সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করবেন কেন?

জেনে নিন সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করবেন কেন? আসুন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমের অনেক আয়াতে তাকে স্মরণ করার কথা বলেছেন। কিন্তু কেন তাকে স্মরণ করতে হবে? এ সম্পর্কে কোরআনুল কারিমের দিকনির্দেশনাই বা কী?



হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা মানুষকে সঠিক পথের ওপর চলতেই তাকে স্মরণ করার কথা বলেছেন। জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্যই তাকে স্মরণ করতে বলেছেন। পরকালের মুক্তির জন্য তাকে স্মরণ করতে বলেছেন। আল্লাহ তাআলা নিজেই কোরআনুল কারিমে বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেছেন-

رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبۡحٰنَکَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

‘হে আমাদের প্রভু! আপনি (সৃষ্টি জগতের) এসব নিরর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র। আপনি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’

সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করবেন কেন?

১. وَ لَذِکۡرُ اللّٰهِ اَکۡبَرُ

‘আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (সুরা আনকাবুত : আয়াত ৪৫)

এ আয়াতেরর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক. আল্লাহকে স্মরণ করা সবচেয়ে বড় ইবাদত। আর নামাজ বড় ইবাদত হওয়ার কারণও আল্লাহর জিকির। সুতরাং যে নামাজে বেশিবেশি জিকির হয় সে নামাজ সবচেয়ে উত্তম। (ইবনে কাসির)

দুই. আল্লাহকে স্মরণ করা সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ। মানুষের জন্য আল্লাহকে স্মরণ করার চেয়ে বড় কোনোকাজ আর নেই। (তাবারি)

তিন. দুনিয়ায় অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখতে ‘আল্লাহর স্মরণ’ অনেক কার্যকরী। যা নামাজ থেকে বেশি প্রভাব রাখে। কারণ, মানুষ যতক্ষণ নামাজে থাকে, ততক্ষণ মন্দ কর্ম থেকে বিরত থাকে। কিন্তু নামাজের পর এ প্রভাব কমে যায়। পক্ষান্তরে সব সময় আল্লাহর জিকির মানুষকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। (আহসানুল বয়ান)

এ কারণেই আয়াতে আল্লাহর স্মরণকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের লক্ষ্য করে বলেছেন-

یٰۤاَیُّهَاالَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اذۡکُرُوا اللّٰهَ ذِکۡرًا کَثِیۡرًا

‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৪১)

২. আল্লাহর স্মরণকারী নারী-পুরুষের জন্য ক্ষমা ও প্রতিদান

وَ الذّٰکِرِیۡنَ اللّٰهَ کَثِیۡرًا وَّ الذّٰکِرٰتِ ۙ اَعَدَّ اللّٰهُ لَهُمۡ مَّغۡفِرَۃً وَّ اَجۡرًا عَظِیۡمًا

‘আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী; এদের জন্য রয়েছে আল্লাহ ক্ষমা এবং তিনি মহাপ্রতিদানও রেখেছেন।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৩৫)

প্রথমত : আল্লাহকে স্মরণ বা তার জিকির করা সব ইবাদতের প্রকৃত রূহ। হজরত মুয়াব ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলো যে, মুজাহিদগণের মধ্যে সর্বাধিক প্রতিদান ও সাওয়াবের অধিকারী কোন ব্যক্তি?

তিনি বললেন, ‘যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে স্মরণ করবে।

এরপর জিজ্ঞাসা করলো যে. রোজাদারদের মধ্যে সর্বোচ্চ সাওয়াবের অধিকারী কে হবে?

তিনি বললেন, ‘যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করবে।

এভাবে নামাজ, জাকাত, হজ ও সাদকা প্রভৃতি সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করলো। প্রতিবারই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই উত্তর দিলেন- যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি আল্লাহর জিকির করবে; সে-ই সর্বোচ্চ প্রতিদান পাবে।’ (ইবনে কাসির, মারেফুল কোরআন)

দ্বিতীয়ত : যাবতীয় ইবাদতের মধ্যে এটাই (আল্লাহর স্মরণ বা জিকির) সবচেয়ে সহজ। আল্লাহকে স্মরণ (জিকির) করতে ইসলামি শরিয়ত কোনো শর্তারোপ করেনি। অজুসহ কিংবা বিনা অজুতে ওঠা-বসা চলাফেরায় সব সময় আল্লাহর জিকির বা স্মরণে কোনো বাধা নেই। আর আল্লাহর স্মরণ বা জিকিরের জন্য অতিরিক্ত কোনো পরিশ্রম বা কোনো অবসর সময়েরও প্রয়োজন নেই।

অথচ এই জিকির বা আল্লাহর স্মরণের লাভ বা ফলশ্রুতি এত বেশি যে, এর মাধ্যমে দুনিয়ার স্বাভাবিক কাজগুলো ইবাদতে পরিণত হয়। আল্লাহর স্মরণ বা জিকিরে খাবার খাওয়া, বাড়ি থেকে বের হওয়া, সফরে যাওয়া, বাড়িতে ফিরে আসা, ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করা, চাকরিতে যাওয়াসহ সবকিছুতে আল্লাহর স্মরণে রয়েছে মানুষের জন্য ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান। এ জন্যই মহান আল্লাহকে স্মরণ করা জরুরি। আর আল্লাহ তাআলা তাকে স্মরণ করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। (মারেফুল কোরআন)



