SSC:দেনাপাওনা গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ফ্রি PDF)

SSC:দেনাপাওনা গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ফ্রি PDF)

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১. বরপক্ষ মোটা অঙ্কের পণ ও বহুল দানসামগ্রী চাইলেও রামসুন্দর মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি হলেন কেন?
উত্তর : ভালো পাত্র হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মোটা অঙ্কের পণ ও বহুল দানসামগ্রীর বিনিময়েই মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি হলেন রামসুন্দর।

রামসুন্দর তাঁর আদরের মেয়ের বিয়ের জন্য অনেক খোঁজাখুঁজির পর মস্ত এক রায়বাহাদুরের একমাত্র ছেলেকে পাত্র হিসেবে নির্বাচন করেন। পাত্রপক্ষ দশ হাজার টাকা পণ ও বহুল দানসামগ্রী দাবি করে। কিন্তু রামসুন্দর কিছুতেই এমন পাত্র হাতছাড়া হতে দিতে রাজি নন। তাই নিজের সামর্থ্যরে কথা না ভেবেই বিয়েতে মত দিয়ে বসেন।

২. বিবাহসভায় একটা তুমুল গোলযোগ বেধে গেল কেন?
উত্তর : পণের টাকা বাকি পড়ায় বিবাহসভায় একটা তুমুল গোলযোগ বেধে গেল।
ক্ষ দশ হাজার টাকা পণ ও বহুল দানসামগ্রীর বিনিময়ে রামসুন্দর তাঁর মেয়ের বিয়ে স্থির করেছিলেন। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও তিনি পণের অধিকাংশ টাকাই জোগাড় করতে ব্যর্থ হন।

বিয়ের দিন অতিরিক্ত সুদে একজন বাকি টাকা ধার দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু সে তার কথা রাখল না। পণের সম্পূর্ণ টাকা হাতে না পেলে বরপক্ষ দিয়ে ভেঙে দেবে। এ নিয়েই বিবাহসভায় গোলযোগ বেধে গেল।

৩. ভাবী শ্বশুরকুলের প্রতি যে তাহার খুব একটা ভক্তি কিংবা অনুরাগ জন্মিতেছে তাহা বলা যায় নাÑ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : শ্বশুরবাড়ির মানুষের ঘৃণ্য যৌতুকলিপ্সা যে নিরুপমার মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছিল সে কথাটিই উক্তিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।

বিয়ের দিন উপস্থিত হলেও নিরুপমার বাবা পণের সম্পূর্ণ অর্থ জোগাড় করতে ব্যর্থ হলেন। এদিকে বরপক্ষও সব টাকা বুঝে না পেলে বিয়ে সম্পন্ন করতে রাজি নয়। এ নিয়ে বিয়ের সভায় গোলযোগ বেধে গেল। শ্বশুরবাড়ির লোকদের কছে যে নিরুপমার চেয়ে অর্থই বড় এটি স্পষ্ট। শ্বশুরকুলের প্রতি তাই নিরুপমার বিরাগ জন্মানোই স্বাভাবিক।

৪. ‘ইতিমধ্যে একটা সুবিধা হইল’ কেন?
উত্তর : পণের টাকা না পেলেও বর বিয়ে না করে বাড়ি ফিরতে চায় না, এ বিষয়টিকেই সুবিধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পণের টাকার সম্পূর্ণটা নগদ হাতে না পেলে রায়বাহাদুরবাবু ছেলের বিয়ে দেবেন না। তাই বিবাহসভায় গোলযোগ এবং অন্তঃপুরে কান্নার রোল পড়ে গেল। হঠাৎ বর তার পিতার অবাধ্য হয়ে উঠল। তার সাফ কথা ‘বিবাহ করিতে আসিয়াছি, বিবাহ করিয়া যাইব।’ বিয়েতে বরের সম্মতির বিষয়টিই ফুটে উঠেছে আলোচ্য উক্তির মাধ্যমে।

৫. “বিবাহ একপ্রকার বিষণœ নিরানন্দভাবে সম্পন্ন হইয়া গেল” কেন?
উত্তর : বরপক্ষের লোকদের অমত সত্ত্বেও বরের ইচ্ছায় বিয়ে হওয়ায় অনুষ্ঠানে কোনো আনন্দ ছিল না।

বিয়ের দিন উপস্থিত হলেও নিরুপমার পিতা বরপক্ষের দাবিকৃত পণের সব টাকার বন্দোবস্ত করতে পারেন নি। ফলে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু বর টাকা-পয়সার হিসাব বুঝতে চায় না। সে বিয়ে করতে এসেছে বিয়ে করেই যাবে বলে ঘোষণা দেয়। বরের পিতা ও আত্মীয়স্বজন নিতান্ত অনিচ্ছায় বিয়েতে সম্মতি দেয়। ফলে বিয়ের অনুষ্ঠানে স্বাভাবিক যে উচ্ছ্বাস থাকা উচিত, তা চোখে পড়ে না।

৬. বেহাই বাড়িতে রামসুন্দরের কোনো প্রতিপত্তি ছিল না কেন?
উত্তর : পণ হিসেবে প্রতিশ্রুত টাকা পুরোপুরি পরিশোধ করতে না পারায় বেহাইবাড়িতে রামসুন্দরের কোনো প্রতিপত্তি ছিল না।

কন্যার বিয়ের সময় বরপক্ষ রামসুন্দরের কাছে নগদ দশ হাজার টাকা পণ দাবি করে। কিন্তু সময়মতো রামসুন্দর সম্পূর্ণ টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হন। বর পিতার মতকে উপেক্ষা করে বিয়ে করে।

কিন্তু নিরুপমার শ্বশুরবাড়িতে রামসুন্দরকে পদে পদে অপদস্থ হতে হয়। বেহাইবাড়ির কেউই এমনকি চাকর-বাকরদের কাছেও তাঁর কোনো সম্মান ছিল না। এর একমাত্র কারণ বেহাইবাড়ির মানুষদের যৌতুকলিপ্সা মেটাতে না পারা।

৭. রামসুন্দরের বসতবাড়ি বিক্রি স্থগিত হলো কেন?
উত্তর : ছেলেদের প্রবল বাধার মুখে রামসুন্দরের বাড়ি বিক্রয় স্থগিত হলো।
ক্ষ রামসুন্দর তার কন্যার বিয়েতে প্রতিশ্রুত পণের টাকার সম্পূর্ণটা দিতে পারেননি।

সেই টাকা জোগাড় করতে নিরুপায় হয়ে তিনি বসতবাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তার ছেলেরা এতে প্রচণ্ড আপত্তি তোলে। বড় তিনটি ছেলে বিবাহিত এবং তাদের কারও সন্তানও আছে। শেষ সম্বল এই বাড়িটি বিক্রি করার পক্ষে তাই তারা কিছুতেই মত দিতে পারেনি। এ কারণে রামসুন্দর বাড়ি বিক্রি স্থগিত করতে বাধ্য হন।

৮. “থাক, বেহাই, ওতে আমার কাজ নেই।”Ñ রায়বাহাদুর কথাটি কেন বললেন?
উত্তর : রামসুন্দর পণের বাকি টাকার ভগ্নাংশ দেওয়ার চেষ্টা করলে রায়বাহাদুরবাবু তাঁকে অবজ্ঞা করে কথাটি বলেন।
ক্ষ মোটা অঙ্কের পণের বিনিময়ে রামসুন্দর নিরুপমার বিয়ে দিয়েছিলেন রায়বাহাদুরবাবুর একমাত্র ছেলের সাথে।

কিন্তু বিয়ে হলেও বাকি রয়ে যায় পণের অধিকাংশ টাকাই। এ কারণে রামসুন্দর ও তাঁর কন্যার ওপর বেহাইবাড়ির লোকদের মানসিক নির্যাতন নেমে আসে। কন্যার সুখের জন্য রামসুন্দর পণের বাকি টাকাগুলো জোগাড়ের প্রাণান্ত চেষ্টা করেন।

শেষমেশ মাত্র তিন হাজার টাকার বন্দোবস্ত করতে সমর্থ হন। সেই টাকাটিই বেহাইয়ের হাতে তুলে দিতে গেলে তিনি তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। টাকা ফিরিয়ে দিয়ে রামসুন্দরকে অপমান করেন।

৯. নিরুপমা বাবার ওপর অভিমান করল কেন?
উত্তর : বারবার খবর পাঠানোর পরও বাবা দেখা করতে না আসায় নিরুপমা বাবার ওপর অভিমান করল।

নিরুপমার বিয়ের পণের সম্পূর্ণ টাকা জোগাড় করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেন তার বাবা রামসুন্দর। কিন্তু হতদরিদ্র পিতার পক্ষে সেটি প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। এদিকে বেহাইবাড়িতে তাঁর ও তাঁর কন্যার ওপর চলছে অসহ্য মানসিক নির্যাতন।

রামসুন্দর তাই প্রতিজ্ঞা করেন যত দিন সম্পূর্ণ টাকা জোগাড় করতে না পারবেন তত দিন আর বেহাইবাড়িতে যাবেন না। নিরুপমা লোকের পর লোক পাঠালেও বাবার দেখা পায় না। এ কারণেই নিরুপমা বাবার ওপর অভিমান করল।

১০. “তোদের জন্য কি আমি নরকগামী হব?”Ñ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : কন্যার বিয়েতে প্রতিশ্রুত পণের টাকা পরিশোধ না করতে পারলে বিরাট পাপ হবে এ ভাবটিই প্রকাশিত হয়েছে আলোচ্য চরণে।

নিরুপমার শ্বশুরবাড়িতে কোনোরূপ মর্যাদা নেই নিরুপমা ও তার পিতার। পণের টাকার জন্য পদে পদে তাদের অপদস্থ হতে হয়। মেয়ের এমন অপমান পিতা হয়ে সহ্য করতে পারেন না রামসুন্দর। তাছাড়া পণের টাকা দেবেন বলে তিনিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ছেলেদের না জানিয়েই তাই বাড়ি বিক্রি করে পণের টাকা জোগাড় করে মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতে আসেন তিনি। কিন্তু বেহাইবাড়িতে এসে উপস্থিত হয় তাঁর বড় ছেলে।

বাবা যে বাড়ি বিক্রি করে সবাইকে পথে বসিয়েছে সে সত্য গোপন নেই তার কাছে। ছেলে গোপন কথাটি জেনে ফেলেছে দেখে রামসুন্দরের আক্রোশের সীমা থাকে না। ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি উক্তিটি করেন।

১১. ‘আমি কি কেবল একটা টাকার থলি!” উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর : উক্তিটির মাধ্যমে নিরুপমার আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নিরুপমার বাবা পণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে পারেননি বলে শ্বশুরবাড়িতে নিরুপমার কোনো দাম নেই। তার ও তার বাবার ওপর চলে নানা রকমের মানসিক নির্যাতন। মেয়ের অপমান সইতে না পেরে বাবা বসতবাড়ি বিক্রি করে টাকা জোগাড় করেন।

কিন্তু নিরুপমা এ ব্যাপারে প্রবল আপত্তি তোলে। নিরুপমা কোনো পণ্য নয় যে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হবে। শ্বশুরবাড়ির অর্থলিপ্সু লোকদের চোখে নিরুপমার মানুষ হিসেবে কোনো মূল্য নেই। বাবা টাকা দিলে নিরুপমাকেই তাতে অপমান করা হবে। তাই বাবাকে সে টাকা ফিরিয়ে নিতে বলে।

ANSWER SHEET

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

এগুলো দেখুন

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ: MCQ উত্তরসহ

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ: MCQ উত্তরসহ

SSC ফ্রি PDF ব্যবসায় উদ্যোগ: MCQ উত্তরসহ বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর ১. রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *