত ৬টি ধাপে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে :

১) কাক্সিক্ষত উঘঅ (ঃধৎমবঃ উঘঅ) নির্বাচন।
২) একটি বাহক (ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিড) নির্বাচন; যার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত উঘঅ খণ্ডটি স্থানান্তর সম্ভব।

৩) নির্দিষ্ট স্থানে উঘঅ অণুকে কাটার জন্য রেস্ট্রিকশন এনজাইম নির্বাচন।
৪) ছেদনকৃত উঘঅ খণ্ডসমূহ সংযুক্ত করার জন্য উঘঅ লাইগেজ এনজাইম নির্বাচন।

৫) কাক্সিক্ষত উঘঅ সহ বাহক রিকম্বিনেন্ট প্রাজমিড এর অনুলিপনের জন্য শোষক নির্বাচন এবং ট্রান্সফরমেশন পদ্ধতিতে বাহক দেহে প্রবেশ করান।
৬) কাক্সিক্ষত উঘঅ যন্ত্র সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত রিকম্বিনেন্ট DNA এর মূল্যায়নের জন্য ক্লোনিং এর দ্বারা বাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি।

ঘ. উদ্দীপকের প্রযুক্তি হলো রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রযুক্তি।
কৃষিক্ষেত্রে রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রযুক্তির সাহায্যে অনেক নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ফসল উদ্ভাবন করা হয়েছে যা কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে।

এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় প্রতিরোধী জাতের বিটি ধান, ভূটা, তুলা ইত্যাদি উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে। এছাড়া এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিরোধী ফসলের জাত, আগাছানাশক রাসায়নিক পদার্থের বিরুদ্ধে সহনশীলতা সম্পন্ন ফসলের জাত

উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে জিনগত রূপান্তরের মাধ্যমে ফসলের পুষ্টিমানও উন্নয়ন করা হয়েছে। শুধু ফসল নয়, বিভিন্ন গবাদিপশু যেমন গরুর দুধে আমিষের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য ভেড়ার আকার, মাংসের পরিমাণ, পশমের গুণগতমান বৃদ্ধি ইত্যাদি উন্নয়নেও রিকম্বিনেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ইস্ট হতে হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসের টিকা (ইন্টারফেরন) তৈরি করা হচ্ছে। মানবদেহের ইনসুলিন তৈরির জিন ব্যবহার করে কৌলিগতভাবে পরিবর্তিত ঊ.পড়ষর ব্যাকটেরিয়া এবং ইস্ট হতে বাণিজ্যিক

ইনসুলিন তৈরি হচ্ছে যা মানুষের বহুমূত্র রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
অতএব, দেখা যাচ্ছে যে কৃষি ও চিকিৎসাক্ষেত্রে উদ্দীপকের প্রযুক্তি রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রযুক্তির অবদান অনস্বীকার্য।

ANSWER SHEET

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

এগুলো দেখুন

SSC আত্মকর্মসংস্থানের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর (ফ্রি পিডিএফ)

SSC আত্মকর্মসংস্থানের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর (ফ্রি পিডিএফ)

SSC আত্মকর্মসংস্থানের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর (ফ্রি পিডিএফ) ঐশী, সাদী ও সামী তিন বন্ধু সম্প্রতি বি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.