৩. আল্লাহর স্মরণেই জাহান্নাম থেকে মুক্তি

اِنَّ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ اخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَ النَّهَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الۡاَلۡبَابِ – الَّذِیۡنَ یَذۡکُرُوۡنَ اللّٰهَ قِیٰمًا وَّ قُعُوۡدًا وَّ عَلٰی جُنُوۡبِهِمۡ وَ یَتَفَکَّرُوۡنَ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ

‘নিশ্চয়ই আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানী লোকেদের জন্য রয়েছে নিদর্শন। যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে এবং (বলে)-

رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبۡحٰنَکَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা মা খালক্বতা হাজা বাত্বিলাং সুবহানাকা ফাক্বিনা আজাবান্নার।’

অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এসব নিরর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র। তুমি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯০-১৯১)

এ আয়াতে আল্লাহর স্মরণ বা জিকিরকারীদের অবস্থা ও মর্যাদার বিষয়টি হাদিসের বর্ণনায় এভাবে ওঠে এসেছে-

হজরত উবাইদ ইবনে উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললাম, রাসুলের সবচেয়ে আশ্চর্য কি কাজ আপনি দেখেছেন; তা আমাদেরকে জানান। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন-

‘এক রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, হে আয়েশা! আমাকে আমার রবের ইবাদাত করতে দাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার পাশে থাকতে ভালবাসি এবং যা আপনাকে খুশি করে তা করতে ভালবাসি। তারপর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজু করলেন এবং নামাজ আদায়ে (আল্লাহর স্মরণে) নিবিষ্ট হলেন আর কাঁদতে থাকলেন।

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কাঁদছেন! অথচ আল্লাহ আপনার আগের-পরের সব গোনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন?

উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হব না? এ রাতে আমার উপর একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যে ব্যক্তি তা তেলাওয়াত করলো কিন্তু (আল্লাহর স্মরণে তাঁর সৃষ্টি নিয়ে) চিন্তা-গবেষণা করলো না, তার ধ্বংস অনিবার্য। তারপর তিনি এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন।’ (ইবনে হিব্বান)

আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ রাখার নির্দেশ

এভাবে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে স্মরণ করার বা তাঁর জিকির করার গুরুত্ব একাধিক আয়াতে তুলে ধরেছেন। যাতে কেউ দুনিয়ার কোনো স্বার্থে বা বেখেয়ালে তার জিকির বা স্মরণ থেকে বিরত না থাকে। সে বিষয়ে সতর্ক করে তাঁর জিকির করার নির্দেশগুলো একাধিক আয়াতে এভাবে তুলে ধরেছেন-

৪. یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُلۡهِکُمۡ اَمۡوَالُکُمۡ وَ لَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰهِ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ هُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ

‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের ধন-সম্পত্তি ও সন্তান- সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ হতে উদাসিন না করে, যারা উদাসীন হবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা মুনাফিকুন : আয়াত ৯)

৫. رِجَالٌ ۙ لَّا تُلۡهِیۡهِمۡ تِجَارَۃٌ وَّ لَا بَیۡعٌ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰهِ وَ اِقَامِ الصَّلٰوۃِ وَ اِیۡتَآءِ الزَّکٰوۃِ ۪ۙ یَخَافُوۡنَ یَوۡمًا تَتَقَلَّبُ فِیۡهِ الۡقُلُوۡبُ وَ الۡاَبۡصَارُ

‘এমন সব (পুরুষ) লোকও রয়েছে যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং নামাজ প্রতিষ্ঠায় ও জাকাত দেওয়া থেকে বিরত রাখে না; তারা ভয় করে সেদিনকে, যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি ভীতি-বিহব্বল হয়ে পড়বে।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩৭)

৬. وَ اذۡکُرۡ رَّبَّکَ فِیۡ نَفۡسِکَ تَضَرُّعًا وَّ خِیۡفَۃً وَّ دُوۡنَ الۡجَهۡرِ مِنَ الۡقَوۡلِ بِالۡغُدُوِّ وَ الۡاٰصَالِ وَ لَا تَکُنۡ مِّنَ الۡغٰفِلِیۡنَ

‘আর তুমি নিজ মনে আপন রবকে স্মরণ কর সকাল-সন্ধ্যায় অনুনয়-বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চ স্বরে। আর তুমি উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৫)

৭. یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا لَقِیۡتُمۡ فِئَۃً فَاثۡبُتُوۡا وَ اذۡکُرُوا اللّٰهَ کَثِیۡرًا لَّعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ

‘হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা যখন কোনো দলের সম্মুখীন হবে, তখন অবিচল থাক এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ৪৫)

৮. فَاِذَا قَضَیۡتُمۡ مَّنَاسِکَکُمۡ فَاذۡکُرُوا اللّٰهَ کَذِکۡرِکُمۡ اٰبَآءَکُمۡ اَوۡ اَشَدَّ ذِکۡرًا ؕ فَمِنَ النَّاسِ مَنۡ یَّقُوۡلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنۡیَا وَ مَا لَهٗ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنۡ خَلَاقٍ

‘এর যখন তোমরা (হজের) যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে নেবে, তখন (মিনায়) আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণ করবে, যেমন (জাহেলী যুগে) তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষগণকে স্মরণ করতে, অথবা তার চেয়েও বেশি গভীরভাবে। এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে পৃথিবীতে (সাওয়াব) দান কর।’ বস্তুতঃ তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২০০)

৯. فَاِذَا قُضِیَتِ الصَّلٰوۃُ فَانۡتَشِرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَ ابۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِ اللّٰهِ وَ اذۡکُرُوا اللّٰهَ کَثِیۡرًا لَّعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ

‘এরপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অনুসন্ধান কর ও আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ১০)

১০. فَلَوۡ لَاۤ اَنَّهٗ کَانَ مِنَ الۡمُسَبِّحِیۡنَ – لَلَبِثَ فِیۡ بَطۡنِهٖۤ اِلٰی یَوۡمِ یُبۡعَثُوۡنَ

সে যদি আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা (জিকির/স্মরণ) না করতো; তাহলে সে (হজরত ইউনুছ আলাইহিস সালাম) পুনরুত্থান দিবস (কেয়ামত) পর্যন্ত মাছের পেটে থেকে যেত।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১৪৩-১৪৪)

১১. اِنَّ لَکَ فِی النَّهَارِ سَبۡحًا طَوِیۡلًا – وَ اذۡکُرِ اسۡمَ رَبِّکَ وَ تَبَتَّلۡ اِلَیۡهِ تَبۡتِیۡلًا

‘দিবাভাগে তোমার জন্য রয়েছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর এবং একনিষ্ঠভাবে তাতে (আল্লাহর স্মরণ/জিকিরে) মগ্ন হও।’ (সুরা মযযাম্মিল : আয়াত ৭-৮)

৯. وَ اذۡکُرِ اسۡمَ رَبِّکَ بُکۡرَۃً وَّ اَصِیۡلًا – وَ مِنَ الَّیۡلِ فَاسۡجُدۡ لَهٗ وَ سَبِّحۡهُ لَیۡلًا طَوِیۡلًا

‘আর তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর সকাল ও সন্ধ্যায়। এবং রাতের কিছু সময় তাঁকে সিজদাহ (নামাজ আদায়) কর এবং রাতের দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা (জিকির) ঘোষণা কর।’ (সুরা দাহর : আয়াত ২৫-২৬)



মনে রাখতে হবে

মহান আল্লাহ মানুষকে দুনিয়া ও পরকালের কল্যানে তাকে বেশি বেশি স্মরণ করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন; তা হোক জিকির, কোরআন তেলাওয়াত, হজ, রোজা, জাকাত কিংবা অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে। চাই তা হোক দিনে কিংবা রাতে।

১২. শুধু তা-ই নয়

জিকির থেকে বিরত না থাকতেও কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন এভাবে-

اَفَمَنۡ شَرَحَ اللّٰهُ صَدۡرَهٗ لِلۡاِسۡلَامِ فَهُوَ عَلٰی نُوۡرٍ مِّنۡ رَّبِّهٖ ؕ فَوَیۡلٌ لِّلۡقٰسِیَۃِ قُلُوۡبُهُمۡ مِّنۡ ذِکۡرِ اللّٰهِ ؕ اُولٰٓئِکَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ

‘আল্লাহ ইসলামের জন্য যার বুক উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, ফলে সে তার প্রভু থেকে (আগত) আলোর মধ্যে আছে। সে কি তার সমান- যে এরূপ নয়? সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য, যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণে কঠিন, ওরাই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।’ (সুরা যুমার : আয়াত ২২)

তাই কোনও মুমিন মুসলমানের অন্তরে এ প্রশ্ন আসার সুযোগ নেই যে, কেন আল্লাহর জিকির করবো? জিকিরে ফায়েদা বা উপকারিতাই বা কী?

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মহান আল্লাহর জিকিরে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। কোরআনের নির্দেশনা মোতাবেক নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, দান-সাদকাসহ সব ধরনের ইবাদতের মাধ্যমে তাকে বেশি বেশি স্মরণ করা। দুনিয়ার সব পাপ থেকে ক্ষমা পেয়ে বিশেষ প্রতিদান পাওয়ার মাধ্যমে পরকালে জাহান্নামের কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার প্রতিটি কাজে সর্ববস্থায় আল্লাহর জিকির করার তাওফিক দান করুন। কোরআনের দিকনির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

এগুলো দেখুন

সালাতুত তাসবিহ পড়ার নিয়ম

ফজরের জামাত চলা অবস্থায় সুন্নত পড়া যাবে?

জেনে নিন ফজরের জামাত চলা অবস্থায় সুন্নত পড়া যাবে? আসুন এ বিষয়ে কোরআনে কি বলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *